E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_04-05-26

না-বলা কথা

গত তিন বছর নিজের বিয়ে নিয়ে ভাবিনি, এমনকি দু’-তিনটি সম্বন্ধ এলেও শুরুতেই দৃঢ় ভাবে অসম্মতি জানিয়ে দিয়েছি।

সুমন মহান্তি

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৪
ছবি: কুনাল বর্মণ।

ছবি: কুনাল বর্মণ।

আজ সন্ধে সাড়ে সাতটায় সায়ন্তনীর সঙ্গে সুরুচি রেস্তরাঁয় আমার দেখা করার কথা।

তা নিয়ে আমার মধ্যে কোনও বাড়তি আগ্রহ বা উত্তেজনা নেই। এই সাক্ষাৎকারের ফলাফল কী হবে, তা আমি জানি। শুধু ঘনিষ্ঠ বন্ধু মৈনাকের অনুরোধে রাজি হয়েছি। সায়ন্তনীরা লতায়-পাতায় মৈনাকের আত্মীয়, সেই সুবাদে যোগাযোগ। একে অপরের ফোটো দেখে প্রাথমিক ভাবে রাজি হয়েছি। মৈনাককে বলেছিলাম যে, আমার ব্যাপারে সে যেন সায়ন্তনীর বাবা-মায়ের কাছে কিছু গোপন না করে।

মৈনাক বলেছিল, “তার চেয়ে বরং দু’জনে কোথাও দেখা কর। পরস্পরকে বুঝে নিয়ে এগোনোই ভাল। তোর কথা তুই বলবি। সায়ন্তনীরও তো তোকে কিছু বলার থাকতে পারে।”

গত তিন বছর নিজের বিয়ে নিয়ে ভাবিনি, এমনকি দু’-তিনটি সম্বন্ধ এলেও শুরুতেই দৃঢ় ভাবে অসম্মতি জানিয়ে দিয়েছি। আসলে বিয়ে নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছি, পরিস্থিতি আমাকে নিস্পৃহ করে দিয়েছে। প্রত্যাখ্যানকে খুব ভয় পাই। যদিও বিয়ের বাজারে পাত্র হিসেবে আমি ফেলনা নই। সরকারি চাকরি করি। চাইল্ড ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার। ছ’বছর চাকরি করা হয়ে গিয়েছে। এখন চুঁচড়োয় পোস্টিং। মা চলে গিয়েছে তিন বছর আগে। সুদর্শন না হলেও দেখতে খারাপ নই। দুর্গাপুরে পৈতৃক বাড়ি। এক হিসেবে পাত্র হিসেবে আমি খুবই কাঙ্ক্ষিত। তবু এই চৌত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত একাই রয়ে গিয়েছি। একা থাকাকেই ভাগ্যের লিখন ভেবে মেনে নিতে চেয়েছিলাম এত দিন। তা বলে মেয়েদের ব্যাপারে উদাসীন কখনও ছিলাম না। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে চুটিয়ে প্রেম করেছি। সেই প্রেম যখন গাঢ় হয়েছিল, তখনই সুপর্ণাকে সত্যিটা বলে ফেলেছিলাম। নিজেদের মধ্যে কোনও গোপনীয়তা রাখতে চাইনি বলেই তা করেছিলাম।

“শোনো সুপর্ণা, একটা কথা বলার আছে,” পার্কের বেঞ্চে বসে বলেছিলাম আমি।

“কী কথা?”

“তুমি তো জানো, আমার বাবা চার বছর আগে মারা গিয়েছেন।”

“হ্যাঁ, জানি। তার পর ফ্যামিলি পেনশনের টাকায় কষ্ট করে কাটছে তোমাদের। কলেজে পড়ার সময় থেকেই টিউশন করে নিজের খরচ চালিয়ে নাও। অনেক বার শুনেছি। এক কথা বার বার বলো কেন?”

আমি মাথা নেড়ে বলেছিলাম, “কথাটা পুরো শোনো আগে। আমার বাবা পঞ্চাশ পেরোনোর পর পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। কয়েক বছর ট্রিটমেন্টের পরেও সেরে ওঠেননি। বোধহয় সরকারি চাকরি বলে চাকরিটা খাতায়-কলমে টিকে ছিল।”

“আচ্ছা!” সুপর্ণার মুখের রং ফ্যাকাশে হয়ে এসেছিল।

“শেষে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তিনি সুইসাইড করেন।”

সুপর্ণা চমকে উঠেছিল, “এই কথাটা আগে বলোনি কেন?”

“এই তো বললাম। আমার জেঠামশাইও ষাট বছর বয়সে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন।”

সুপর্ণা আতঙ্কিত গলায় বলেছিল, “স্টপ ইট! আর শুনতে চাই না আমি।”

তার পর ধীরে ধীরে সুপর্ণা নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল। তখন ইউনিভার্সিটির ছাত্র আমি, ভবিষ্যতে কী হব তা নিজেই জানতাম না, সুপর্ণা ঝুঁকি নিয়ে সম্পর্কটা আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়নি। এর জন্য সুপর্ণাকে কোনও দোষ দিতে চাইনি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই ভাবে যে পাগলামি রোগটা সম্পূর্ণ ভাবে জিনগত, সুপর্ণাও হয়তো তেমনটাই ভেবেছিল। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা আমাকে মনমরা করে রেখেছিল অনেক দিন, নিজের দুর্ভাগ্যকে দায়ী করতাম সারা ক্ষণ। মাস্টার্স ডিগ্রি পাশ করার পরে বাস্তবের মাটিতে পা রাখতে হল। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়াটাকেই পাখির চোখ করে ফেললাম। এমনিতে অভাব-অনটনের সংসার আমাদের, যে করেই হোক তাড়াতাড়ি একটা চাকরি পেতে হবে।

কেমিস্ট্রিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েও উচ্চশিক্ষার পথে গেলাম না, ঘাড়মুখ গুঁজে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিলাম। চার বছর পর পরিশ্রমের ফল পেলাম। আটাশ বছর বয়সে সরকারি অফিসার হিসেবে চাকরিতে জয়েন করলাম।

ছেলে সরকারি চাকরি করছে, বাড়ি থেকে দূরে একা থাকে, খাওয়াদাওয়ার ঠিক নেই। মা বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিল। ঘটক একটার পর একটা সম্বন্ধ আনতে শুরু করল। আমাদের দেশের বাড়ি বাঁকুড়া, ওদিক থেকেই সম্বন্ধ আসতে লাগল, কিন্তু কোনও সম্বন্ধই ফলপ্রসূ হল না শেষমেশ। আমাদের পারিবারিক বৃত্তান্ত জানার পরে সবাই পিছিয়ে যায়। পাগলের বংশে সাধ করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে তার সর্বনাশ করতে কেউ চায় না।

ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে চেষ্টা করেও লাভ হল না। শুরুতে পছন্দ হলেও অপ্রিয় সত্যটা জানিয়ে দিই। ভবিষ্যতে কেউ যেন আমার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে না পারে। মিথ্যাচার করে দাম্পত্যজীবনে প্রবেশ করার কোনও মানে হয় না। শেষমেশ আমি পরোক্ষ ভাবে প্রতিটি জায়গায় নাকচ হয়ে যাই। এ ভাবে চার বছর চলার পরে অক্ষম রাগে মা-কে এক দিন বলেই ফেলি, “খবরদার, আর কোথাও আমার বিয়ের চেষ্টা করবে না। আমাদের বংশে অভিশাপ রয়েছে, তার ফল ভুগতে তো হবেই। আমি একাই থাকব। এটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন।”

মা সত্যিই আর তেমন ভাবে চেষ্টা করেনি। তিন বছর আগে কার্ডিয়াক অ্যাটাকে মা চলে গিয়েছে, মাথার উপরে কোনও অভিভাবক নেই। বিয়ে করার জন্য তাগাদা দেওয়ার কেউ নেই। আমিও নিজের ভবিতব্য মেনে নিয়ে এ নিয়ে নির্বিকার ছিলাম এত দিন। মৈনাকের অনুরোধ যে ফেলতে পারিনি, তার কারণও আছে। একাকিত্বের জীবন আর সহ্য হচ্ছে না। নিঃসঙ্গতা আমাকে সারা ক্ষণ কুরে কুরে খায়। অবচেতনে জীবনসঙ্গিনীর অভাব টের পাই ইদানীং।

আজকের সাক্ষাৎকার নিয়ে আমি আদৌ আশাবাদী নই। বাবা এবং জেঠার পরিণতি বেশ নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বলে ফেলতে পারব। জানিয়ে দেব যে, পাগল হওয়ার সম্ভাবনা হয়তো আমারও রয়েছে, কারণ আমাদের বংশেই আছে পাগলামির বীজ। এ সব শোনার পরে কোনও মেয়েই কখনও রাজি হয়নি এগোতে, সায়ন্তনীও নিশ্চয়ই তার ব্যতিক্রম হবে না।

রূঢ় সত্যিটা ফোনেই বলে দিতে পারতাম। আজকের এই সাক্ষাৎপর্বের জন্য আমরা একে অপরের ফোন নম্বর নিয়েছি, অবশ্য একটি কথাও কেউ বলিনি। ভেবেছি যে, এক বার মুখোমুখি বসাই যাক। সুপর্ণা ছাড়া কোনও নারীর সঙ্গে তো আজ অবধি বসিনি। সায়ন্তনী বটানিতে মাস্টার ডিগ্রি করেছে, বয়স বত্রিশ, বাবা রিটায়ার্ড স্কুলশিক্ষক, একমাত্র দাদা পুণেতে ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে কাজ করে, বিয়ে করেছে। সায়ন্তনীর বয়স তো কম নয়। তা হলে এত দিন অবিবাহিত আছে কেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সরাসরি সায়ন্তনীর কাছেই জানতে চাইব। সে জন্যই তো এই সিটিং-এর আয়োজন।

স্টার্টার হিসেবে এক প্লেট ফিশ ফিঙ্গার অর্ডার দিয়ে সায়ন্তনীর মুখোমুখি বসে আছি। ফোটোর সায়ন্তনীর সঙ্গে বাস্তবের সায়ন্তনীর কোনও পার্থক্য নেই। মাঝারি উচ্চতা, সোনালি গমের মতো উজ্জ্বল ত্বক, চোখ দু’টি শান্ত ও ভাসা-ভাসা। হাসলে গালে টোল পড়ে। কথা বললেই মনে হয় যেন জলতরঙ্গ বাজছে। এতটাই মুগ্ধ হয়ে গেলাম যে, কথা হারিয়ে ফেললাম। নিস্পৃহ ভাবে প্রথমেই নিজের বংশের ইতিহাস জানিয়ে দেওয়ার কথা ছিল আমার। এখনই তা বলতে ইচ্ছে করল না।

সায়ন্তনীর পরনে বেগুনি কুর্তি ও পাজামা। কপালে বেগুনি টিপ, হাতে সোনালি রিস্টওয়াচ। মৃদু হেসে সায়ন্তনী বলল, “আমার দাদা ম্যারেড, জানেন তো?”

“হ্যাঁ, শুনেছি।”

“দু’বছর আগে দাদার বিয়ে হয়েছে। বৌদি আসানসোলের মেয়ে। সম্বন্ধ করেই বিয়েটা হয়েছিল।”

বললাম, “আচ্ছা।”

“বিয়ের মাসখানেক পরেই প্রবল অশান্তি হয়েছিল দুটো পরিবারের মধ্যে। দাদার শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা তলানিতে চলে গিয়েছিল।”

আমি বলি, “তাই?”

সায়ন্তনী বলে, “হ্যাঁ।’’

আমি অসহিষ্ণু হচ্ছি এ বার। নিজের দাদার বিয়ে ও তার পরবর্তী সমস্যা নিয়ে সায়ন্তনী এত বিস্তারিত বলতে চাইছে কেন? এর সঙ্গে আমার বা সায়ন্তনীর কী সম্পর্ক?

সায়ন্তনী হাসল। হাসিতে হালকা বিষণ্ণতার আভাস।

“কারণ জানতে চাইবেন না?”

“জেনে কোনও লাভ আছে?” অধৈর্য হয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে ফেলি আমি।

“আছে,” সায়ন্তনী বলল, “আমার বাবা-মায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল ওরা। দাদার শ্বশুর রেগেমেগে মামলা করবে বলেছিল। যদিও ব্যাপারটা অতদূর গড়ায়নি। তার একমাত্র কারণ, আমার বৌদি। বৌদি নিজের বাবা-মাকে জানিয়েছিল যে, অনর্থক অশান্তি করার কোনও দরকার নেই। পুরো ব্যাপারটা সময় ও ভাগ্যের হাতেই ছেড়ে দেওয়া ভাল। আসলে আমার দাদা খুব ভালমানুষ, বৌদি ওই অল্প কয়েক দিনেই দাদাকে ভালবেসে ফেলেছিল।”

তির্যক গলায় বললাম, “বুঝলাম। নিজের দাদাকে নিয়ে আপনি গর্বিত। তবে আমারও আপনাকে কিছু বলার আছে। বলব?”

সায়ন্তনী হেসে বলল, “যা নিয়ে কথা শুরু হয়েছে, সেটা আগে শেষ করতে দিন, প্লিজ়।”

নিজের বংশের কালো ইতিহাস বলেই ফেলব ভেবেছিলাম, কিন্তু সায়ন্তনীর হাসিতে সমস্ত প্রতিজ্ঞা গোলমাল হয়ে গেল।

“বেশ। বলুন।”

“দাদা-বৌদির মধ্যে এ নিয়ে কোনও ঝামেলা হয়নি। বৌদি জেনেছিল বিয়ের দু’দিন পরে, জেনেও অশান্তি করেনি। বৌদি কথায় কথায় হালকা ভাবে এক দিন ফোনে তার মা-কে বলে ফেলেছিল। ব্যস, মেয়ের সর্বনাশ হয়েছে ভেবে ওঁরাই অশান্তি শুরু করে দিলেন।”

“এক্সকিউজ় মি,” আমি বাধা দিলাম ওর কথায়, “আপনার দাদার বিয়ের কনটেক্সট বার বার আসছে কেন? আমরা তো নিজেরা পরস্পরকে বুঝে নিতে এখানে এসেছি।”

সায়ন্তনী বলল, “সে জন্যই তো এত বিস্তারিত বলা। সম্বন্ধ হওয়ার সময়ে আমরা একটা বিষয় গোপন করেছিলাম। তার আগে দু’-তিন জায়গায় সম্বন্ধ ভেঙে গিয়েছিল। আমাদের পরিবারে যে পাগলামির জিন আছে, তা জানাইনি ওদের।”

বিস্ফারিত চোখে তাকালাম এ বার, “মানে?”

“আমার বাবারা তিন ভাই। বাবা বড়। ছোটকাকু পাগল অবস্থায় তিন বছর কাটানোর পরে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। মেজকাকু দীর্ঘ সাত বছর অ্যাসাইলামে আছে। দাদার বিয়ের সময় এ সব গোপন করেছিল বাবা। বৌদির বাপের বাড়ি তাই আমাদের উপর মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছিল...” সায়ন্তনী মৃদু হেসে বলল, “আমার বেলায় বাবা ভুলটা রিপিট করতে চায়নি। তাই একটার পর একটা সম্বন্ধ ভেঙে যাচ্ছিল। ফলে বাবা প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিল।”

আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “এ সব শোনার পরে আমি রাজি হব, ভাবলেন কী ভাবে?”

সায়ন্তনী ফিশ ফিঙ্গার চামচে কাটতে কাটতে বলল, “এটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যাপার। তবে মৈনাকদা আমাকে সব বলেছে।”

চমকে উঠে জিজ্ঞেস করি, “কী বলেছে মৈনাক?”

“ভদ্রস্থ সরকারি চাকরি করেন আপনি, তবু এখনও আপনি সিঙ্গল। মৈনাকদা শুরুতে বলতে চায়নি, বাবার জেদাজেদিতে বলেছে। আমার বিয়ের নিষ্ফল প্রচেষ্টা বাবা আর করতে চায়নি। আপনার পারিবারিক ইতিহাস জেনে বাবা এগোতে রাজি হয়েছে। আশা করি, আপনার অনেক প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে গেলেন। বাকিটা আপনার সিদ্ধান্ত...” সায়ন্তনী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।

আমি কিছু ক্ষণ চুপ করে থাকি। যে-কথা বলতে চেয়েছিলাম, তা মৈনাক বলেই দিয়েছে। আমার পারিবারিক বৃত্তান্ত জেনেও সায়ন্তনী দেখা করতে রাজি হয়েছে। ভেবেছিলাম সত্যিটা জানিয়ে আরও এক বার প্রত্যাখানের মুখোমুখি হব। নীরবতা ভেঙে বললাম, “আপনি মাস্টার্স ডিগ্রি পাশ করেছেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে ইচ্ছে হয় না?”

“ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। চাকরির যা বাজার, তাতে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না।”

“আমার কিন্তু বদলির চাকরি। চাইলেও কোনও চাকরি করতে পারবেন না।”

সায়ন্তনীর গালে টোল পড়ল, “যেখানে আপনার পোস্টিং হবে, সেখানে কোনও প্রাইভেট স্কুলে পড়ানোর সুযোগ পেতে পারি। স্যালারি ঠিকঠাক পেলে করব। আপনার আপত্তি আছে?”

“না। তা কেন থাকবে?”

ওয়েটার এসে দাঁড়িয়েছে, “অর্ডার দেবেন স্যর?”

ভেবেছিলাম স্টার্টারেই এই সিটিং-এর ইতি ঘটবে। মেনু কার্ডটা সায়ন্তনীর দিকে বাড়িয়ে বললাম, “নাও। দেখো কী কী পছন্দ হয়।”

বলেই চমকে উঠলাম আমি। নিজের অজ্ঞাতসারেই সায়ন্তনীকে এই প্রথম ‘তুমি’ বলে ফেলেছি।

সায়ন্তনী বলল, “ঠিক আছে। তুমি অর্ডার দাও।”

রেস্তরাঁর নীলাভ স্বপ্নময় আলোয় আমরা একে অপরের দিকে অপলক তাকিয়ে রইলাম।

আমরা তো একই নৌকার সহযাত্রী, তাই তুচ্ছ ‘রাজি’ শব্দটি বলে এই মায়াবী মুহূর্তটা নষ্ট করতে মন চাইল না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Short Story Short story

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy