খাবার পৌঁছে দেওয়ার পথে খেয়ে নেওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল। এ বার অনলাইন শপিং সংস্থার ডেলিভারি বয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠল, যা শিউরে ওঠার মতো। নয়ডার বছর তেতাল্লিশের এক ক্রেতার অভিযোগ, সম্মোহিত (হিপনোটাইজ) করে তাঁর শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেছে ওই ডেলিভারি বয়। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ভূপেন্দ্র পাল (আবাসনের এন্ট্রি রেজিস্টারে এই নামই লিখেছেন ওই ডেলিভারি বয়) নামে ওই ডেলিভারি বয়ের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে ওই অনলাইন শপিং কর্তৃপক্ষও।

ঘটনা সোমবারের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা একটি অনলাইন শপিং সাইট থেকে পাঁচটি টিফিন বক্স জাতীয় জিনিস কেনেন। কিন্তু বাড়িতে ডেলিভারি হওয়ার পর কোনও কারণে সেটি ফেরত দেওয়ার কথা জানান। সেই বক্সগুলি পিক-আপ করতেই সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মহিলার নয়ডার আবাসনে আসেন ভূপেন্দ্র পাল। একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী ওই মহিলা সেই সময় ঘরে একাই ছিলেন। কিন্তু ভূপেন্দ্র বলেন, তাঁর কাছে নির্দেশ আছে, চারটি বক্স ফেরত নেওয়ার। অন্য দিকে মহিলার দাবি, তিনি পাঁচটিই ফেরতের ‘রিকোয়েস্ট’ করেছিলেন।

এই নিয়েই দু’জনের বাদানুবাদ শুরু হয়। এক সময় ডেলিভারি বয় ফিরে যান। এর মধ্যে মহিলার বোন ওই শপিং সাইটের কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করে কথা বলেন এবং সেখান থেকে বলা হয়, বুধবার ফের  ডেলিভারি বয় তাঁর বাড়িতে যাবে এবং পাঁচটি বক্সই ফেরত দিতে পারবেন তিনি। কিন্তু এর মধ্যেই ভূপেন্দ্র ফের ওই মহিলার ফ্ল্যাটে যান এবং বলেন, পাঁচটি বক্সই তিনি ফেরত নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু মহিলা তাতে রাজি হননি এবং বুধবারই ফেরত দেবেন বলে জানান।

এর পরেই শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলে ওই মহিলার অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, ফিরে আসার পর দু’-চার কথা বলার পরেই তাঁর মাথা ঘুরতে শুরু করে। তার পরে আর কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফেরে, তখন ডেলিভারি বয় ওই যুবক তাঁর সামনে অসংলগ্ন পোশাক পরে দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, ওই অবস্থায় দেখার পরেই তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন এবং ছুটে বাথরুমে গিয়ে মেঝে পরিষ্কার করার ওয়াইপার নিয়ে এসে তাঁকে মারধর করতে থাকেন। তাতেই ভয় পেয়ে পালিয়ে যান ভূপেন্দ্র।

আরও পডু়ন: ভারতের আকাশে ফের পাক ড্রোন, এক সপ্তাহে তিন বার হানা

আরও পডু়ন: মা সিরিয়াল কিলার? বিশ্বাস হচ্ছে না ছেলের, জলি সাইকোপ্যাথ বলেই সন্দেহ পুলিশের

এর পর দুপুর দু’টো নাগাদ মহিলার বোন ফ্ল্যাটে আসেন। তিনি বলেন, ‘‘মেন গেটে রেজিস্টারে লেখা নম্বর দেখে ওই ডেলিভারি বয়কে ফোন করে কোথা থেকে এসেছিলেন জিজ্ঞেস করি। তিনি জানান, নয়ডার সেক্টর ৫৮ থেকে তিনি এসেছিলেন। এর পরেই তাঁরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই যুবকের খোঁজ চলছে। তবে প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করা হচ্ছে এন্ট্রি রেজিস্টারে ঠিক নাম-ফোন নম্বরই লিখেছেন ভূপেন্দ্র। অন্য দিকে ওই শপিং সাইটের এক মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। ওই ডেলিভারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে পুলিশকেও সব রকম সাহায্য করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে।