Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ জুন ২০২২ ই-পেপার

PRESENTS
CO-POWERED BY

Ombudsman: আয়কর নিয়ে হয়রানি? সমাধানে রয়েছে ওম্বাডসম্যান দফতর

আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইনকাম ট্যাক্স ওম্বাডসম্যানের কাছে অভিযোগ জানানো যায়।

তন্ময় দাস
কলকাতা ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১১:২৯

প্রতীকী ছবি।

কর হিসেবে কাটা বাড়তি টাকা আয়কর দফতরে জমা দেওয়ার পরে বহু মানুষ বেশ সমস্যায় থাকেন। সমস্যা মূলত টাকা ফেরত পাওয়ার। কিংবা হয়তো কখনও কখনও টিডিএস জমা পড়ে না। আয়কর দফতরে অভিযোগ জানিয়ে হয়রান হতে হয় বহু মানুষকে। আর সেই হয়রানি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে ইনকাম ট্যাক্স (আয়কর) ওম্বাডসম্যানের দফতর। আয়কর নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সুরাহার জন্য আর্জি জানানো যায় এখানে।

ধরা যাক, কর হিসেবে আপনার যত টাকা জমা দেওয়ার কথা, আপনার কাটা গিয়েছে তার থেকেও বেশি টাকা। অথচ দীর্ঘ দিন কেটে যাওয়ার পরেও সেই রিফান্ড পাননি। আবার অন্য দিকে কারও হয়তো টিডিএস কাটা হয়েছে। কিন্তু পরে আপনি দেখলেন যে তা আয়কর দফতরের ঘরে জমা পড়েনি। এই একাধিক সমস্যার নিরিখে আয়কর দফতরকে চিঠি লিখলেও কোনও সুরাহা হয় না। উল্টে হেনস্থা হন আয়করদাতা। প্রাপ্য টাকা ফেরত পেতে কিংবা অন্য কোনও প্রাপ্য পরিষেবা আদায় করতে হয়রান হতে হয় তাঁদের। এই সব ক্ষেত্রে আয়কর ওম্বাডসম্যানের দরজার স্মরণাপন্ন হতে পারেন কোনও ব্যক্তি। ঠিক যে ভাবে ব্যাঙ্ক কিংবা বিমা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তাদের ওম্বাডসম্যানের দ্বারস্থ হন আপনারা এ ক্ষেত্রেও অনেকটা তেমনই।

২০০৫ সালে তৈরি হয় আয়কর ওম্বাডসম্যানের দফতর। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে এই দফতর রয়েছে। এ রাজ্যের দফতরটি কলকাতায়। রাজ্যে আয়করের সদর দফতর আয়কর ভবনেই।
আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইনকাম ট্যাক্স ওম্বাডসম্যানের কাছে অভিযোগ জানানো যায়। অ্যাসেসমেন্টের পর যে সমস্ত পরিষেবা আয়কর দফতরের কাছ থেকে আপনার প্রাপ্য, তা পাওয়া না গেলে, ওম্বাডসম্যানের দফতরে অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, রিফান্ড না পাওয়া বা পেতে দেরি হলে আপনি এখানে অভিযোগ জানাতে পারেন। যত টাকা আয়কর কারও দেওয়ার কথা, কোনও কারণে তার থেকে বেশি টাকা কাটা হয়ে থাকলে, ওই বাড়তি অঙ্ক অবশ্যই তাঁর ফেরত পাওয়ার কথা। একেই রিফান্ড বলে। কিন্তু অনেক সময় দীর্ঘ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও রিফান্ডের টাকা হাতে পান না করদাতা। অনেক সময় আবার টাকা ফেরত পেলেও তার উপর প্রাপ্য সুদ মেলে না। এমনকি সুরাহা হয় না সংশ্লিষ্ট আয়কর দফতরে চিঠি লিখেও। তখন ভরসা ওম্বাডসম্যানই।

Advertisement

এ ছাড়া সুদ মকুবের সুবিধা না পাওয়া গেলেও অভিযোগ পাওয়া যেতে পারে এখানে। সময়ে বকেয়া কর মেটালে অনেক ক্ষেত্রে করদাতার সুদ মকুবের সুবিধা পাওয়ার যায়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আয়কর দফতরের কাছে আবেদন করা সত্ত্বেও তারা বিষয়টি ফেলে রেখেছে। সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। এই সমস্ত ক্ষেত্রে ওম্বাডসম্যানের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সুদ মকুব করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার অবশ্য তাঁর নেই। কিন্তু আয়কর দফতর যাতে এই ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে তা জানিয়ে দেয়, সেই বিষয়টি ওম্বাডসম্যান নিশ্চিত করতে পারেন।

বর্তমানে প্যান কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। সঠিক সময় না হলে অনেক কাজই আটকে থাকে। কিন্তু ধরুন প্যান কার্ডের জন্য কেউ আবেদন করলেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি তা হাতে পেলেন না। সে ক্ষেত্রে ওম্বাডসম্যানের দফতরে অভিযোগ অবশ্যই জানাতে পারেন তিনি।

কর কেটেও নথিবদ্ধ না হলে আবেদন করুন ওম্বাডসম্যানে। অনেক সময়ই দেখা যায় যে, সংস্থা আপনার আয়ের উত্‌সে কর কেটে নিয়েছে (টিডিএস) ঠিকই। কিন্তু আপনি যখন ইন্টারনেটে দেখতে যাচ্ছেন, সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, তা আয়কর দফতরের খাতায় তোলা হয়নি। আগাম করের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের যে কোনও সমস্যার জন্যই ওম্বাডসম্যানের দ্বারস্থ হতে পারেন।

আয়করদাতা কোনও বিষয়ে চিঠি লেখার পর যদি আয়কর দফতর তার প্রাপ্তি স্বীকার না করে, তা হলে ওম্বাডসম্যানের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। এমনকি আয়কর দফতরের কোনও অফিসার বা কর্মী দুর্ব্যবহার করলে কিংবা কাজের সময় বিনা কারণে অনুপস্থিত থাকলেও অভিযোগ জানানো যায়।

ধরুন, আয়কর হানার সময়ে কোথাও ওই দফতরের অফিসারেরা বিভিন্ন নথি এবং সোনাদানা-সহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী আটক করেছেন। অনেক সময় দেখা যায়, সেই তদন্ত (কেস) মিটে যাওয়ার পরেও দীর্ঘ দিন ওই সব নথি ও সামগ্রী ফেরত পাননি সংশ্লিষ্ট আয়করদাতা। এ ক্ষেত্রেও তিনি ওম্বাডসম্যানের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।

আপিল কর্তৃপক্ষের আওতায় থাকা কোনও বিষয় নিয়ে ওম্বাডসম্যানের কাছে অভিযোগ করা যায় না। কিন্তু তার নির্দেশ যদি সঠিক ভাবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকর করা না-হয়, তা হলে ওম্বাডসম্যানের কাছে যেতেই পারেন। আয়কর সংক্রান্ত অন্য যে কোনও সরকারি নির্দেশ যদি দফতর ঠিক ভাবে পালন না-করে এবং তাতে কারও আর্থিক বা অন্য কোনও ধরনের ক্ষতি হয়, তা হলেও তিনি ওম্বাডসম্যানের কাছে যেতে পারেন।

অনেক সময় আয়কর অ্যাসেসমেন্টে ভুল থাকে। কিন্তু সেই ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করার পরেও কিছু ক্ষেত্রে তা নিয়ে উদাসীনতা দেখায় আয়কর দফতর। সে ক্ষেত্রেও ওম্বাডসম্যানের ‘দরবারে’ অভিযোগ জানাতে পারেন।

Advertisement