কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগের কারণ সবিস্তারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন ইমরান। ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে ইমরানের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনের ঘটনাটিকে এই ভাবেই ব্যাখ্যা করল ইসলামাবাদ। পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির বক্তব্য, কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে ট্রাম্পের ‘আস্থা অর্জন’ করতে সক্ষম হয়েছে ইসলামাবাদ। এখানেই শেষ নয়, এই ঘটনাকে কূটনৈতিক জয়ও বলছেন তাঁরা।

জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জে দরবার করেছিল পাকিস্তান। নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের জন্য আবেদন জানায় চিনও। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই শুক্রবার ভারতীয় সময় সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বসে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের দফতরে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, শুক্রবারের বৈঠকের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কাশ্মীর নিয়ে কথা হয় পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হোগান গিদলে একটি বিবৃতিতে পরিষ্কার জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইমরানকে বলেছেন, উত্তেজনা প্রশমনে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। কথাবার্তা ছাড়া কাশ্মীর জট খোলা সম্ভব নয়। আমেরিকা-পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি নিয়েও কথা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে রাশিয়ার প্রতিনিধি দিমিত্রি পোলানস্কিও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে একই কথা বলেছিলেন গত দিন আলোচনা শুরুর আগে। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় থাকুক, স্থিতাবস্থা ফিরে আসুক দ্রুত।

 


আরও পড়ুন: ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে পাকিস্তানি বিক্ষোভ
আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান ট্রাম্প! জল্পনা​

 


তবে ট্রাম্প-ইমরান আলাপকে অন্য ভাবে প্রচারের হাতিয়ার করছে পাকিস্তান। রেডিও পাকিস্তানের একটি সম্প্রচারে কুরেশির দাবি, সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে আলোচনা হয়েছে ইমরান-ট্রাম্পের। শুধু কাশ্মীর নয়, ইমরান-ট্রাম্প কথাবার্তায় উঠে এসেছে আফগানিস্তান প্রসঙ্গও। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইমরান নাকি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তালিবান সন্ত্রাসে জেরবার আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগ নিতে চায় তাঁর সরকার। অতীতেও সদর্থক পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা, ভবিষ্যতেও কিছু গঠনমূলক পরিকল্পনা রয়েছে।

ভারত অবশ্য আগেই বলেছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ না করলে কোনও  আলোচনা সম্ভব নয়।  শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরুদ্দিন একটি প্রেস বিবৃতিতেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নিজেদের অবস্থান। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানকে জেহাদের নামে ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানো বন্ধ করতে হবে, তার পরে আসবে কথাবার্তার প্রশ্ন।