আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কি কোনও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা হয়েছিল? কোনওভাবে মহাজাগতিক বিকিরণ বা তেজস্ক্রিয় রশ্মি ঢুকিয়ে কি ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল মহাকাশ স্টেশনকে? বৃহস্পতিবার নাসা এবং রুশ মহাকাশ সংস্থা ‘রসকসমস’ কিন্তু সেই আশঙ্কাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিল না। বরং যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানাল, এই ঘটনার পুর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। আর সেই তদন্তকারী দলের নেতৃত্ব দেবে রুশ মহাকাশ সংস্থাই।

এই ‘রটনা’ শুরু হয় অগস্টের শেষে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে কক্ষপথে ঘোরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একটি দুর্ঘটনার পর। ওই সময় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নেমেছিল রাশিয়ার পাঠানো মহাকাশ যান ‘সয়ুজ (এম এস-০৯/৫৫এফ)’। সেই রুশ মহাকাশযানের ছাদে খুব ছোট একটি ফুটো দেখতে পান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীরা। ছিদ্রটি আকারে ছিল ২ মিলিমিটার(০.০৮ ইঞ্চি)। ছিদ্রটি প্রথম দেখতে পান মহাকাশ স্টেশনে থাকা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোশ্চর আলেকজান্ডার জার্স্ট। সঙ্গে সঙ্গে সেই ছিদ্র মেরামত করে ফেলা হয় এবং তাতে সহায়তা করেন সেরগেই পাপারদু।  

বৃহস্পতিবার টেলি কনফারেন্সে নাসার শীর্ষকর্তা জিম ব্রিডনস্টাইনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয় ‘রসকসমস’ এর জেনারেল ডাইরেক্টর দিমিত্রি রোগোজ়িন-এর। প্রায় এক ঘণ্টার কথোপথনের পর ঠিক হয়, এ ব্যাপারে যৌথ বিবৃতি দেবেন নাসা ও রসকমমস-এর দুই শীর্ষ কর্তা। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই যৌথ বিবৃতির চূড়ান্ত বয়ান।

আরও পড়ুন: অ্যাপল আনছে আইফোনের নতুন সংস্করণ

সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ বা ব্যাখ্যা  ঘোষণা করবে না দুই মহাকাশ সংস্থা। তারা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজবে। প্রাকৃতিক কারণ ছাড়া অন্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছিল কিনা, সেটা খুঁজে দেখাই হবে তদন্তের মূল লক্ষ্য।

ওই বিবৃতিতে অবশ্য সেদিনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা সব মহাকাশচারীর ভূমিকাকে প্রশংসা করা হয়েছে। নাসা এবং রসকসমসের দুই শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে টেলি কনফারেন্সে ঠিক হয়েছে, আগামী ১০ অক্টোবর কাজাখস্তানের বৈকানুরে যাবেন নাসার শীর্ষ কর্তা ব্রিডনস্টাইন। সেখানেই রুশ মহাকাশ সংস্থার শীর্ষ কর্তা রেগো‌জ়িনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন ব্রিডনস্টাইন। তদন্ত কতদূর এগোল, সে ব্যাপারে দুই মহাকাশ কর্তার মধ্যে তথ্য আদান প্রদান হবে। ওই সময়ই সৈয়ুজ গোত্রের আরও একটি মহাকাশ যান উৎক্ষেপণ করবে রাশিয়া। তাতে মহাকাশচারী হিসাবে থাকবেন আমেরিকার হেগ ও রুশ মহাকাশচারী আলেক্সি ওহচিনিন।

আরও পডু়ন: হারিকেন ‘ফ্লোরেন্স’-এর ভয়ে কাঁপছে আমেরিকার পূর্ব উপকূল

নাসা সূত্রের খবর, আগামী দিনে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য দুই মহাকাশ সংস্থার মধ্যে সম্পর্ককে দৃঢ়তর করার ব্যাপারেও এদিন অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন নাসা ও রসকসমস-এর দুই শীর্ষকর্তা।