প্রবাসী ইরানিদের এ বার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল তেহরান। আমেরিকা বা ইজ়রায়েলকে সমর্থন করলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হবে। প্রবাসীদের মধ্যে কারা ‘শত্রুপক্ষ’কে সমর্থন করছেন, তা-ও চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে বলে দাবি ইরানের।
গত কয়েক মাস ধরেই প্রবাসী ইরানিরা নিজেদের দেশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছেন। এমনকি আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং আমেরিকায় প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সোমবারই খামেনেইয়ের উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করেছে ইরান। নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে খামেনেই-পুত্র মোজতবা খামেনেইকে। তার পর পরই প্রবাসী ইরানিদের সাবধান করে দিল তেহরান।
ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেলের দফতর থেকে বলা হয়, “বিদেশে বসবাসকারী ইরানিদের অনেকেই বিভিন্ন ভাবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলি শত্রুদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাঁরা শত্রুদের সমর্থন করছেন বা সহযোগিতা করছেন। তাঁদের জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করা হচ্ছে। ওই প্রবাসীদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক পদক্ষেপও করা হবে।”
আরও পড়ুন:
তেহরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি ইরানি বর্তমানে বিদেশে বাস করেন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই থাকেন আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপে। রয়টার্স জানাচ্ছে, টেলিগ্রামে বেশ কিছু নতুন চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে বসবাসকারী ইরানিদের তথ্য সংগ্রহ করছে তেহরান। বিশেষ করে যাঁরা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের তথ্যের দিকে জোর দিচ্ছে ইরান।
গত ডিসেম্বরে খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ইরানে। সেই গণবিক্ষোভ ঠেকাতে কঠোর দমনপীড়নের পথে হাঁটে খামেনেই প্রশাসন। সম্প্রতি আমেরিকায় বসবাসকারী ইরানের নাগরিকেরা খামেনেইয়ের মৃত্যুতে উচ্ছ্বাসপ্রকাশ করেছেন। আমেরিকায় লস অ্যাঞ্জেলস শহরে সবচেয়ে বেশি ইরানির বাস। সেখানে আমেরিকা এবং ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে উৎসবে মাতেন অনেকে। তাঁদের মুখে ছিল ‘মেক ইরান, গ্রেট এগেন’ স্লোগান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
মার্কিন আইনসভায় জোর ধাক্কা ট্রাম্পের! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষমতা ‘খর্ব’ করতে প্রস্তাব পাশ, দ্রুত বাহিনী সরানোর নির্দেশ
-
মোজতবা জীবিতই, শান্তিচুক্তির আলোচনাতে যোগও দিচ্ছেন! দাবি রুবিয়োর, ইরানের উপর বিধিনিষেধ কি তুলবেন ট্রাম্প?
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র