বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা, পোলট্রির ব্যবসার টানে ছেড়েছিলেন অভিনয়, এখন কী করেন অমিতাভের সহ-অভিনেত্রী?
২০০৪ সালে ‘ধুম’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন পেরিজ়াদ জ়োরাবিয়ান। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘এক অজনবি’ ছবিতেও অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।
একাধিক বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় অভিনয় করার সুযোগও পেয়েছেন। কিন্তু অভিনেত্রী হিসাবে কেরিয়ার গড়তে চাইলেন না তিনি। পোলট্রি চিকেনের টানে ছেড়ে দিলেন অভিনয়। বর্তমানে কী করছেন বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চনের সহ-অভিনেত্রী পেরিজ়াদ জ়োরাবিয়ান?
১৯৭৩ সালের অক্টোবরে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের এক সম্ভ্রান্ত পার্সি পরিবারে জন্ম পেরিজ়াদের। তাঁর বাবা পেশায় ব্যবসায়ী। ৮ বছর বয়স থেকেই শিল্পোদ্যোগী হওয়ার স্বপ্ন ছিল পেরিজ়াদের। মুম্বইয়ে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে পাড়ি দেন তিনি।
আমেরিকা গিয়ে এমবিএ করার পর আবার দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই মুহূর্তে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জাগে পেরিজ়াদের। বাবার কাছে অনুরোধ করলেন, অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করবেন। মেয়ের অনুরোধ ফেলতে পারলেন না পেরিজ়াদের বাবা।
এক বছর আমেরিকার এক প্রতিষ্ঠান থেকে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন পেরিজ়াদ। তাঁর বাবার পোলট্রি চিকেনের ব্যবসা ছিল। বিদেশ থেকে মুম্বই ফিরে গিয়ে বাবার ব্যবসায় হাত লাগান পেরিজ়াদ।
পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রির এক মডেল কোঅর্ডিনেটরের নজরে পড়েন পেরিজ়াদ। বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা পণ্য সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনী প্রচারে তাঁর মুখ দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
১৯৯৭ সালে লাকি আলির মিউজ়িক ভিডিয়োয় অভিনয়ের সুযোগ পান পেরিজ়াদ। তার পর দু’-একটি হিন্দি ধারাবাহিকেও অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে। ২০০১ সালে নাগেশ কুকুনুরের পরিচালনায় ‘বলিউড কলিং’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় পদার্পণ পেরিজ়াদের। সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘জগার্স পার্ক’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।
২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বানডুং সোনাটা’ নামের একটি চিনা ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান পেরিজ়াদ। এই ছবিতে ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। পেশার খাতিরে তিন মাস চিনে ছিলেন অভিনেত্রী।
২০০৪ সালে ‘ধুম’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন পেরিজ়াদ। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘এক অজনবি’ ছবিতেও অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ধীরে ধীরে কমবেশি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যেতে থাকে পেরিজ়াদকে। কিন্তু অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার না গড়ে বড়পর্দা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০০৬ সালে বোমান রুস্তম ইরানি নামে এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন পেরিজ়াদ। অভিনয়ের জন্য দেশে-বিদেশে স্ত্রীকে ভ্রমণ করতে হবে তা ভেবে আপত্তি জানান বোমান। স্বামীর ভাবনাকে সমর্থন করেন পেরিজ়াদ নিজেও। সংসার এবং বাবার ব্যবসা নিয়ে সারা জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বলিপাড়া সূত্রে খবর, ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ ছবিতে অনিল কপূরের সঙ্গে পেরিজ়াদকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সুভাষ ঘাই। এমনকি, ‘সালাম-এ-ইশক’ ছবিতে সোহেল খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয়েরও প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। বিয়ের পর সব প্রস্তাবই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পেরিজ়াদ।
পোলট্রি চিকেনের ব্যবসা করতে গিয়ে পেরিজ়াদের বাবা একসময় দেউলিয়া হয়ে পড়েছিলেন। বাবার ব্যবসাকে দাঁড় করানোই মূল লক্ষ্য হয়ে গিয়েছিল তাঁর। বিয়ের পর থিয়েটারে অভিনয় করলেও ব্যবসায় সম্পূর্ণ মন দিতে পারছেন না ভেবে নাটক করাও ছেড়ে দিলেন পেরিজ়াদ।
বাবার দেউলিয়া অবস্থা থেকে পোলট্রি চিকেনের ব্যবসা নিজের হাতে নিয়ে প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিলেন পেরিজ়াদ। ব্যবসায়িক বুদ্ধি খাটিয়ে তিনি লাভের মুখ দেখেন। বর্তমানে সেই ব্যবসার বার্ষিক আয় ১২০ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
এককালে অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ভবিষ্যতে আর অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা নেই পেরিজ়াদের। বর্তমানে তিনি স্বামী এবং দুই সন্তান নিয়ে সংসার এবং পৈতৃক ব্যবসা সামলাতেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন।