Advertisement
E-Paper

নিপুণ কারিগর

গাছের ডালে, কোটরে বা বাড়ির ঘুলঘুলিতে— পাখিরা বাসা বানায় নানা জায়গায়। কী কী হয় সেই বাসার উপকরণ? সংগৃহীত কুড়ি রকম পরিত্যক্ত পাখির বাসার মধ্যে বাছাই কয়েকটির খোঁজখবর। উৎপল সান্যালসাপুড়ের বাঁশির মতো দেখতে বাসা নিয়ে তারা ‘শিল্পের বড়াই’ করতেই পারে। এদের বায়া তাঁতি পাখি বলে। লম্বা ঘাস, শক্ত পাতার চেরা ফালি পা ও ঠোঁটের সাহায্যে গিঁট দিয়ে ছেলে-বাবুইরা অর্ধসমাপ্ত বাসা বানানোর পর মেয়ে-বাবুই এসে সেই বাসা টেনেটুনে পছন্দ করলে বাসা বোনা শেষ হয়।

শেষ আপডেট: ২৮ অগস্ট ২০১৬ ০০:০০

• বাবুই

সাপুড়ের বাঁশির মতো দেখতে বাসা নিয়ে তারা ‘শিল্পের বড়াই’ করতেই পারে। এদের বায়া তাঁতি পাখি বলে। লম্বা ঘাস, শক্ত পাতার চেরা ফালি পা ও ঠোঁটের সাহায্যে গিঁট দিয়ে ছেলে-বাবুইরা অর্ধসমাপ্ত বাসা বানানোর পর মেয়ে-বাবুই এসে সেই বাসা টেনেটুনে পছন্দ করলে বাসা বোনা শেষ হয়। সাধারণত তাল, বাবলা ইত্যাদি গাছে একসঙ্গে বেশ কিছু বাসা ঝুলতে দেখা যায়। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই বাসা উলটে না গেলে ডিম পড়বে না। আমার সংগ্রহে ২৫ ইঞ্চি লম্বা গোটা বাসা ও অর্ধসমাপ্ত বাসাও আছে।

• চড়াই

প্রচুর ঘাসপাতা খড় ইত্যাদি দিয়ে ঘরের লফটে, আলমারির মাথায় এদের বাসা বোনা ও জীবনযাত্রা একেবারে কাছ থেকে দেখেছি। বাসার ভেতরে খোঁদল করে রেখেছে, যাতে ডিম গড়িয়ে না পড়ে! দেখেছি বাচ্চাদের ‘মুখে ভাতে’র কথা। খাওয়ার টেবিলে পোকামাকড় রেখে মা পাখি ঠোঁটে করে ভাত নিয়ে গেছে বাচ্চাদের খাওয়াতে!

• দুর্গা টুনটুনি

সাধারণত মেয়ে পাখিরাই বাসা বোনে। ঘাস, শুকনো পাতা, গাছের ছালের টুকরো ইত্যাদি দিয়ে তেজপাতা গাছে করা একটি চমৎকার ঝুলন্ত বাসা পেয়েছি, যেটি মাকড়সার জাল, গাছের আঁশ ইত্যাদি দিয়ে জোড়া ছিল। বাসার ভেতরটি নরম তুলতুলে ঘাস দিয়ে তৈরি।

• টুনটুনি

শিউলি গাছে দুটি পাতার মধ্যে নরম ঘাস, তুলো, সুতোর টুকরো দিয়ে বাসা তৈরি করে পাতা দুটি তুলো দিয়ে এমন কায়দায় সেলাই করেছিল, যাতে রোদবৃষ্টি না ঢোকে। ‘দরজি পাখি’ নাম সার্থক। লেজ তুলে ‘তুড়ুক তুড়ুক’ নাচ দেখতেও দারুণ লাগে।

• বাতাসি

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটা দেশে বাতাসি পাখির বাসা দিয়ে রান্না করা স্যুপ বেশ জনপ্রিয় এবং দামিও। এরা মুখ দিয়ে এক রকম আঠালো লালা বের করে কচি ডালপালা জুড়ে বা না জুড়েও বাসা বানায়। পুষ্টিগুণসম্পন্ন এই বাসায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে বলে প্যাকেটবন্দি করে বিক্রিও হয়, যা পেয়েছি।

• বুলবুল

কালো পাখিটির তলপেট ও লেজে টুকটুকে লাল রং থাকায় এদের রেড ভেন্টেড বুলবুল বলে। একটি গাছের ইংরেজি Y আকৃতির দুটি ডালের ফাঁকে ঘাসজাতীয় উপকরণ দিয়ে বোনা একটি গোল বাটির মতো সুন্দর বাসা পাওয়া গেছে। এদের ডিমের ওপর ছিটছিট দাগ থাকে।

• শালিক

বাড়িতে এদের বাসা তৈরি করতে দেখেছি। ঘাসপাতা, খড়কুটো, ডালপালা তো আছেই, অন্যান্য পাখির পালক, পড়ে থাকা বিড়ি-সিগারেটের টুকরো, পলিথিনের কুচি, যা পেরেছে জমিয়েছে। ডিমের ওপর সারাক্ষণ বসে তা দেওয়া এদের ধাতে নেই। যদিও বহুবার জোড়ায় যাওয়া আসা করে। দুর্ভাগ্যক্রমে ডিম দুটি না ফোটায় এক সময় বাসাটি রেখে চলে যায়।

• কোঁচবক বা ধানপাখি

এদের ২০ ইঞ্চি ব্যাসের গোলাকার বাসাটি গাছের উঁচু ডালে আটকানো ছিল। বাসাটি বুনতে বড় বড় কাঠি, ডালপালার সঙ্গে আরও শক্ত করার জন্য তার মাঝে লোহার তারও ঢুকিয়েছে! কিন্তু বাচ্চা বড় হওয়ার জায়গাটি নরম সরু কাঠিকুটি দিয়ে তৈরি, যাতে বাচ্চারা আরামে থাকে। একই বৈশিষ্ট্য দেখেছি গাছের ডালের ফাঁকে বেনে বৌ পাখির তৈরি দোলনার মতো বাসায়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy