‘খেতে না পেয়ে রাত কাটিয়েছি, এখন আর কিছুতেই সমঝোতা করব না’! ধনুকভাঙা পণ ‘বধাই হো’র অভিনেতার
বর্তমানে বর্ষীয়ান অভিনেতাদের মধ্যে গজরাজের স্থান প্রথম সারিতে। বলিপাড়ায় কানাঘুষো শোনা যায়, নিজের পারিশ্রমিক এক চুলও কম নিতে চান না অভিনেতা।
নব্বইয়ের দশক থেকে হিন্দি সিনেমাজগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন গজরাজ রাও। তিন দশক ধরে বলিপাড়ায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে বর্ষীয়ান অভিনেতাদের মধ্যে গজরাজের স্থান প্রথম সারিতে। বলিপাড়ায় কানাঘুষো শোনা যায়, নিজের পারিশ্রমিক এক চুলও কম নিতে চান না অভিনেতা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মুখে পারিশ্রমিক না কমানোর কথা স্বীকার করেছেন গজরাজ। তিনি জানান, বলিপাড়ার এক ছবি নির্মাতা তাঁকে পারিশ্রমিক কমাতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হননি অভিনেতা। এমনকি তা নিয়ে সঙ্কোচ বোধও করেন না তিনি।
নব্বইয়ের দশক থেকে অভিনয় করলেও ২০১৮ সাল থেকে গজরাজের কেরিয়ার অন্য দিকে মোড় নেয়। ‘বাধাই হো’ ছবিতে তাঁর অভিনয়ের পর বলিপাড়ার পাশাপাশি দর্শকমহলেও প্রশংসা কুড়োতে শুরু করেন তিনি।
তার পর একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায় গজরাজকে। ছকভাঙা ছবির ছকভাঙা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘শুভ মঙ্গল জ়াদা সাবধান’, ‘মেড ইন চায়না’, ‘থাই মাসাজ’-এর মতো ছবি নিজের কেরিয়ারের ঝুলিতে ভরেছেন তিনি।
বয়সের নিরিখে পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেও কেরিয়ারে এখনও দাঁড়ি প়ড়েনি গজরাজের। একের পর এক ছবির প্রস্তাব পেতে থাকেন অভিনেতা। কিন্তু পারিশ্রমিক কোনও ভাবেই কম করতে রাজি হন না তিনি।
আরও পড়ুন:
সাক্ষাৎকারে গজরাজ বলেন, ‘‘বলিপাড়ার এক ছবি নির্মাতা আমাকে একটি ছবির প্রস্তাব দিয়ে অনুরোধ করেছিলেন যে মাত্র ২০ দিনের কাজ। তাই আমি যেন একটু কম পারিশ্রমিক নিই। কিন্তু আমি তাতে রাজি হয়নি।’’ এমন আচরণের কারণও জানিয়েছিলেন তিনি।
গজরাজ জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ৩০ বছর অনেক কষ্ট করে কাটিয়েছেন তিনি। এমনও সময় গিয়েছে যখন খালি পেটে ঘুমাতেও গিয়েছেন তিনি।
গজরাজের দাবি, তিনি ইচ্ছা করলে ২০ দিন কোনও পারিশ্রমিক না নিয়েও অভিনয় করতে পারেন। কিন্তু এই উপার্জন তিনি করেন ফেলে আসা ২৫ থেকে ৩০ বছরের জন্য।
গজরাজ বলেন, ‘‘এসি রুমে বসে কষ্ট করার কথা বলতে বেশ ভাল লাগে। কিন্তু জীবনে যখন সত্যিই কষ্ট করতে হয় তখন স্বপ্নের পিছনে ছোটাও স্বপ্নের মতোই মনে হয়। যখন তোমার পেটে খাবার জুটবে না তখন সামান্য রোজগারের জন্য যা খুশি করতে পার। সংসারের খরচ চালানোই তখন আসল উদ্দেশ হবে।’’
আরও পড়ুন:
গজরাজের মন্তব্য, ‘‘এমন সময় গিয়েছে যে আমি লোকজনের কাছে প্রচুর গালাগালি শুনেছি। সারা দিনে কুড়ি কাপ চা খেয়ে থেকেছি। রাত হলে খালি পেটে শুয়েছি। জুতো না থাকায় খালি পায়ে রাস্তায় হেঁটেছি।’’
বর্তমানে পাঁচতারা বিলাসবহুল হোটেলেই থাকতে পছন্দ করেন গজরাজ। অভিনেতা বলেন, ‘‘আমি দামি ফোন ব্যবহার করি। ঘুরে বেড়াই। দামি হোটেলে থাকি। এগুলো স্বীকার করতে কোনও লজ্জা পাই না আমি।’’
নিজের পরিবারের জন্যই বিলাসী জীবন বাঁচতে চান গজরাজ। অভিনেতা বলেন, ‘‘আমি বহু জায়গায় চাকরি করেছি। আমাকে সঠিক রাস্তায় চালনা করার মতো কেউ ছিল না। অর্থাভাব দেখেছি। আমি চাই না আমার পরিবার কোনও রকম সমস্যায় পড়ুক।’’
গজরাজ তাঁর নিজের জন্য এবং তাঁর পরিবারকে তাই সব সময় আরামপ্রদ অবস্থায় রাখতে চান। সম্প্রতি ‘সত্যপ্রেম কি কথা’ ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। চলতি বছরে ‘ময়দান’ ছবিতেও অজয় দেবগনের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে গজরাজকে।