×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৪ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

চুয়ান্ন

স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
২৫ জুলাই ২০২০ ২৩:৪০
ছবি: অমিতাভ চন্দ্র

ছবি: অমিতাভ চন্দ্র

পূর্বানুবৃত্তি: পুঁটির বোন তিতি ধরে ফেলে এনার সঙ্গে ব্রেকআপ হয়েছে বলেই পুঁটি এ রকম মনমরা। স্বভাবে ধার আনতে রিজু পরামর্শ দেয় গুটখা ধরার। বাগালের সঙ্গে মিটিং হয় পুঁটির। চারটে প্রজেক্টের মধ্যে দুটোর কাজ তিনি ওদের কোম্পানিকে দিতে চান। ওদের কাজের পারফরম্যান্স এবং কোম্পানির গুডউইল বাগালের পছন্দ হয়েছে। তাই উনি টেকনিক্যালি সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অজানা কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে যাতায়াত করছে চন্দন সিংও। 

আমি এক বার বড় ঠাকুমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘‘আচ্ছা তোমরা যে এত পুজো করো, তাতে তো মন শান্ত আর শুদ্ধ হওয়ার কথা! কিন্তু টুংটুং করে ঘণ্টা বাজানো শেষ হলেই আবার এমন করে সংসারে ঝাঁপিয়ে পড়ো কেন? একটুও কি বৈরাগ্য আসে না?’’

‘‘আমরা বৈরাগী হলে তোদের সবার ঘটিবাটি বিক্রি হয়ে যাবে রে জানোয়ার! দু’দিনের ছেলে জ্ঞান দিচ্ছে! যা নিজের কাজে... যেমন তিনটে বৌ এনেছে, তারা সব ছানাও দিয়েছে তেমন!’’

Advertisement

ছানা দিয়েছে! আমার নিজেকে কেমন যেন বিড়ালের বাচ্চা মনে হয়েছিল! আসলে আমার জেঠিমা, মা আর কাকিমা তিন জনেই খুব শান্ত স্বভাবের। হাসিখুশি। সেখানে আমার ঠাকুমারা হিটলার, মুসোলিনি আর তোজোর কম্বিনেশন।

আমি জানি তিতির কথা না মানলে কপালে দুঃখ আছে। 

বারান্দায় মেলা তোয়ালেটা নিয়ে আমি স্নানঘরে ঢুকে গেলাম।

আয়নায় নিজেকে দেখে কেমন যেন ভিন গ্রহের প্রাণীর মতো লাগল আমার। দাড়ি বড় হয়ে গিয়েছে বেশ। চুলও বড় হয়েছে। চোখেমুখে কেমন একটা মেলায়-হারিয়ে-যাওয়া ভাব। ইস! এটা আমি তো? এক জন চলে গিয়েছে বলে আমার এই হাল! আচ্ছা, যে আমার সঙ্গে থাকতে রাজি নয় তার সঙ্গে থেকে আমিও তো ভাল থাকব না। প্লাস, যে থাকতে চাইছে না তাকে জোর করে আটকে রাখারও তো মানে হয় না। যেখানে এত মন কষাকষি, ঝগড়া, বাগবিতণ্ডা, বিরক্তি, সেখানে পরিস্থিতি তো আসলে যুদ্ধের! প্রেম তো নেই-ই! কার জন্য আমি কষ্ট পাচ্ছি? যে আমায় পাত্তা দেয় না তার জন্য? তার জন্য এমন ন্যালাখ্যাপা হয়ে যাচ্ছি? নাঃ, এ তো ভাল কথা নয়!

আচমকা আমি নিজের ভিতরে একটা জোর পেলাম। তিতির ভোকাল টনিকটা ভাল কাজ করেছে! নিজেকে সত্তর দশকের ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের প্লেয়ার মনে হচ্ছে! 

মনে পড়ল, আজ এনার চলে যাওয়ার তেরোতম দিন। তেরো, থার্টিন, আনলাকি থার্টিন। একেই লাকি বানাতে হবে আমায়। আজ থেকেই আমি ঘুরে দাঁড়াব। তিতি ঠিক বলেছে। আমার একার যে ব্রেক আপ হল তা তো নয়। যুগ যুগ ধরে মানুষের আর কিছু না হোক, ব্রেক আপ ঠিক হয়েই এসেছে। আমাকে সত্যি এই সব থেকে ‘গ্রো’ করে বেরিয়ে যেতে হবে। ফলে আজ থেকে আর কোনও দুঃখ-কষ্ট নয়। অনেক হয়েছে। এখন শুধু মনের জোর রাখতে হবে। ব্যস। 

আমি মনে মনে একটা দেওয়াল গাঁথলাম। তার ওই পারে যে পৃথিবী, সেখানে ওই এনা না কে একটা মেয়ে আছে না, তাকে রেখে দিলাম! মনে মনে ভাবলাম, এই প্রাচীর চিনের প্রাচীরের চেয়েও জোরদার, একে কেউ ভাঙতে পারবে না।

আমি দাড়ি কামালাম যত্ন করে। ভাল করে ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলাম। তার পর বেশ অনেক ক্ষণ ধরে স্নান করলাম।

সব সেরে ঘরে এসে ভাল করে আফটার শেভ লাগালাম। চুল আঁচড়ালাম। তার পর পাট ভাঙা পাজামা-পাঞ্জাবি বার করে পরে নিলাম। আঃ, মনটা অনেক ভাল লাগছে এখন। ফ্রেশ লাগছে। এনার কথা বার বার মনে আনার চেষ্টা করছে মাথার ভিতরের দুঃখবিলাসী পুঁটিটা, কিন্তু মানুষ ঠিক যে ভাবে নানা তীর্থক্ষেত্রে পাণ্ডাদের কাটিয়ে বেরিয়ে যায়, আমিও সে ভাবে ওই মনে পড়াটাকে কাটিয়ে কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি।

ভিজে তোয়ালে হাতে আমি বারান্দায় গেলাম মেলব বলে, আর ঠিক তখনই দেখলাম সিঁড়ি দিয়ে সাবু উঠে এল।

চোয়াল শক্ত করলাম আমি। এই মেয়েটাকে আমি এত দিন এড়িয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আর পারলাম না।

সাবুকে সকালের আলোয় বেশ ভাল লাগছে দেখতে। একটা লেবু-হলুদ রঙের কুর্তি পরেছে ও। ছোট চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছে। মুখে আলো এসে পড়ায় বাদামি চোখগুলো সামান্য কুঁচকে আছে। ঠোঁটের উপরের ফুলস্টপের মতো মধুবর্ণ তিলটা আজ যেন বেশি করে চোখে পড়ছে!

আমার আচমকা কার্বন পেপারে মোড়া একটা সন্ধেবেলার কথা মনে পড়ে গেল।

‘আঃ, আবার ওই দিকে কেন!’ নিজেকে ধমক দিয়ে আমি নাইলনের দড়িতে তোয়ালেটা মেলে দিলাম।

‘‘পুঁটি,’’ সাবু সামনে এসে দাঁড়াল। কেমন একটা ইংলিশ ল্যাভেন্ডারের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল চার দিকে।

আমি বললাম, ‘‘কেমন আছিস?’’

সাবু ভাল করে তাকাল আমার দিকে। তার পর বলল, ‘‘দাড়ি কামিয়েছিস আজকে? গুড। শোন না একটা কথা ছিল। জানি তুই আমায় অ্যাভয়েড করছিস, তাও... কাজের কথা বলতেই এসেছি।’’

‘‘কী সব বলছিস!’’ আমি হেসে ব্যাপারটা হালকা করার চেষ্টা করলাম।

সাবু বলল, ‘‘আমি কি বুঝি না? আমি কি গাধা! একটা মেয়ে... ফালতু মেয়ে চলে গিয়েছে, বলে তুই আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলি। যেন আমি বলেছিলাম ওকে তোর কাছ থেকে চলে যেতে!’’

আমি বললাম, ‘‘এনা এনশিয়েন্ট হিস্ট্রি! আমি সামলে নিয়েছি। আর চাপ নেই। বল কী বলবি!’’

‘‘সত্যি!’’ আচমকা সাবুর মুখটা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তার পর সাবু নিজেকে দ্রুত গুটিয়ে স্বাভাবিক করে নিল।

আমি মুখ ঘুরিয়ে বাইরের দিকে তাকালাম। আমগাছটা কী সবুজ আর ঝাঁকড়া। রোদ এসে পড়ায় চকচক করছে।

সাবু পিছন থেকে বলল, ‘‘সে দিন জানিস, এনা ডেকেছিল আমায়। লেক রোডের কাফেতে। ওর সঙ্গে একটা ছেলে ছিল। বয়ফ্রেন্ড। তা আমায় বলল...’’

লেক রোড! বয়ফ্রেন্ড! বুকের মধ্যে বিশাল বড় একটা ট্রাক যেন কন্ট্রোল হারিয়ে হাইওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে পড়ল পাশের খালে! আমার চোখের সামনে হলুদ দুটো পাখি কোত্থেকে উড়ে এসে বসল গাছের ডালে। তার পর লজ্জা শরমের বালাই না রেখে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমু খেতে লাগল।

সাবু কিছু বলছে। কিন্তু আমার কানে কিছুই ঢুকছে না! মাথার ভিতরটা আবার ঝাঁ-ঝাঁ করছে। গলা শুকিয়ে আসছে। সারা শরীরে লোডশেডিং নেমে আসছে। এনা আমায় ছেড়ে অন্য ছেলের সঙ্গে ঘুরছে! লেক রোডের কফি শপে তো আমরা যেতাম। সেখানে অন্য ছেলের সঙ্গে...

আমি ভাবতে পারছি না। পায়ের তলার পৃথিবী আর মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ছে। এই জন্য, কেবল মাত্র এই জন্য সাবুকে আমি এড়িয়ে যাচ্ছিলাম। ও কেন এসেই এনার কথা বলে? আমি কি জানতে চেয়েছি? আমার যে কষ্ট হচ্ছে!

আমি বুঝতে পারলাম, চিনের সেই আসল প্রাচীর আর আমার মনের এখনকার চিনের প্রাচীর এক নয়। আমার মনের প্রাচীরটা, বাগরি মার্কেটের সস্তার চাইনিজ় মাল। একটা নামের ছোঁয়াতেই ভেঙে গেল! 

আমার মনে পড়ল আজ এনার ছেড়ে যাওয়ার তেরোতম দিন। থার্টিন্থ ডে। আনলাকি থার্টিন! বুঝলাম মনখারাপের সৈন্যসামন্তরা কিছু ক্ষণ গা ঢাকা দিয়েছিল মাত্র। এ বার তারা আরও লোক-লশকর জুটিয়ে এনে দ্বিগুণ উদ্যমে ফের ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরীহ পুঁটির উপর!  

মানে, আমার উপর! 

দেখলেন তো এত দুঃখ আমার যে, গল্প বলতে গিয়ে ফার্স্ট পার্সন, থার্ড পার্সন পর্যন্ত গুলিয়ে যাচ্ছে!

সাবু

‘‘লোকটা জাত ঢ্যামনা। তুই সাবধানে থাকবি কিন্তু!’’ নেপালদা কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল কথাটা। 

এমন করে কানের কাছে কেউ মুখ নিয়ে কথা বললে আমার খুব সুড়সুড়ি লাগে। মনে হয় ঘাড়ের কাছে কে যেন কালোজিরের মতো দেখতে পিঁপড়েগুলো ছেড়ে দিয়েছে।

আমি বললাম, ‘‘সে ঠিক আছে, আমি দেখে নিচ্ছি। তুমি টেনশন কোরো না তো।’’

এখানে বলে রাখা দরকার যে, টেনশন করার জন্য সরকার যদি কোনও খেতাব-টেতাব দিত, তবে নেপালদা সেটা প্রতি বছর পেত!

মাথার উপর ফ্যান ঘুরতে ঘুরতে একটু কাঁপছে, ব্যস নেপালদার টেনশন শুরু হয়ে গেল, নির্ঘাত ফ্যানটা খুলে মাথায় পড়বে। গাড়ি চল্লিশের বেশি স্পিডে চলছে, নেপালদা একদম শিয়োর যে, গাড়িটাকে ধাক্কা লেগে উলটে যাওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না। কেউ প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছে, নেপালদা নিশ্চিত তার বাড়ির বাচ্চাটি সেটা নিয়ে খেলতে খেলতে মাথায় জড়িয়ে নির্ঘাত মারা পড়বে।

পৃথিবীতে এমন কিছু নেই, যা নিয়ে নেপালদা টেনশন করে না! এমনকি বৌদি, মানে নেপালদার বৌ আমায় বলেছে, ‘‘জানো তো, রোজ ভাত দেওয়ার পরে তন্নতন্ন করে দেখবে সেটায় পেরেক আছে কি না! আর রাতে রুটির সঙ্গে ডাল দিলে, ডালের বাটিতে একটা ছোট চুম্বক ডুবিয়ে নাড়ায়। পেরেক থাকলে বেরিয়ে আসবে বলে! ভাবো, কার সঙ্গে আমি থাকি!’’

নেপালদা পাশেই ছিল। ফোঁস করে বলেছিল, ‘‘তুমি তো সব জানো! ছোটবেলায় আমাদের পাশের বাড়ির দিলীপকাকু ভাতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পেরেক গলায় আটকে মারা গিয়েছিল, জানো!’’

আমি সেটা শুনে খুব নিরীহ মুখ করে নেপালদাকে বলেছিলাম, ‘‘চুম্বক দিয়ে না-হয় পেরেক উঠল। কিন্তু নেপালদা, ডালে যদি শার্প কাচের টুকরো থাকে? তা হলে?’’

নেপালদার চোখ গোলগোল হয়ে গিয়েছিল, ‘‘এটা তো ভাবিনি? তা হলে?’’

বৌদি মাথা নেড়ে বলে উঠেছিল, ‘‘সর্বোত্তমা প্লিজ়, তুমি আর সাঁকো নাড়াতে বারণ কোরো না।’’

আমাদের এলাকার এক জন হাফ-নেতা গোছের লোক আমাদের ডেকে পাঠিয়েছে আজ। আমাদের এনজিও-র ‘ফুড ব্যান্ডিট’ উইংটার একটা ছোট্ট অফিস আছে বিধান সরণিতে। সেখানে মূলত নেপালদা থাকে। আর রাধু বলে একটা ছেলে ওই চা, ফোটোকপি ইত্যাদি করে দেয়। এ ছাড়াও আরও দশটা ছেলে আছে। নানা জায়গা থেকে খাবার তোলার সময় ওরা যায়।

আমাদের ওই অফিসে গতকাল এলাকার একটা পার্টি অফিস থেকে খবর দেওয়া হয়েছিল, আমরা যেন গিয়ে দেখা করি ওদের সঙ্গে। কেন দেখা করতে যাব সেটা যদিও বলে যায়নি!

এটা নিয়েও নেপালদা খুব টেনশন করেছিল। নানা থিয়োরি দিচ্ছিল। কিন্তু আমি শুনিনি। দেখা করতে যেতে বলেছে যখন, দেখা করে এলেই ল্যাঠা চুকে যায়। অত ভেবে কী করব!

‘ফুড ব্যান্ডিট’-এর হয়ে আমাদের প্রধান কাজ হল কলকাতায় যে সব অনুষ্ঠান বাড়ি থাকে, তাদের কোনও অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া বাড়তি খাবার সংগ্রহ করা এবং সেগুলো নিয়ে কলকাতার ফুটপাতে থাকা প্রান্তিক মানুষজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

তবে হ্যাঁ, খাবারগুলো অবশ্যই ফ্রেশ হতে হবে। কারও পাতের এঁটো যেন না হয়। আমরা দেখেছি যে, আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ অকারণে অনেক খাবার নষ্ট করে। আমি পড়েছি, সারা পৃথিবীতে যে খাবার তৈরি হয়, তার এক তৃতীয়াংশই না কি নষ্ট হয়! টাকার হিসেবে যার দাম এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এ ছাড়াও একটা জার্নালে আমি পড়েছি যে, ইউনাইটেড নেশন্‌স-এর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের নিরিখে, ভারতে উৎপন্ন খাবারের প্রায় চল্লিশ শতাংশ নষ্ট হয়। আর আমাদের কৃষি মন্ত্রকের হিসেবে, পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার খাবার আমাদের দেশে প্রতি বছর নষ্ট হয়। ভাবলে অবাক লাগে কী সব হয়ে চলেছে চার দিকে! অথচ কৃষি ও খাদ্য সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, আমাদের দেশে চোদ্দো দশমিক পাঁচ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিটুকু পায় না!

এই বিপুল পরিমাণ খাদ্য যে নষ্ট হয়, তার জন্য তিনশো মিলিয়ন ব্যারেল তেল আর সারা পৃথিবীর পরিশোধিত জলের পঁচিশ শতাংশ নষ্ট হয়। মানুষ বোঝে না যে একটা দেশ শুধু এর জন্যই কতটা পিছিয়ে যেতে পারে!

‘ফুড ব্যান্ডিট’-এর হয়ে আমরা যতটা পারি চেষ্টা করছি বাড়তি খাবার সংগ্রহ করে ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। আর শুধু কলকাতাতেই নয়, উত্তরবঙ্গেও আমরা ব্রাঞ্চ খুলব। সেই জন্য নেপালদা গিয়েওছিল সেখানে কথাবার্তা বলে আসতে।

কিন্তু আমাদের সঙ্গে পলিটিকাল লোকের কী দরকার?

আমি একাই উঠে গেলাম। যে হাফ-নেতা ডেকেছে, সে নাকি আমার সঙ্গে কথা বলতে চায় শুধু। নেপালদার সঙ্গে নয়।

পার্টি অফিসটা বেশি বড় নয়। তবু তার মধ্যেই একটা আলাদা ঘর করা হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম আর ঘষা কাচ দিয়ে।

ঘরে ঢুকেই বেশ ঠান্ডা লাগল আমার। দেখলাম এসি চলছে আঠেরোয়!

ক্রমশ

Advertisement