Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০২ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

রবিবাসরীয় ম্যাগাজিন

০৫ জুন ২০১৬ ০০:০৩

লাফাতে লাফাতে পেটাতে লাগলেন

আমি মালদহের একটি গ্রামের কো-এডুকেশন স্কুলে ক্লাস সিক্স থেকে নাইন পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলাম। স্কুলটি খুবই ভাল, কিন্তু শিক্ষকমশাইরা ছাত্রদের প্রায়ই আশ্চর্য সব শাস্তি দিতেন। প্রায় সব শিক্ষকই স্কুলে বেশ উদারহস্তে বেত ব্যবহার করতেন। এর জন্য টিচার্স রুমে বেত রাখার স্ট্যান্ডও ছিল, অনেকটা থানায় বন্দুক রাখার স্ট্যান্ডের মতো। বেত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতেন সংস্কৃতের স্যর। ওঁর সব ক্লাসেই কমবেশি সব ছাত্রই বেতের ঘা খেত। ইতিহাস স্যরকে দেখে খুব ভয়ডর লাগত না, হাইট বেশ কমের দিকে, মানুষটাও শান্তশিষ্ট। কিন্তু রেগে গেলে সাংঘাতিক। খেপে উঠলে প্রথমে বাঁ হাতে পাঞ্জাবির পকেটের খুচরো পয়সাগুলো ধরে নিয়ে, লাফাতে লাফাতে আমাদের মারতেন।

আমাদের সময় কর্মশিক্ষা আবশ্যিক ছিল। এক বার হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষার সময় কর্মশিক্ষার শিক্ষক আমাদের বললেন, তোমরা ঝুড়ি নিয়ে গ্রামে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে গোবর আনবে। যে ছাত্র সবচেয়ে বেশি গোবর আনবে, সে-ই সবচেয়ে বেশি নম্বর পাবে। এই শুনে আমার মতো অনেকেরই কান্না পাওয়ার জোগাড়। বমি-বমি ভাব। আর কী ঘেন্না! রাতে ঘুম আসে না।

Advertisement

আমাদের সহকারী প্রধান শিক্ষকও বেতের ব্যবহার ভালই জানতেন। শাস্তি দেওয়ার কায়দাটিও ছিল বেশ বিচিত্র। এক বার আমার সঙ্গে এক সহপাঠীর গন্ডগোল হয়। আমি সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে ওই ছাত্রের নামে নালিশ ঠুকে এলাম। উনি তো আর যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না। তাই ওই ছাত্রটিকে ডেকে পাঠিয়ে, আমার অভিযোগ সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নিলেন। বিচার করার পর, অভিযুক্ত সহপাঠীকে শাস্তি দিলেন। কী শাস্তি? শুনে আমাদের বুক ধড়াস করে উঠল।



স্কুলের ভিতরে মাঠে একটি বড় লাল পিঁপড়ের ঢিপি ছিল। সেখানে ওই ছেলেটিকে পা না নাড়িয়ে চুপচাপ দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, আর আমাকে সেটা দশ মিনিট পাহারা দিয়ে ওঁকে রিপোর্ট দিতে হবে। কিন্তু পিঁপড়ের ঢিপিতে দু’মিনিট দাঁড়ানোর পরেই অসংখ্য পিঁপড়ের কামড়ে বন্ধুর প্রাণ ওষ্ঠাগত। আমারও বিবেক দংশন। তাই দেখে দু’মিনিট পরেই স্যরকে রিপোর্ট দিয়ে দুজনে ক্লাসে চলে যাই।

অমিত সাহা, হাবড়া, উত্তর ২৪ পরগনা

স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষিকা কি নিষ্ঠুর বা উদ্ভট ছিলেন?
বিবরণ লিখে পাঠান ৪০০ শব্দে এই ঠিকানায়: গাঁট্টা, রবিবাসরীয়, আনন্দবাজার পত্রিকা,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০ ০০১।

বাহ্যি ঘরে ঘুঁটের বস্তা

তখন আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে। মাইনে কম হলেও সে-কালে মধ্যবিত্ত পরিবারে সরকারি চাকুরে পাত্রের কদর ছিল। কিন্তু সরকারি তকমা থাকলে কী হবে, একটা কথাতেই পাত্রীপক্ষ দমে যান। পাত্রী পছন্দ হলে মামা কথায় কথায় জানিয়ে রাখেন, ‘ভাগ্নের চাকরি কিন্তু গ্রামে। সেখানে ইলেকট্রিক, তার পর... বাথরুম না-ও থাকতে পারে। আপনাদের মেয়ে মানিয়ে নিতে পারবে তো?’ ব্যাস, অপর পক্ষ থেকে তার পর আর বিশেষ সাড়া মেলে না। কিন্তু আমার মামার এই কথায়, লিপির বাবা দমে গেলেন না। আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। লিপিদের দেশের বাড়ি শামসেরগঞ্জ। ওদের যৌথ পরিবার। বিয়ে দেশের বাড়িতে হল।



বাসর ঘর। নতুন বউ আর আমাকে ঘিরে তার বান্ধবীরা। তারা আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে লিপিকে বলল, ‘তোর তো শহরে থেকে মাঠে-ঘাটে যাওয়ার অভ্যেস নেই। দেখেশুনে বাড়ি ভাড়া করতে বলিস।’ আমি মৃদু হেসে বললাম, ‘গ্রাম কিন্তু এখন অত পিছিয়ে নেই।’

পর দিন সকালে শাশুড়িমা সারা বাড়িটা ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। একতলা বাড়ি। বিশাল উঠোন। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আট-দশটা ঘর। শাশুড়িমা প্রত্যেক ঘরের একটা করে নাম বলে যাচ্ছেন— বটের (বড় ভাসুর) ঘরের পর আঁতুড় ঘর, ঢেঁকি ঘর, লকড়ি ঘর। উঠোনের এক পাশে ধানের গোলা। তার একটু তফাতে ছোট্ট একটা ঘর। টিনের দরজা। শাশুড়িমা ওই ঘরটার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, ‘বাহ্যি ঘর। সারা গ্রামে কেবলমাত্র তিন জনের বাড়িতে আছে।’ তাঁর কথায় চাপা গর্ব। তার পর একটু থেমে বললেন, ‘আমার মেয়েকে নিয়ে যে বাড়িতে থাকবে, তা কি আরও অজ পাড়াগাঁ? সেখানে সবাই বনে-বাদাড়ে...?’

যাই হোক, এর পর চা-টা খাওয়া হল। বাসি বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আমাকে ফ্রেশ হতে হবে। কিন্তু ‘বাহ্যি ঘর’ ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারে একুশ জন সদস্য বলে কথা! নতুন বউকে একটু উষ্মা প্রকাশ করে বললাম, ‘কাউকে একটু অপেক্ষা করতে বলো। আমি সেরে আসি।’ বাইরে একটা মেয়ের গলা, ‘আমি অপেক্ষা করছি জামাইবাবু। আসুন।’ বাইরে বেরিয়ে দেখি আমার এক শ্যালিকা। হাতে তার গামছা আর জল-ভর্তি একটা গাড়ু। সে গাড়ুটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘সেনদের পুকুর পাড়ের বাঁশবাগানে চলে যান।’ আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়! ‘ওহ্! আপনি তো চেনেন না। ওই তো ভাই যাচ্ছে। ওর সঙ্গে চলে যান।’ আমি গলা খাদে নামিয়ে বললাম, ‘ঠিক আছে। ল্যাট্রিন ফাঁকা হোক।’ ‘সহজে ফাঁকা হবে না। আপনি যান।’ শ্যালিকা হাতের গামছাটা আমার গলায় জড়িয়ে দেয়। আমি তখন মরিয়া হয়ে বললাম, ‘নতুন জামাইকে বাঁশবাগানে যেতে দেখলে, লোকজন কী ভাববে বলো তো!’

ঠাকুমা দাওয়ায় বসে প্রদীপ সাজাচ্ছিলেন। তিনি বলে উঠলেন, ‘বাহ্যি ঘরে ঘুঁটের বস্তা। চন্দনের দাগটা তুলে বাঁশবাগানে যাও নাতজামাই। কেউ বুঝতে পারবে না।’

ধীরেন্দ্র মোহন সাহা, কসবা গোলপার্ক

আপনার শ্বশুরবাড়ি ভাল? খারাপ? ভাল-খারাপ মিশিয়ে? শ্বশুরবাড়ির টকঝালমিষ্টি ঘটনা লিখে পাঠান ৪০০ শব্দে।
ঠিকানা: শ্বশুরবাড়ি, রবিবাসরীয়, আনন্দবাজার পত্রিকা, ৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০ ০০১।

‘নন্দন’ শুরু হল কলকাতায়

২৪ অক্টোবর ১৯৮৪ পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের ইতিহাসে একটা খুব আনন্দের দিন। কলকাতার পক্ষে তো সবচেয়ে বেশি আনন্দের, কারণ দেশের প্রথম পাতালরেল, ‘মেট্রো’, সে দিন প্রথম দৌড়ল— ‘ভবানীপুর’ (তখন ‘নেতাজী ভবন’ নাম হয়নি) থেকে ‘এসপ্ল্যানেড’ অবধি। টিকিটের দাম এক টাকা, মাঝে কোনও স্টেশন ছিল না। শুধু এ কারণেই কলকাতা তখন ছিল সারা দেশের আলোচনার বিষয়। খুব গর্ব হত। তারই কাছাকাছি সময়ে আরও একটা ঘটনা ঘটল— মেট্রোর মতনই আর একটা জিনিস কলকাতায় প্রথম শুরু হল। সরকারি উদ্যোগে সিনেমা দেখার একটা পাকা জায়গা। একেবারে নতুন ব্যাপার হওয়ার সুবাদেই এটাও শতমুখে বলবার একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।



কলকাতার মানুষ বরাবরই সিনেমা হল-এ গিয়ে ছবি দেখতেন। বিদেশি ছবিগুলো চলত ধর্মতলা অঞ্চলের হলগুলোয়: লাইট হাউস, নিউ এম্পায়ার, টাইগার, মেট্রো, গ্লোব, চ্যাপলিনে। আমি তখনই ফিল্ম সোসাইটির সদস্য, তাই আরও নানা দেশের নানা ধরনের ছবি দেখতাম। সেগুলো হত মূলত সরলা রায় মেমোরিয়াল হল, বিড়লা অ্যাকাডেমি, গোর্কি সদন আর ম্যাক্সমূলার ভবনে। পিজি হাসপাতালের উলটো দিকে সরলা রায় মেমোরিয়াল হল-এ লম্বা লাইন পড়ত ছবি শুরুর আগে। সত্যজিৎ রায়ের চিত্রগ্রাহক সুব্রত মিত্রকে দেখেছি, উনিও ছবি দেখতে এসেছেন!

১৯৮০ সালে শিশির মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আয়োজনে হয়েছিল ‘রিজিয়নাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। তখনই শোনা যাচ্ছিল, এই চত্বরে একটি ‘অন্য ধরনের’ চলচ্চিত্র কেন্দ্র তৈরি হতে চলেছে, যেখানে সিনেমা সংক্রান্ত উৎসব-অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন হবে। ছবি নিয়ে চর্চা, পড়াশোনারও ব্যবস্থা থাকবে। তখন কলকাতায় ছবি নিয়ে পড়াশোনার জায়গা বলতে মূলত রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডে ফাদার গাস্তঁ রোবের্জ-এর ‘চিত্রবাণী’। ছোট ছোট থিয়োরি কোর্স পড়ানো হত সেখানে। ছবি-উৎসাহী পড়ুয়ারা ভিড় করত। এরই মধ্যে, ১৯৮০-র ১১ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হল ‘পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র কেন্দ্র’-এর।

‘নন্দন’-এর উদ্বোধনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেন। ২ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫।

দেখতে দেখতে চলে এল ১৯৮২। কলকাতায় হল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। মূল কেন্দ্র ছিল রবীন্দ্র সদন, নিউ এম্পায়ার, গোর্কি সদন ইত্যাদি। তত দিনে খবরকাগজে লেখালিখি হচ্ছে, রবীন্দ্র সদন আর শিশির মঞ্চের মাঝখানের বড় জায়গাটায় যে পুকুর, সেই জায়গাটাতেই তৈরি হবে একেবারে অন্য রকমের দেখতে একটা সিনেমা-হল, ‘পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র কেন্দ্র’! মাঝে মাঝেই সত্যজিৎ রায় সহ চলচ্চিত্রের বহু গণ্যমান্য মানুষদের দেখা যেত, এই জায়গাটা ঘুরে দেখছেন, কথা বলছেন কর্মকর্তাদের সঙ্গে।



তার পর এসেও গেল দিনটা। ২ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫। ‘পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র কেন্দ্র’-এর উদ্বোধন। খাস কলকাতার বুকে দারুণ এই ঘটনার সাক্ষী হতে আমি সে দিন আমার মামার বাড়ি বহরমপুর থেকে কলকাতায় চলে এসেছিলাম। তত দিনে কাগজে পড়ে ফেলেছি, পোশাকি নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র কেন্দ্র’ হলেও, ছোট্ট আর দারুণ সুন্দর আর একটা নাম হচ্ছে এর— ‘নন্দন’। নামকরণ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। প্রেক্ষাগৃহের গায়ে বিরাট বড় করে, দারুণ ক্যালিগ্রাফিতে ‘নন্দন’ লেখাটা খোদাই করা— সেটাও ওঁরই করে দেওয়া। আরও জানলাম, দু’কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে এই চলচ্চিত্র কেন্দ্র, থাকবে তিনটি প্রেক্ষাগৃহ, ফিল্ম লাইব্রেরি, আর্কাইভ, প্রদর্শনীর জায়গা। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার: পুরো স্ট্রাকচারটাই তৈরি হয়েছে, মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছে— জলের মাঝখানে। এটা নাকি ফ্রান্সের প্যারিস শহরের ‘সিনেমাথেক’-এর অনুকরণে। ‘সিনেমাথেক’ তো আর দেখিনি, কিন্তু আমাদের কলকাতা শহরে এ রকম অন্য রকম একটা স্থাপত্য হচ্ছে ভেবেই সিনেমাপ্রেমী আমাদের দারুণ উত্তেজনা হচ্ছিল।

আমার কাছে সে দিন কোনও প্রবেশপত্র ছিল না। তাই রাস্তার উলটো দিকে দাঁড়িয়েই দেখছিলাম যতটুকু দেখা যায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। নন্দন-এর দোতলায় তখন শুধু মুহুর্মুহু ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি। মানুষের ভিড় খুব ছিল ঠিকই, কিন্তু আজকালকার মতো নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি তখন ছিল না। বেশ দেখতে পাচ্ছিলাম তাই, অসুবিধে হচ্ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তো ছিলেনই, ছিলেন সত্যজিৎ রায়, বিজয়া রায়, গীতা সেন, মৃণাল সেন, হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের মতো তাবড় চলচ্চিত্র-ব্যক্তিত্ব। ‘নন্দন’ লেখা ফলকের সামনের পরদা সরিয়ে উদ্বোধন করেন সত্যজিৎ রায়। ‘বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ক্রমবিকাশ’ নিয়ে একটা এগজিবিশন হয়েছিল, সেটা উদ্বোধন করলেন মৃণাল সেন। পর দিন আনন্দবাজার পত্রিকা রিপোর্ট করেছিল সত্যজিতের বক্তব্য: ‘যাঁরা ভাল ছবি নিয়ে চিন্তা করেন, যাঁরা ভাল ছবি দেখার সুযোগ পান না, ভাল ছবিকে শ্রদ্ধা করেন,... তাঁদের কাছে নিশ্চয় আজকের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

উদ্বোধনের পর পুরো এক সপ্তাহ জুড়ে ছিল সেমিনার আর দারুণ সব ছবির শো। আস্তে আস্তে ফিল্ম সোসাইটির শো’ও নন্দন-২, ৩-এ হতে শুরু করল। নানা সংস্থাও এখানে অনেক ছবির শো দর্শকদের বিনামূল্যে দেখাতে শুরু করল। ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অব ইন্ডিয়া প্রতি বুধবার একটা শো করত, বিশ্বের ক্লাসিক সব ছবি নিয়ে। সেই শো তারা শিশির মঞ্চ থেকে সরিয়ে আনল নন্দন-২’এ। ইন্ডিয়ান প্যানোরামা-ও তাদের ছবির প্রদর্শন শুরু করল এখানে। তখন টিকিটের দাম ছিল ৩, ৪, ৫ আর ৬ টাকা। এত দিন সিনেমাপ্রেমী সাধারণ মানুষ যে-সব ছবি দেখার কথা ভাবতে পর্যন্ত পারতেন না, সেগুলো দেখার সুযোগ এসে গেল হাতের মুঠোয়। ব্যাপার এমন দাঁড়াল, ভাল ছবি দেখার একটাই জায়গা, ‘নন্দন’!

প্রান্তিক সান্যাল, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড, কলকাতা

আশির দশকের কোনও ঘটনার সঙ্গে নাড়ির যোগ আছে?
লিখুন এই ঠিকানায়: হ্যালো 80’s, রবিবাসরীয়, আনন্দবাজার পত্রিকা,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০ ০০১। বা, লেখা pdf করে পাঠান
এই মেল-ঠিকানায়: robi@abp.in

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য ১০ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করল কেন্দ্র। কার্যকরী হবে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ফারাক দাঁড়াল পুরোপুরি ৫০০ শতাংশ। রাজ্য সরকারি কর্মীদের দুর্দশা পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপনেও প্রকট। আজকাল বেশির ভাগ ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপনে দেখা যায় ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী ছাড়া যে কোনও চাকুরিজীবী কাম্য।’ কেন্দ্রের ডিএ বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে, রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সভাপতি বলেন, ‘আমরা প্রতিক্রিয়া জানানো বন্ধ করে দিয়েছি। তা ছাড়া বেশির ভাগ কর্মচারী ভুলেই গেছে ডিএ জিনিসটা কী।’ এ দিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এই বঞ্চনার কথা বললে তিনি বললেন, ‘আমরা কোনও বঞ্চনা করছি না। বেতন যেমন কম দিচ্ছি, তেমনই কাজও কম করাচ্ছি। ছুটির সংখ্যা বাড়িয়ে আমরা কর্মদিবস প্রায় এক-চতুর্থাংশ করে দিয়েছি।’ তিনি আরও জানালেন, কর্মচারীদের কথা সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার একগুচ্ছ সুবিধা কর্মচারীদের দেওয়ার কথা ভাবছে। যেমন, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ঘুষ খাওয়ার অধিকার আইনসিদ্ধ করা হবে। সরকারি অফিসের কাছাকাছি কোনও প্রাইমারি বা হাইস্কুল থাকলে, কর্মীরা টিফিন আওয়ারে সেখানে গিয়ে মিড-ডে মিল খেতে পারবেন, এতে এক বেলা খাওয়ার খরচ সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া প্রত্যেক রাজ্য সরকারি কর্মচারীকে বিপিএল কার্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়াও কর্মচারীরা ইচ্ছা করলে সরাসরি সিন্ডিকেট ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও কর্মচারী মহল খুশি হতে পারছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন চাকুরে জানালেন, যে সব কর্মীদের ঘুষ খাওয়ার কোনও সুযোগ নেই, তাদের ঘুষ খাওয়ার অধিকার পেয়ে কী লাভ? তাই, যাদের ঘুষ খাওয়ার কোনও সুযোগই নেই, তাদের বরং আরও বেশি ছুটি দিয়ে পুষিয়ে দেওয়া হোক।



ঝর্ণা সরকার, সুতির মাঠ, বহরমপুর

লিখে পাঠাতে চান ভবিষ্যতের রিপোর্ট? ঠিকানা:
টাইম মেশিন, রবিবাসরীয়, আনন্দবাজার পত্রিকা,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০ ০০১। অথবা pdf করে পাঠান এই মেল-ঠিকানায়: robi@abp.in



আরও পড়ুন

Advertisement