Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

মিত্র মহাশয়

শুভাশিস চক্রবর্তী
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:০১
আইসিএস অশোক মিত্রকে বলা হয় ‘ভারতের জনগণনা পদ্ধতির জনক’।

আইসিএস অশোক মিত্রকে বলা হয় ‘ভারতের জনগণনা পদ্ধতির জনক’।

ডাক্তারকে তাড়া করেছেন এক আইসিএস অফিসার! কারণ, কর্তব্যে গাফিলতি। ডাক্তারবাবু তখনও হাসপাতালে আসেননি। তাঁকে খবর দেওয়া হয়েছে এসডিও সাহেব এসেছেন। জরুরি তলব। দূর থেকে এসডিওকে দেখেই চিনতে পেরেছেন ডাক্তারবাবু। সমুখে শমন দেখে এগোনোর সাহস পাননি আর। উল্টো দিকে সোজা দৌড়।

তাকে পালাতে দেখে এসডিও সাহেবও দৌড় দিলেন। হাতে একটা ভাঙা চেয়ারের পায়া। মুখের কথায় থামানো গেল না দেখে ছুড়ে মারলেন সেটা। রণে ভঙ্গ দিয়ে অপরাধীর মতো ডাক্তার তখন ধরা দিলেন জাঁদরেল অফিসারের কাছে। এসডিও ভদ্রলোকটির নাম অশোক মিত্র। তাঁর নামের সঙ্গে ‘আইসিএস’ শব্দটি জোড়া, ইনি অর্থনীতিবিদ অশোক মিত্র নন তা বোঝাতে।

১৩৫০-এর মন্বন্তর চলছে তখন। চারদিকে অনাহার আর মৃত্যু। মুন্সীগঞ্জ থেকে বদলি হবার আগের মুহূর্তে এসডিও অশোক মিত্র ঠিক করেছিলেন, মহকুমার সব ক’টা লঙ্গরখানা আর হাসপাতাল দেখে আসবেন। সাইকেলে সর্বত্র ঘূর্ণির মত ঘুরতেন তিনি। এক-এক দিন নব্বই মাইল পর্যন্ত ঘুরেছেন। অতর্কিতে হানা দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর বেশ ‘দুর্নাম’ ছিল। ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত সরকারি কর্মচারীরা।

Advertisement

মুন্সীগঞ্জ থেকে শেখরনগর যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। আড়িয়াল বিলের ধারে এই হাসপাতালে পৌঁছে দেখেন, কুড়িটি রোগীর মধ্যে পনেরো জনেরই সারা গায়ে ভয়ানক ইডিমা। শরীর বেলুনের মতো ফুলে উঠেছে। তার মধ্যে এক জন মাঝরাতে মারা গেছে। গায়ে বড় বড় গুবরে মাছি ভনভন করছে। কোথাও ডাক্তার বা নার্সের চিহ্নটুকু নেই। অথচ ঘড়িতে সকাল পৌনে ন’টা। ডাক্তারকে তাড়া করা ছাড়া আর কিছুই মাথায় আসেনি সহৃদয় আইসিএসের।

দুর্ভিক্ষের সময়েরই আর একটা ঘটনা। ১৯৪২। ঘটনাস্থল এখনকার বাংলাদেশের বিক্রমপুর। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে চালের মণ সাড়ে তিন টাকা থেকে পাঁচ টাকায় উঠে গেল। আড়তদাররা মজুত ধান-চাল লুকোতে শুরু করেছে। মিরকাদিম এলাকার তিন-চারটে বড় বড় আড়তের খবর এল এসডিও সাহেবের কাছে। আড়তের মালিকদের মধ্যে এক জনের নাম বসন্ত মণ্ডল। ভাগ্যকুল রাজাদের ভাগ্নে। মামার বাড়ি তো ছিলই, তার সঙ্গে তিনি নিজেও ছিলেন পূর্ববঙ্গের বণিকসভার সভাপতি। সেই সময়েই অন্তত দু’কোটি টাকার মালিক। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ব্যবসা।

চুনোপুঁটি ধাওয়া না করে রুই-কাতলাদের ধরাই ভালো। এটাই বিশ্বাস করতেন অশোক মিত্র। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে গ্রেফতার করলেন বসন্ত মণ্ডলকে। পরানো হল হাতকড়া, কোমরে বাঁধা হল দড়ি। গঞ্জের লোকের সামনে দিয়ে হাঁটিয়ে মুন্সীগঞ্জ নিয়ে গিয়ে পোরা হল জেলে। কলকাতার খবরের কাগজেও এই গ্রেফতারের খবর ফলাও করে বেরিয়েছিল।

১৯৪০-এ আইসিএস হন অশোক মিত্র। সমর সেন, চঞ্চল চট্টোপাধ্যায় আর অশোকবাবু— অভিন্নহদয় বন্ধুই শুধু নন, পরম ‘বৈষ্ণব’ও ছিলেন। ‘বৈষ্ণব’ মানে কবি বিষ্ণু দে-র খাস চ্যালা। দুপুর ঠিক দুটোর সময় এই তিন বন্ধু বিষ্ণুবাবুর উনিশ নম্বর গোলাম মহম্মদ রোডের বাড়িতে হানা দিতেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা অবধি চলত বাখ, হ্যান্ডেল, হাইডেন, বেঠোভেনের বাজনা। ‘প্লেয়ার্স নং ৩’ মার্কাওলা পঞ্চাশটা বিলেতি সিগারেটের সিল-করা টিনের দাম তখন ছিল এগারো আনা। দিনে এক টিন শেষ করে তবে বাড়ি ফিরতেন তিন বন্ধু।

‘জলচিকিৎসা’র হাতেখড়িও এই বৈষ্ণবমতেই। এই বিশেষ ‘চিকিৎসা’র একটা পশ্চাৎপট আছে: ১৯৩৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিষ্ণু দে প্রস্তাব দিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত অনূদিত ইয়েটসের ‘রেজ়ারেকশন’ নাটক মঞ্চস্থ করা হোক। মহড়া শুরু হল। অংশ নেবেন বিষ্ণু দে, প্রণতি দে, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, সমর সেন, কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, অশোক মিত্র। জ্যোতিরিন্দ্রবাবু মানে বটুকবাবু গানে সুর দেবেন, মঞ্চসজ্জা করবেন রথীন মৈত্র। প্রতিদিন ৫ নম্বর এস আর দাস রোডে বটুকবাবুর বাড়িতে জমায়েত হত। এক দিন বেশ শীত পড়েছে। বিষ্ণুবাবু আর বটুকবাবু ছোট ছোট ওষুধ খাবার পাত্রে গাঢ় কমলালেবুর রস খেতে দিলেন। বললেন, গলা ভাল হবে। এক চুমুকে শেষ। গলায় আর বুকে যেন আগুন নেমে গেল। আসলে রসটি ছিল কড়া কুরাসাও মদ। খাঁটি ব্র্যান্ডির থেকেও কড়া। মহড়ায় সেই থেকে শুরু হল বিশেষ ‘জলচিকিৎসা’। যে দিন এর বন্দোবস্ত থাকত, সকলের উৎসাহ যেন দ্বিগুণ হয়ে যেত। অশোক মিত্রের মন্তব্য, “যে কোনো কাজের উদ্দেশ্যে সময় মতো জলচিকিৎসার আয়োজন লোকজনকে একত্র করতে যে কী কাজে দেয় তা তখন থেকেই আমার জানা হয়ে গেছে।” প্রয়োজন মতো তার ব্যবহার তিনি আজীবন করে এসেছেন।

গুগল জানাচ্ছে, আইসিএস অশোক মিত্রকে বলা হয় ‘ভারতের জনগণনা পদ্ধতির জনক’। এই কাজে তিনি পঞ্চাশ আর ষাটের দশকে সারা ভারতবর্ষ চষেছেন তিনি। সে যুগের গোটা ভারতের ৩৬৪টি জেলার মধ্যে ৩০০টিতেই তিনি গিয়েছেন সেন্সাসের কাজে। তাঁর তত্ত্বাবধানে ১৯৫১ সালের পশ্চিমবঙ্গ সেন্সাসের যে ২৬টি বই প্রকাশিত হয় তার কয়েকটার নাম এই রকম: ‘জন্ম-মৃত্যুহার বিশ্লেষণ/ ১৯৪১–৫০’, ‘পশ্চিমবঙ্গের জাতি ও উপজাতি’, ‘পশ্চিমবঙ্গের কৃষি বিবরণী/ ১৮৭২–১৯৫০’। এর দশ বছর পরে ভারতীয় সেন্সাসের দায়িত্ব নিলেন। ভারতীয় সেন্সাস থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তাঁর উদ্যোগে প্রকাশিত সেন্সাস বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ১৪৫০! প্রায় দেড় হাজার বইয়ের বিশদ বিবরণ দিয়ে অশোকবাবু একটি গাইড বইও লিখেছিলেন।

১৯৫৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ সেন্সাসের গ্রন্থগুলির প্রকাশ উপলক্ষে রাজভবনের পাশে ‘নিসেন হাট’-এ একটি প্রদর্শনী হয়। প্রকাশিত গ্রন্থাবলির সঙ্গে প্রচুর ঐতিহাসিক অমূল্য বই, নথিপত্র, সেন্সাস সংক্রান্ত (আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে) অনেক প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য নথি ও মানচিত্র ছিল প্রদর্শনীতে। পুরোটাই সাজিয়েছিলেন কমলকুমার মজুমদার। সেই সজ্জা সম্পর্কে অশোক মিত্র লিখেছেন, “বাহুল্যবর্জিত এত সর্বাঙ্গসুন্দর, সালঙ্কার অথচ নিতান্ত স্বল্প খরচে এত নয়নাভিরাম ও শিক্ষাপ্রদ প্রদর্শনী দ্বিতীয় হয়েছে বলে আমি জানি না। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় আনন্দ প্রকাশ করে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।”

সেন্সাসের কাজে একটা একঘেয়েমি আছে। অত্যন্ত পরিশ্রম ও ধৈর্যের কাজ। প্রতি জায়গায় একই ছক বারবার ঘুরে-ফিরে যাচাই করতে হয়, কখনও কখনও বিরক্তিও চলে আসে। কাজে যাতে মনোযোগ আসে, সে জন্য প্রয়োজন হয় এমন কিছু নেশা বা উদ্দেশ্য যার তাগিদে দৌড়াদৌড়ি করাটাকেও মনে হবে সুখের। অশোকবাবুর নেশা ছিল সারা রাজ্যের আনাচে–কানাচে যদি কোথাও দেখে বা শুনে মনে হয় কোনও প্রাচীন বা মধ্যযুগীয় স্থাপত্যকীর্তি আছে তবে তার বিশদ বিবরণ সংগ্রহ করা। স্মৃতিকথায় অশোকবাবু লিখছেন, “১৯৫৪ সালের মধ্যে এই ভাবে আমি প্রায় তিন হাজার ফটো তুলেছিলুম, সবগুলিই তখনকার দিনের ব্রাউনি বক্স ক্যামেরা দিয়ে তোলা। চোখে সনাক্ত করার পক্ষে যথেষ্ট, কিন্তু তার থেকে ছাপাবার উপযুক্ত নয়।”

এই অনুসন্ধান তাঁকে চালিত করেছিল আর একটি অসাধারণ কাজের পথে। পশ্চিমবঙ্গের যেখানে যত পূজা, পার্বণ, মেলা হয় তার তালিকা তৈরি এবং প্রতিটি উৎসবের যদি কোনও প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন থাকে তবে তার সম্পূর্ণ সংবাদ সংগ্রহ। বিষয়টি বুঝিয়ে একটি আবেদনপত্র ছাপানো হল। সঙ্গে যুক্ত হল প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের তালিকা। পাঠিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের কয়েক হাজার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক, ইউনিয়ন বোর্ডের সভাপতি, পোস্টমাস্টার, ডাকপিয়ন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধ্যক্ষ, গ্রামীণ গ্রন্থাগার, ক্লাব, স্থানীয় সংবাদপত্রের অফিসগুলিতে। এরই ফলশ্রুতি পাঁচ খণ্ডে, কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বই ‘পশ্চিমবঙ্গের পূজা-পার্বণ ও মেলা’। প্রতিটি খণ্ডে জেলাগুলির আদ্যোপান্ত বিবরণ, প্রচুর ছবি, বিস্তারিত সূচি, বিশ্লেষণী রচনা ও মানচিত্র। দুঃসাধ্য এই কাজ করেও অশোক মিত্র কেমন সহজে লেখেন, “পুরনো স্থাপত্য, পোড়ামাটির কাজ, বিভিন্ন শৈলীর মন্দির ও মসজিদ— এসবের নেশা, তার সঙ্গে মুখ্যত সেন্সাসের ও সমাজ উন্নয়নের কাজ… পাঁচ বছরে আমাকে জীপের পিঠে বহু হাজার মাইল ঘোরায়।… পশ্চিমবঙ্গে এমন খুব কম গ্রামই ছিল যেখানে হয় সরাসরি, না হয় তার পাঁচ মাইলের মধ্যে আমি যাইনি।”

অশোকবাবুর যোধপুর পার্কের বাড়িতে বৈঠকখানাটি ছিল যামিনী রায়ের আঁকা ছবিতে সাজানো। ‘পরিচয়’ পত্রিকাতে যামিনী রায়ের ছবি নিয়ে তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশের পর বিষ্ণু দে সেই লেখাকে আক্রমণ করে আর একটি প্রবন্ধ লেখেন। অশোকবাবুর পাল্টা জবাব পরের সংখ্যায় প্রকাশ পেলেও এর জন্যে দুজনের মধ্যে ‘শত্রুতা’ তৈরি হয়নি। বরং অশোক মিত্র স্বীকার করেছেন, “বিষ্ণু দে আমাদের ইওরোপীয় সংগীতের রসাস্বাদে দীক্ষিত করেন, এবং সেই সঙ্গে চিত্রশাস্ত্রেও। ১৯৩৬ সালের শরৎকালে তিনি আনন্দ চাটুজ্যে লেনে যামিনী রায়ের বাড়িতে আমাকে নিয়ে যান।”

চাকরি জীবনে একটু থিতু হওয়ার পর চিত্রকলা নিয়ে রীতিমতো পরিশ্রমী গবেষকের মতো কাজ করেছেন অশোক মিত্র। ‘পশ্চিম ইওরোপের চিত্রকলা’, ‘ভারতের চিত্রকলা’, ‘ছবি কাকে বলে’— সহজবোধ্য বাংলা ভাষায়, অহেতুক পণ্ডিতি বর্জন করে এমন বইপত্র যিনি ছবি নিয়ে লেখেন তাঁকে ‘চিত্রসমালোচক’ আখ্যা না দিয়ে উপায় থাকে না। স্কুলের উঁচু ক্লাসের ছেলেমেয়েদের পশ্চিম ইউরোপের ছবি নিয়ে সাধারণ ধারণা দেবেন বলে লিখেছেন ‘পশ্চিম ইওরোপের চিত্রকলা’। চূড়ান্ত ব্যস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর সমস্ত সরকারি তকমা খুলে রেখে যেন ছাত্রদের সঙ্গে গল্প করতে বসেছেন, এমনই সেই লেখা: “অন্ধকার গুহার মধ্যে ছবি এঁকে যাওয়া শক্ত কাজ। ভেবে দেখো, কোনো জানলা ছিলো না, আলো জ্বালাবার ভাল ব্যবস্থাও ছিলো না।… তবে তারা ছবি আঁকতো কিসের ঝোঁকে, কিসের লোভে, কিসের তাড়ায়? নিশ্চয় ঘর সাজাবার লালসায় নয়? তুমি ঘর সাজাও, ছবি টাঙাও তার কারণ তোমার ঘর বলে জিনিস আছে, তাতে আলো আসে। কিন্তু গুহায়? কুপকুপে অন্ধকারে?”

ছোটদের প্রতি আইসিএস সাহেবের ছিল অদ্ভুত দরদ। পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘তিন কুড়ি দশ’-এর নাম শোনেননি এমন শিক্ষিত মানুষ কমই আছেন, কেননা বাংলার আগে ইংরেজিতে লেখা সেই জীবনকথা ‘থ্রি স্কোর অ্যান্ড টেন’ ভারত জুড়েই খ্যাত ছিল। আত্মকথার দ্বিতীয় পর্বে লিখছেন, “জীবনে বিশেষ কিছু কাজে লেগেছি একথা বলতে পারি না, তবে এইটুকু দাবি করতে পারি যে, অন্তত দশ হাজার ছেলেমেয়েকে আমি অকালমৃত্যু, জীর্ণতা, অঙ্গহানি ও বিকৃতি থেকে বাঁচিয়েছি। সারা কর্মজীবনে আমি অন্তত দশ-বারো হাজার ছেলেমেয়েকে বসন্তের টীকা ও কলেরার ইনজেকশন দিয়েছি।”

এই কাজের হাতেখড়ি মুন্সীগঞ্জেই। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কী করে ভুলিয়ে টিকা দিতে হয় তার একটা ফন্দি বার করেছিলেন। তখনকার দিনে নানা রঙের চিনির গুলি ‘লজেঞ্জুস’ নামে পাওয়া যেত। এক পয়সায় দশটা। তারই একটি ঠোঙা পকেটে পুরে প্রাথমিক স্কুলে ঢুকে ছেলেমেয়েদের গল্প বলতে বলতে বীরপুরুষ মনিটরকে ধরে টিকা দিতে পারলেই অর্ধেক যুদ্ধজয় হয়ে যেত। তাকে খুব প্রশংসা করে, মাথায় তুলে এই কাজটি করতে হত। তার পর সেই মনিটরই সকলকে জড়ো করে এনে দিত।

রাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেন অশোকবাবু। ১৯৭৫-এ। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোফেসর অব পপুলেশন স্টাডিজ় হিসাবে অধ্যাপনা ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন। ছিলেন ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএন পপুলেশন কমিশনেও। প্রতিষ্ঠা করেছেন নারী বিষয়ক চর্চা কেন্দ্র। ১৯৮৬ থেকে আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন। সেই সময় প্রতিদিন খুব সকালে সম্মোহিতের মতো লেখা শুরু করে বিকেলে চায়ের সময় লেখায় বিরতি দিতেন। পঞ্চম খণ্ড অসম্পূর্ণ রেখেই, ১৯৯৯-এর ৭ জুলাই প্রয়াত হন।

‘তিন কুড়ি দশ’, সত্তর বছরের সাতরঙা আখ্যান— স্মৃতির পথে হেঁটেছেন, এঁকেছেন ভারতবর্ষের এক সন্ধিক্ষণের জলছবি। আজ তাঁর জন্মদিন। দু’বছর আগে তাঁর পাঁচ কুড়ি চলে গেছে। নীরবেই।

কৃতজ্ঞতা: শঙ্খ ঘোষ, অরিন্দম সাহা সরদার, সুজিত দে সিকদার

আরও পড়ুন

More from My Kolkata
Advertisement