Advertisement
E-Paper

ভোটার তালিকার বিবেচনাধীন- বিতর্কে কমিশনের দিকে আঙুল রাজ্যের আমলাদের, ‘লক্ষ্মণরেখা’ স্মরণ করাল মনোজের দফতর

ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নাম কেন প্রথম দফার ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’, তার ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশন দায় ঠেলেছিল এইআরও বা ইআরও-র দিকে। তা-ই নিয়ে শুরু হল বিতর্ক। এ বার প্রতিক্রিয়া দিল রাজ্যের আমলাদের সংগঠন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ২২:০৩
WBCS Officers and Election Commission

রিচা ঘোষকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই পোস্ট ঘিরে ‘বিতর্ক’। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এ বার বিচারাধীন-বিতর্কে নির্বাচন কমিশন ‘বনাম’ ডব্লিউবিসিএস অফিসার সংগঠন!

রাজ্যের নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি হয়নি এমন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নামের পাশে লেখা হয়েছে ‘বিচারাধীন’। সেই তালিকায় আছেন ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষও। এর দায় ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (এইআরও) উপর চাপিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর বিরোধিতা করে পাল্টা কমিশনের নিন্দায় ডব্লিউবিসিএস অফিসারেরা। তাঁদের বক্তব্য, কমিশনের নির্দেশমতো সপ্তাহের পর সপ্তাহ নিরলস এবং কঠোর পরিশ্রম করার পরেও বিবেচনাধীন-বিতর্কে রাজ্যের আমলাদের দোষ দেওয়া হচ্ছে। সোমবার কমিশনকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেছে ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সংগঠন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের নামোল্লেখ করে সরকারি কর্মচারীদের লক্ষ্মণরেখা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।

বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার। ক্রিকেটার রিচার নাম কেন প্রথম দফার ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’, তার ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশন এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখে, খসড়া তালিকায় ‘আনম্যাপ্‌ড’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন ক্রিকেটার। তাঁর পরিবর্তে এক আত্মীয় শুনানিতে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) বিষয়টি নিষ্পত্তি করেননি। তাই শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে বিষয়টি বিচারকদের কাছে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ওই পোস্টে লেখা হয়, রিচার বিষয়টি নিষ্পত্তি না-হওয়ার কী কারণ ছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এইআরও বা ইআরও-র কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার পর পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানাবে কমিশন।

তারই প্রেক্ষিতে ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সংগঠনের এক্স হ্যান্ডল (সাবেক টুইটার) থেকে লেখা হয়েছে, ‘‘সমাজমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওই পোস্ট আধিকারিকদের জন্য উদ্বেগের। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য ইআরও বা এইআরও-দের দায়ী করছে কমিশন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অসত্য।’’ আরও লেখা হয়েছে, ‘‘ইআরও বা এইআরও-দের নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা শুনানি পরিচালনা করছেন, ভোটারদের নথি আপলোড করছেন এবং নির্দেশ মাফিক সমস্ত কাজ করেছেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত মাইক্রো পর্যবেক্ষক এবং রোল পর্যবেক্ষকেরা দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং তার পর ইআরও অথবা এইআরওদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া অনেক মামলা কোনও পর্যবেক্ষণ এবং মন্তব্য ছাড়াই ফেরত পাঠিয়েছেন। ফলস্বরূপ বিপুল সংখ্যক নাম বিবেচনাধীন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।’’ এখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় দিনরাত কাজ করা ইআরও, এইআরও উপর দোষ চাপানোর কাজ কেবল অবমাননাকরই নয়, তাঁদের মনোবলকেও প্রভাবিত করছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়েছে, ‘‘নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত আধিকারিকদের মুখপাত্রের ভূমিকা নেওয়া অনুচিত। সরকারি কর্মচারীদের লক্ষ্মণরেখা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’’ শোনা কথা বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করা এবং সাংবিধানিক বা আইনসিদ্ধ সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সংগঠনকে সতর্কও করা হয়েছে।

ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সংগঠনের ওই পোস্টের প্রেক্ষিতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আশরফ আলির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘পোস্টে যা লেখা হয়েছে, তাতে সংগঠনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এসআইআরের কাজে সরকারি আধিকারিকেরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন। এখন তাঁদেরই দায়ী করছে কমিশন!’’

SIR West Bengal SIR WBCS Officers Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy