নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে এতদিন বিরোধীরা যে অভিযোগ করতো, এ বার তা শোনা গেল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের মুখে। নাগপুরে এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি তাঁর অভিযোগ, দেশে বেকারত্ব এবং মূল্যবৃদ্ধি বাড়ছে। তার ফল সকলকেই ভুগতে হবে। অনেকেই মনে করেছেন, সঙ্ঘ প্রধানের ওই মন্তব্য অস্বস্তিতে ফেলবে নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে।

দেশে কর্মসংস্থানের হার তলানিতে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে প্রতিদিনই। কমছে টাকার দামও। সব মিলিয়ে দেশের হাল মোটেই ভাল নয় বলে অভিযোগ বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক ভাগবত যা বলেছেন তা পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তোলার শামিল। তিনি বলেন, ‘‘দেশের নীতি সকলের উপরেই প্রভাব ফেলছে। আমি-আপনি এই নীতি প্রণয়ন করি না। কিন্তু এর কুপ্রভাব আমাদের উপর পড়ছে। মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। তা আমার-আপনার জন্য হচ্ছে না, কিন্তু ফল ভুগতে হচ্ছে সকলকে। আমার আপনার কারণে বেকারত্ব বাড়ছে না। কিন্তু আমরা সকলেই এর শিকার।’’

বিরোধীরা বলছে, ভাগবতের মন্তব্যে মোদীর উন্নয়নের ফানুস চুপসে গিয়েছে। বহু চর্চিত ‘অচ্ছে দিন’ যে আসেনি, তা আরও একবার প্রমাণ হল ভাগবতের মন্তব্যে।

আরও পড়ুন: ব্রিগেডে তেইশ কণ্ঠের এক সুরে এখনও অস্বস্তিতে মোদী!

দিল্লিতে ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে কম বড়াই করেননি প্রধানমন্ত্রী। সার্জিকাল স্ট্রাইক নিয়েও অনেক ঢাকঢোল পিটিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও এনডিএ সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করেছেন সঙ্ঘ প্রধান। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্তে এত জওয়ান নিহত হচ্ছেন কেন! তাঁর মতে, দেশের স্বাধীনতার জন্য আগে জীবন উৎসর্গ করতেন দেশবাসী। স্বাধীন ভারতে যুদ্ধের সময় সীমান্তে জওয়ানেরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। এ বিষয়ে মোদীর সরকারকে কার্যত কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, ‘‘এখন যুদ্ধের পরিস্থিতি নেই, তা সত্ত্বেও জওয়ানেরা শহিদ হচ্ছেন। যদি যুদ্ধের পরিস্থিতি না থাকে তা হলে সীমান্তে জওয়ানদের মারা যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তাঁরা প্রাণ হারাচ্ছেন।  ... কারণ, আমরা ঠিক মতো আমাদের দায়িত্ব পালন করছি না।’’

আরও পড়ুন: বোতলের আঘাত! গেরোয় কংগ্রেস