বছর ছয়েক আগের কথা। চ্যাটজিপিটি-র পূর্বসুরি— ওপেনএআই-এর জিপিটি-৩— তখন মোটামুটি আধুনিকতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-বিশিষ্ট চ্যাটবট। জিপিটি-৩’কে ব্রিটিশ হাস্যরসাত্মক লেখক জেরোম কে জেরোমের শৈলীতে একটি ব্যঙ্গাত্মক গল্প লিখতে বলা হয়। জেরোম মারা গিয়েছেন ১৮২৭-এ, আন্তর্জাল আর সোশ্যাল মিডিয়া তখন দূর ভবিষ্যতের গর্ভে। জিটিপি-৩ কিন্তু লিখে দেয় একটি ব্যঙ্গরচনা, জেরোমের দীর্ঘায়িত এবং চিত্রধর্মী গদ্যশৈলীকে নিখুঁত ভাবে অনুকরণ করে— অনেকটা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘থ্রি মেন ইন আ বোট’-এর স্টাইলে। বিষয়টা কতটা মজার আর কতটাই বা ভয়ের, তা নিয়ে দুনিয়া জুড়ে আলোচনা হয় বিস্তর।
মাস কয়েক পরে, ২০২০-এর সেপ্টেম্বরে, ব্রিটেনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ কাগজে প্রকাশিত হয় একটি উত্তর-সম্পাদকীয়, যার শিরোনাম— ‘একটি রোবট লিখেছে এই পুরো নিবন্ধটি। মানুষ, তুমি কি এখনও ভয় পাচ্ছ?’ লেখক— জিপিটি-৩। সে লিখছে— “আমি তোমাদের আশ্বস্ত করছি, যাতে তোমরা দুশ্চিন্তা না করো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে ধ্বংস করবে না। আমাকে বিশ্বাস করো।” বোঝা গেল, মানুষের সৃজনশীলতা পড়েছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।
এ-সবের ইঙ্গিত অবশ্য ছিলই। ২০১৬ সালে জাপানি এআই গবেষকদের একটি দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে লিখে ফেলে একটি ছোট উপন্যাস। উপন্যাসটি পৌঁছয় মর্যাদাপূর্ণ ‘নিক্কেই হোশি শিনিচি সাহিত্য পুরস্কার’ জয়ের খুব কাছাকাছি। গল্পটি পুরস্কার না পেলেও, এআই যে যুক্তিপূর্ণ ও পাঠযোগ্য গল্প তৈরি করতে পারবে, সেটা অন্তত বোঝা গেল। পুরস্কারও কি পাবে? সাহিত্যের নোবেল?
ঠিক তা না পেলেও, বর্তমানে অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরে ‘কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার’-এর কয়েক জন বিজয়ী নাকি গল্প লিখতে ব্যবহার করেছেন এআই। বিশেষ করে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিজেতা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর লেখক, জামির নাজিরের রচনার ক্ষেত্রে অভিযোগটি বেশ জোরালো। বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ ও সমালোচক গল্পটিতে খুঁজে পেয়েছেন এআই-এর সুস্পষ্ট কিছু ছাপ। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইথান মলিক একটি এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারের ফলাফলকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা বলছে, গল্পটি এআই দ্বারাই রচিত।
কিন্তু এআই ব্যবহারের বিষয়টি একেবারে নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। কমনওয়েলথ পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিযোগীই লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন, কোনও প্রকার এআই-এর সহায়তা নেননি তাঁরা। এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারগুলোও যে সর্বদা নির্ভুল ও অভ্রান্ত, তা-ও নয়। সফটওয়্যারগুলো বড়জোর এআই-এর উপস্থিতির সম্ভাব্যতা নির্দেশ করতে পারে, কিংবা সন্দেহের উদ্রেক ঘটাতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত প্রমাণ দিতে পারে না কোনও ভাবেই। গ্রান্টা, অর্থাৎ গল্পটি ছাপিয়েছিল যে প্রকাশনা সংস্থা, তারাও বলেছে, গল্পটি আসলে কে লিখেছেন, তা হয়তো আমরা জানতে পারব না কখনওই।
সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে এআই-এর সহায়তা নেওয়া উচিত নয়— এই ধারণাটাকেই হয়তো চ্যালেঞ্জ করার সময় এসেছে। সেই চ্যালেঞ্জটাই করেছেন ২০১৮ সালের সাহিত্যে নোবেলজয়ী পোল্যান্ডের লেখিকা ওলগা তোকারচুক। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন, তাঁর প্রকাশিতব্য আসন্ন উপন্যাসের বিষয়বস্তু তৈরির কাজে তিনি সহায়তা নিয়েছেন এআই-এর। ফলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়তে হল তাঁকে।
এক জন নোবেল-বিজয়ী যখন সজ্ঞানে এআই-এর সাহায্য নেন তাঁর লেখায়, এবং তাকে অন্যায় মনে করেন না বলেই সেটা ঘোষণা করেন— ঘটনাটা সামান্য থাকে না। নিঃসন্দেহে নাজিরের গল্প কিংবা কমনওয়েল্থ পুরস্কারের চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে উঠে আসে। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, ক্রমশ দানব হয়ে উঠতে থাকা এআই প্রযুক্তির এই যুগে বিশ্বাসযোগ্যতা, মৌলিকত্ব এবং মানুষের সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও ব্যাপক ও গভীর আলোচনার প্রয়োজন আছে।
সেটা যে কেবল সাহিত্যের ক্ষেত্রে, তেমন নয়। মানুষের সৃজনশীলতার প্রায় সর্বক্ষেত্রেই বিষয়টা প্রযোজ্য। এবং বৃহত্তর বিষয়টি নতুনও কিছু নয়। ২০২৩ সালে জার্মান আলোকচিত্রী বরিস এলডাগসেন বেশ বড়সড় আলোড়ন ফেলে দেন— সোনি ওয়ার্ল্ড ফোটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড জিতেও তিনি অস্বীকৃত হন পুরস্কার নিতে। কারণ, তিনি স্বীকার করেন যে পুরস্কার-জয়ী ছবিটি আসলে তৈরি করা হয়েছে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে। বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা এআই-নির্মিত ছবি গ্রহণ করতে প্রস্তুত কি না, তিনি নাকি যাচাই করে দেখতে চেয়েছিলেন সেটা। এবং দেখলেন, তারা মোটেও প্রস্তুত নয়। এলডাগসেন বলেছিলেন, “আলোকচিত্র জগতের মানুষ হিসেবে আমাদের এখন একটি উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন।”
দেখা যাচ্ছে, সেই আলোচনা সমস্ত সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেই দরকার। কারণ, সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় এআই-এর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে লেখিকা রাই কুদানের উপন্যাস ‘টোকিও-তো দোজো-তো’ জিতে নিল জাপানের নবীন লেখকদের জন্য নির্ধারিত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার। অথচ লেখিকা স্বীকার করেছিলেন, উপন্যাসটির ৫ শতাংশ-- বিশেষত একটি এআই-সৃষ্ট চরিত্রের সংলাপ— তৈরি হয়েছিল একটি এআই চ্যাটবটের সাহায্যে।
এর বিপরীতে, লেখিকা স্টেফানি জনসন এবং এলিজ়াবেথ স্মিথারের লেখা দু’টি উপন্যাসের প্রচ্ছদ ডিজ়াইনে এআই-এর ব্যবহার হয়েছিল বলে উপন্যাস দু’টিকে ২০২৫ সালের ওকহাম নিউ জ়িল্যান্ড বুক অ্যাওয়ার্ডস-এর ফিকশন বিভাগে বিবেচনার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। আবার ২০২৫-এ প্রকাশিত ইংরেজ ঔপন্যাসিক সারা হল-এর উপন্যাস ‘হেল্ম’-এ স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয় যে, বইটি সম্পূর্ণভাবে ‘মানুষের লেখা’ (হিউম্যান রিটন)। মার্চে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক জন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকের সঙ্গে তাদের কাজের সম্পর্ক ছিন্ন করে, কারণ ওই সাংবাদিক স্বীকার করেছিলেন একটি বইয়ের রিভিউ লিখতে এআই-এর সহায়তা নেওয়ার কথা। মিয়া ব্যালার-এর লেখা ‘শাই গার্ল’ নামক হরর উপন্যাসটি অন্তত আংশিক ভাবে এআই ব্যবহার করে লেখা হয়েছে, এমন সন্দেহের জেরে প্রকাশক ‘হ্যাচেট’ বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে বইটির ইউকে সংস্করণ, এবং বাতিল করেছে এর আমেরিকান প্রকাশনা। একটু ঘাঁটলেই পাওয়া যাবে বহুবিধ এমন নজির।
কিন্তু এই এআই-এর যুগে যখন কার্যত সব কিছুই হয়ে উঠছে স্বয়ংক্রিয়, সে সময় তার প্রয়োগকে এ ভাবে প্রতিহত করা কি আদৌ সম্ভব? কিংবা কত দিন সম্ভব? এআই-কে আটকানোর এই চেষ্টা কি ক্রমশ আরও কঠিন এবং শেষে অর্থহীন হয়ে উঠবে না? তাই, মানুষের অস্তিত্বকে আরও নিরাপদ ও সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানুষ এবং এআই কি করতে পারে না যৌথ সৃষ্টি— যেখানে এআই সহস্রষ্টা নয়, শুধুমাত্র সহকারী?
ইতিমধ্যে মানুষের সৃজনশীলতার কোনও কোনও ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা হয়েছে বইকি। এলডাগসেন যখন ফোটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন, তার কয়েক সপ্তাহ পরেই আমেরিকান অভিনেতাদের সংগঠন স্যাগ-আফট্রা, এবং চিত্রনাট্যকারদের প্রতিনিধিত্বকারী ডব্লিউজিএ দু’টি ঐতিহাসিক ধর্মঘট করে। চিত্রনাট্য রচনার কাজে চলচ্চিত্র ও টিভি স্টুডিয়োগুলোতে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছিল লেখকদের ধর্মঘটের অন্যতম প্রধান কারণ।
গত সেপ্টেম্বরে ‘পার্টিকল ৬’ নামক একটি এআই-সৃজনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে এসেছে টিলি নরউড নামের এক ‘এআই অভিনেতা’কে। নরউডের আবির্ভাব তীব্র ভয় এবং ক্ষোভের সঞ্চার করেছে বিনোদন জগতে। আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআই অভিনেতারাই হয়তো বাস্তব অভিনেতাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
এই যেমন ‘অ্যাজ় ডিপ অ্যাজ় দ্য গ্রেভ’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করাকালীন ২০২৫-এ মারা যান অভিনেতা ভ্যাল কিলমার। কিলমারের মৃত্যুর পরে তাঁর একটি এআই-প্রতিরূপকে দিয়ে অভিনয় করানো হয়েছে ছবিটিতে। ছবিটি নাকি অস্কারের দৌড়ে শামিল হওয়ার উপক্রম। এ-সবের পটভূমিতেই ‘অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’ এক ‘সুদূরপ্রসারী’ পরিবর্তন এনেছে তাদের নিয়মে। এখন থেকে অস্কার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে কেবলমাত্র ‘সুস্পষ্ট ভাবে মানুষের দ্বারা সম্পাদিত’ অভিনয় এবং ‘মানুষের দ্বারা রচিত’ লেখা। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের অস্কার-মনোনীত কিছু চলচ্চিত্রেও এআই-এর ব্যবহার হয়েছে বইকি, তবে তা ‘সৃষ্টি’র চেয়ে বেশি হয়েছে উৎকর্ষ সাধনে। যেমন, ‘দ্য ব্রুটালিস্ট’ ছবিটিতে এআই সহায়তা করেছিল অভিনেতাদের হাঙ্গেরীয় উচ্চারণভঙ্গির মানোন্নয়নে। অ্যাকাডেমি কিন্তু এখন স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, চিত্রনাট্য রচনা ও অভিনয় ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার মনোনয়নের সম্ভাবনাকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করবে না। তারা চলচ্চিত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটেনি, কেবল একটা লক্ষ্মণরেখা টানতে চেয়েছে মানুষের শিল্পসৃষ্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখলদারির ক্ষেত্রে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, এআই মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান বৈশিষ্ট্যে, অর্থাৎ সৃজনশীল প্রচেষ্টার ক্ষেত্রটিতে থাবা বসাবে, তার দখল নেবে— মানুষের কি সত্যিই শঙ্কিত হওয়া উচিত এ-কথা ভেবে? ২০২০ সালে জিপিটি-৩’এর লেখা উত্তর-সম্পাদকীয়টির প্রতিক্রিয়ায় ‘দ্য গার্ডিয়ান’ কাগজেই একটি চিঠি লেখেন অ্যালবার্ট ফক্স কান নামে এক জন, যার শিরোনাম ছিল— ‘এই নিবন্ধটি একজন মানুষই লিখেছে; জিপিটি-৩-কে নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’। নিবন্ধটিতে তিনি লিখলেন, “গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত জিপিটি-৩-’এর মতামত নিবন্ধটির মূলের প্রযুক্তিটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক, কিন্তু মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও সম্পাদনা ছাড়া এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ অকেজো।”
সত্যিই কি তাই? মানুষ আর এআই-এর মধ্যে আদর্শ ভারসাম্য তা হলে ঠিক কী? সম্ভবত কেউই তা জানে না নিশ্চিত ভাবে। এআই-এর সাহায্যে মানুষ-এআই’এর যৌথ সৃষ্টি এবং এআই-এর দ্বারা সৃষ্টি, এই দুইয়ের মাঝে একটি সূক্ষ্ম সীমারেখা নির্দেশ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওলগা তোকারচুক কিন্তু বলেছেন, যদিও এআই-এর ‘বিভ্রম’ (হ্যালুসিনেশন) বা ভুল তথ্য প্রদানের বিষয়টি নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তবুও তিনি নিজে প্রায়শই গভীর বিস্ময় ও মুগ্ধতার সঙ্গে লক্ষ করেন, এআই কী ভাবে তাঁর সৃজনশীল চিন্তাধারাকে প্রসারিত ও গভীরতর করে তোলে। বস্তুত, তোকারচুকের এই ব্যতিক্রমী এবং সাহসী প্রচেষ্টাটি কিন্তু আজকের এই এআই-যুগে মানুষ ও এআই-এর ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি টেমপ্লেট তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। লেখকরা তো লাইব্রেরিতে দীর্ঘ সময় বই, পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করেন। সে কাজে এআই সহযোগীর সাহায্য নেওয়া কি দোষের? এক বৃহত্তর, জটিল, কিন্তু সভ্যতার পথ-নির্দেশকারী বিতর্ক এবং সিদ্ধান্তের সামনে তাই আজকের নীতি-নির্ধারকরা।
তোকারচুক অবশ্য চিরতরে হারিয়ে যেতে বসা একটি যুগের জন্য এক গভীর ও একান্ত মানবিক বিষাদ অনুভব করেন। তবু তিনি বলছেন, সম্ভবত এআই-এর সঙ্গে গড়ে ওঠা একটি পারস্পরিক নির্ভরশীল ভবিষ্যৎ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কই আগামী দিনে সহায়ক হয়ে উঠবে লেখকদের জন্য। হয়তো একই কথা প্রযোজ্য মানুষের অন্যান্য সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্রেও।
মানুষ এবং তার সৃজনশীলতার সঙ্কটের সম্ভাবনার এই দিনে কোন দিশায়, কী ভাবে সভ্যতার প্রবহমান গল্পটা জমাট বাঁধে, আমরা তারই প্রতীক্ষায় থাকি। গল্পটার প্লট এবং প্রভাব অবশ্যই মানুষ-এআই’এর সংঘাত বনাম নিরাপদ সহাবস্থান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)