সাক্ষাত্ ভগবানের অবতার মন্দিরে এসেছে। তাই তাকে মন্দির থেকে বের করা যাবে না। গুজরাতের মহিসাগর জেলার এক গ্রামের ‘খোদিয়ার মাতা’র মন্দিরে কুমির উদ্ধার করতে গিয়ে এমনই কথা শুনতে হল বনকর্মীদের।

পটেল সম্প্রদায়ের পারিবারিক দেবী ‘খোদিয়ার মাতা’। তাঁর বাহন কুমির। রবিবার মহিসাগর জেলার পাল্লা গ্রামে একটি কুমির খোদিয়ার মাতার মন্দিরে ঢুকে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়ে আগুনের মতো। খোদিয়ার মাতার ভক্তরা এসে দলে দলে জড়ো হন। কুমিরটিকে ভয় পাওয়ার বদলে, পটেলরা তার পুজো শুরু করেন। খবর যায় জেলা বন দফতরে কাছেও। সঙ্গে সঙ্গে কুমিরটিকে উদ্ধার করার জন্য দল পাঠানো হয়।

পটেলদের দাবি, খোদিয়ার মাতা প্রায়ই কুমিরে পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ান, এমনটাই রয়েছে ধর্মীয় সাহিত্যে। সেই খোদিয়ার মাতার বাহন নিজেই মন্দিরে এসেছেন। এটা খুবই শুভ। কিন্তু উদ্ধারকারী দল বুঝতে পারছিল, যদি কুমিরটিকে এভাবে মন্দিরে ছেড়ে রাখা হয় বিপদ হতে পারে। তাই তারা মানুষের বিশ্বাসে আঘাত না করে অপেক্ষা করছিলেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে। অবশেষে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ৬ ফুটের কুমিরটিকে উদ্ধার করে একটি জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : মন্দিরে হাতির নীচে আটকে গেলেন মহিলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিয়ো

আরও পড়ুন : কুৎসিততম, তাই বড় অঙ্কের পুরস্কার, ভাবা যায়!

গুজরাতে এই এলাকার জলাশয় বা মহিসাগর নদীতে প্রায়ই দেখা মেলে কুমিরের। খাবারে খোঁজে ৪-৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে চলে আসে কুমিরগুলি। উদ্ধার হওয়া কুমিরটির বয়স বছর চারেক হবে বলে জানিয়েছেন জেলা বন দফতরের এক আধিকারিক। তিনি আরও জানিয়েছেন এই সব লোকালয় থেকে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৩৫টি কুমির উদ্ধার হয়।