Advertisement
E-Paper

কূটনৈতিক আলোচনা আর নয়, বদলা নেওয়া হবে ৪০০ মৃত্যুর! কাবুলের হাসপাতালে পাক হানার জবাবে হুঙ্কার আফগানিস্তানের

আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ টোলো নিউজ-কে বলেন, ‘‘পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার আর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যে ভাবে নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে,তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫৩
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমানহামলার পর চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: রয়টার্স।

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমানহামলার পর চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: রয়টার্স।

কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার সময় শেষ। কাবুলের হাসপাতালে ৪০০ নিরীহ নাগরিকের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুমকি দিল আফগানিস্তান। প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে কাবুলের এক হাসপাতালকে নিশানা বানায় পাক বায়ুসেনা। একের পর এক বোমাবর্ষণে হাসপাতালের ৪০০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তালিবান প্রশাসনের। আহতের সংখ্যা আড়াইশোরও বেশি। আফগানিস্তান এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে দাবি করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ টোলো নিউজ়-কে বলেন, ‘‘পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার আর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যে ভাবে নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে, তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতালেও হামলা চালাল। ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর বদলা আমরা নেবই।’’ দিনকয়েক আগেই আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যদি কাবুলে হামলা হয়, তা হলে ইসলামাবাদকে নিশানা বানানো হবে। তার পর পরই ইসলামাবাদ, কোয়েটা এবং রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় তালিবান। তারা দাবি করে, পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বায়ুসেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনাচক্রে, ভারতের সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানে এই বায়ুসেনাঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মাসদুয়েক আগে এই সেনাঘাঁটি মেরামতের উপগ্রহচিত্রও প্রকাশ্যে আসে। এ বার তালিবান দাবি করেছে, ওই সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। কাবুল এবং নঙ্গরহারে হামলার পরই পাকিস্তান দাবি করে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার কাবুলে হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই পাক প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, পাকিস্তানের নাগরিকদের নিশানা বানিয়ে তালিবান ঠিক কাজ করছে না। ওরা ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে। তার পরই সোমবার কাবুল এবং আশপাশের এলাকায় জোরদার হামলা চালায় পাকিস্তান।

গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে। সোমবারও দু’দেশের সীমান্তে গুলির লড়াই হয়েছে। গোলাগুলিতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সৈন্য নিহত হন। ওই গোলাগুলির কয়েক ঘণ্টা পরেই খবর ছড়ায়, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিতে হাসপাতালের কিছু ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়েছে (ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ফুটেজগুলিতে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যেরা টর্চের আলো জ্বালিয়ে হাসপাতাল থেকে জখমদের উদ্বার করছেন। হাসপাতাল ভবনটির একটি বড় অংশ দৃশ্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারদিকে আগুন জ্বলছে। সেই আগুন নেবানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন একদল দমকলকর্মী।

কাবুলের ওই হাসপাতালটিতে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা চলে। সোমবার রাতে ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত।

Pakistan Afghanistan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy