Advertisement
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
ছোটগল্প
Short story

পরম্পরা

ফটিকের একমাত্র ছেলে মিলন। বয়স দশ-বারো বছর। বড় উড়নচণ্ডে। পড়াশোনায় মন নেই। তবে মাটি ঘাঁটার নেশাটা খুব। ঝাঁকা মাথায় নিয়ে হাঁটে ফটিক। হাঁটুর উপর লুঙ্গি, গায়ে একটা ফতুয়া।

ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ

ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ

অলোক মুখোপাধ্যায়
কলকাতা শেষ আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৮:২৫
Share: Save:

এবারেও প্রত্যেক বারের মতো ফটিক পয়লা বৈশাখের আগে বেশ কিছু গণেশ মূর্তি বিক্রি করেছে। মাটির মূর্তি গড়ে জীবিকা নির্বাহ এবং পূর্বপুরুষের শিল্পধারা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে চলে ফটিক। ছাঁচে ঢেলে গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীর মূর্তি তৈরি করে।

আজকের বাজারে যা দু’-একটা গণেশ-লক্ষ্মীর মূর্তি পড়েছিল, তা ঝুড়ির ভিতর সাবধানে বসিয়ে গোছগাছ করে ছেলেকে বলে, “চল বাবা, আর বিচাকিনা হবেক না।”

ফটিকের একমাত্র ছেলে মিলন। বয়স দশ-বারো বছর। বড় উড়নচণ্ডে। বাবার পায়ে পায়ে ঘোরে। পড়াশোনায় মন নেই। তবে মাটি ঘাঁটার নেশাটা খুব। ঝাঁকা মাথায় নিয়ে হাঁটে ফটিক। হাঁটুর উপর লুঙ্গি, গায়ে একটা ফতুয়া। গামছা ভাঁজ করে কাঁধে ঝোলানো।

ঠা-ঠা রোদে অনেকটা পথ হাঁটতে হবে ওদের। পথে খিদেও পায়। হাট থেকে বেরোনোর সময় চপ-মুড়ি খেয়েছে। তার পর থেকে এক কাপ চা-ও জোটেনি ফটিকের। বেলা গড়িয়ে চারটে বেজে গেছে। তবুও রোদের তেজ যেন কমতে চায় না। চলতে চলতে টুকটাক কথা হয়বাপ-বেটার।

“তাড়াতাড়ি পা-চালা। দু’টো নদী পেরোতে হবেক।”

কথায় কথায় নদীর কিনারা এসে যায়। অজয়ের চেহারাটা এই সময় যেন অন্য রকম। শুধু বালি আর বালি। এক চিলতে ক্ষীণ স্রোত কখনও মাঝখান দিয়ে, কখনও বা এক ধার দিয়ে বয়ে চলে। কোথাও হাঁটুজল, কোথাও তারও কম। বালির উপর দিয়ে তিরতির বয়ে যায় কাচের মতো স্বচ্ছ স্রোত।

পশ্চিমে সূর্য ঢলে পড়েছে। তার রক্তিম আভায় অজয়ের জল যেন রক্তরঞ্জিত হয়ে গেছে। জলে নামার আগে ফটিক ছেলের ডান হাতটা নিজের বাম হাতে শক্ত করে ধরে। তার পর জলের মধ্য দিয়ে ছপছপ করে এগিয়ে যায়, দক্ষিণ থেকে উত্তর-পশ্চিমে। পথটা বেশ চওড়া। হরদম সাইকেল, গরু আর মোষের গাড়ি বোঝাই কয়লা এ সব পথ দিয়েই চলে যায় এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। সারা রাতই গাড়ির চাকার ক্যাঁচ-ক্যাঁচ আওয়াজ আর গাড়োয়ানদের হ্যাট-হ্যাট শব্দ। আর ওদের নিজেদের মধ্যে টুকটাক কথাবার্তা।

নদী পেরিয়ে ফটিক ও পারে ঝাঁকা নামিয়ে একটু জিরিয়ে নেয়। সূর্য ডুবে গেলেও, আলো ফুরোতে এখনও অনেক দেরি। গাঁয়ের মেয়েরা সার বেঁধে নদীতে আসে পানীয় জল নিতে। কাঁখে কলসি আর হাতে একটা বাটি। এই গ্রীষ্মের দিনে এ সব নদীতে খুব কম জল থাকে ঠিকই, কিন্তু এক-দেড় ফুট বালি খুঁড়লেই, পরিষ্কার টলটলে জল বেরিয়ে আসে। জলে খুব ভাল হজম হয়। বালিতে প্রাকৃতিক উপায়েই ফিল্টার হয়ে যায়। ফটিক আবার নদীর কূলে নেমে হাতমুখ ধোয়। কাঁধের গামছা দিয়ে মুখ মোছে। আঁচলা ভরে নদীর জল খায়। আলোআঁধারি আকাশ থেকে ঘরে ফেরা বকের গলা ভেসে আসে।

ফটিকের বৌ কাজল। শ্যামবর্ণা। চোখ দুটো ডাগর। পিঠ ছাপানো চুল। বারান্দায় লণ্ঠন জ্বেলে রেখে, লালপেড়ে শাড়ি পরে, আঁচলটা গলায় জড়িয়ে, তুলসীমঞ্চে প্রদীপ দেখিয়ে প্রণাম সেরে নেয়। শাঁখ বাজায় তিন বার। মিলন খুব ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে ঘরে ফেরে। কাজল দু’জনকে জলখাবার দেয়। জামবাটিতে করে মুড়ি, জলে ভাপা আলু আর কাঁচা লঙ্কা। পরে স্বামীকে ঘরের দুধের চা আর ছেলেকে এক গ্লাস গরম দুধ দেয়, “লে বাবা, খেঁয়ে লে।”

সন্ধে ঘোর হতে না হতেই, মিলন ঘুমে ঢলে পড়ে। কাজল উনুনে ভাত চাপায়। ফটিককে বলে, “সব মাল বিক্রি হনছে?”

“কতক গ্যালা আছে। দেখি, কাল এক বার দুবরাজপুর বাজারে যাব।”

“ছেলেটো ইবার বড় ইসকুলে যাবেক। উর ভর্তি আর বই কিনার টাকাও দরকার।”

ফটিক বৌয়ের কথায় মাথা নেড়ে বলে, “হঁ। বুঝলুম বটে। তবে আজকাল যা যুগ পইড়েছে, তাতে শুধু পড়লেই হবেক না। সঙ্গে হাতের কাজও শিখতে হবেক। না হলে চলবেক না।”

উনানে কাঠ গুঁজে দিয়ে, কাজল মুখ ফিরিয়ে বলে, “ছেলেটোর লিখাপড়াটো তাহাইলে মাথায় উঠবেক বইলছ।”

“মাথায় উঠবেক ক্যানে। মা সরস্বতী মানুষের জিভেই থাকে। জিভেই থাকবেক। জাতব্যবসাটোকে কুনো দিন ঘৃণা করতে নাই বুঝলে। সব সময় তো আর করছে না।বড় হলে, উর অনেক নামডাক হবেক। টিভিতে দিখাবেক। সিটো কী কম কথা!”

ভাত ফুটে গেছে। ভাত নামিয়ে ডাল চাপিয়ে কাজল বলে, “দু’তাল ভাল হয় না, আমি যা বুঝি।”

ফটিক এ বার বৌয়ের মাথাটা শান্ত করতে, টাকা ক’টা কাজলের হাতে গুঁজে দিয়ে বলে, “ই মাসটো তুমি চালায়েঁ লিবে।”

কাজল আঁচল দিয়ে মুখটা মুছে নিয়ে টাকা ক’টা রেখে আসে ঘরে। আবার দু’-চারটে কাঠ গুঁজে দেয় উনুনে। হাঁড়ি থেকে দু’টো বড় বড় সেদ্ধ আলু বার করে জল দিয়ে ঠান্ডা করে। সর্ষের তেল গরম করে, তাতে শুকনো লঙ্কা জিরে মিশিয়ে আলু মেখে আলুচোখা তৈরি করে। স্বামীকে খেতে দেয় ডাল ভাত আর আলুচোখা। দু’জনে খেয়ে শুতে যায়। কথায় কথায় রাত বাড়ে। কাজলের নরম শরীরে গা এলিয়ে দেয় ফটিক। কাজলের গায়ে এখনও মাটির গন্ধ। কুমোর বুকভরে শ্বাস টেনে সে গন্ধ নেয়। ইচ্ছেমতো মাটি ছেনে মূর্তি তৈরি করে। মাটি কুমোরের ইচ্ছেতেই সম্পূর্ণতা পায়।

ভোরবেলায় আবার ঝাঁকা মাথায় বেরিয়ে যায় ফটিক। এ বার আর ছেলেকে নেয় না। আজই নববর্ষ। সকাল-সকাল গেলে মাল চারটে বিক্রি করতে পারবে হয়তো। না হলে আগামী বছরের জন্য প্লাস্টিকের প্যাকেটবন্দি করতে হবে। না হলে নষ্ট হয়ে যাবে।

মূর্তি বেচে নগদ চারশো টাকা পেয়ে ফটিকের মেজাজ আজ ফুরফুরে হয়ে ওঠে। কাজলের জন্য নতুন শাড়ি আর মিলনের জন্য জামাপ্যান্ট কেনে। ওরা সবাই খুশি হয় নতুন পোশাক পেয়ে। পয়লা বৈশাখ মানেই হালখাতার নেমন্তন্ন। দু’-একটা কার্ড বাড়িতে আসবেই। শুধু হাতে তো আর যাওয়া যায় না। দুটো দোকানে দশ টাকা করে কুড়ি টাকা দিতে হবে।

ঠিক শুনেছে— কলকাতায় নাকি পয়সা ওড়ে। ধরতে পারলেই হল। বেশ অবাক লাগে মাঝেমধ্যে। ভাবে, যদি কলকাতায় এক বার কেউ নিয়ে যেত। একা একা যাওয়া ঠিক নয়। অনেক অলিগলি রাস্তা। মানুষ হারিয়ে গেলে আর গাঁয়ে-ঘরে ফিরতে পারে না। কারও সঙ্গে গেলে ভয় নেই। এক জনকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে নাকি ভুল বলে দেয়, তাই দু’তিন জনকে জিজ্ঞেস করতে হয়। কলকাতা সম্বন্ধে এ সবই তার শোনা কথা। তবু বড় সাধ হয়, এক বার কলকাতা যেতে। আর একটু বেশি টাকাপয়সার মুখ দেখতে।

গ্রামের পাঁচু অনেক দিন কলকাতায় থেকে ফার্নিচার তৈরির ভাল কাজ শিখেছে। বৌবাজারে কাঠের ফার্নিচারের ভাল ভাল দোকান আছে। ওখানেই কাজ করে এখন। ভাল মাইনে। কালীপুজোতে প্রত্যেক বারই বাড়ি আসে। ছেলেটাকে মিশন স্কুলে রেখে পড়ায়। অনেক খরচ। পাঁচু ফটিকের ছোট বেলার বন্ধু। একই ইস্কুলে পড়ত। যদি সে ওর বাড়িতে আসে, তা হলেও কথাটা তুলবে এক বার। জিজ্ঞেস করবে, পাঁচু কি এক বার ফটিকের কলকাতা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারে না!

ফটিক আর তার ছেলে আজই সকালে দিনকয়েকের জন্য বেরিয়েছে দুর্গাপ্রতিমা গড়ার জন্য। খানপাঁচেক দুর্গা গড়ে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে। ঝোলার ভিতর সব সরঞ্জাম নিয়ে গেছে। রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো তো তাদের বাঁধা। সকাল সকাল বেরিয়েছে। আকাশের রক্তিম আভায় চার দিক উদ্ভাসিত। ভোরের হিমেল হাওয়ায় শিউলির গন্ধ। নদীর দু’কূল কাশফুলে ভরে গেছে। পুজোর আগমনী বার্তায় প্রকৃতি নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে।

মিলন বলে, “বাবা, কাশফুল কী সুন্দর, তাই না!”

“উর গাছও কাজে লাগে ঘর ছাইতে। উতে উই লাগে না।”

একটা ঠাকুরদালানে কাজ শেষ করে। নতুন কাঠামো বানায় খড় ও সুতলি দিয়ে। তার পর ‘একমিত্তিকা’। ছেলেও মাটি লাগায়। বয়স অনুপাতে ওর কাজ ভালই। সব ঘরে একমিত্তিকা হয়ে গেলে, ঘুরে ফিরে আবার ‘দুমিত্তিকা’ করে। বাবুদের ঘরেই ওরা খায়— ভাত, ডাল, কচুর ঝাল আর কুমড়োর ঘ্যাঁট। কচু বীরভূমের প্রিয় খাবার। বাড়ি বাড়ি দু’মিত্তিকার শেষে আবার ঘুরে আসে খড়ি লাগাতে। তার পর রঙ, চক্ষু দান সব শেষ করে বাড়ি ফেরে। আজকাল রঙের খুব দাম। খরচখরচা বাদ দিয়ে ঠাকুরপ্রতি দু’-তিন হাজার টাকার বেশি থাকে না। মহালয়ার আগেইসব কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরে। বৌয়ের হাতে হাজার আষ্টেক টাকা দিয়ে বলে, “এই লাও পুজোর খরচ আর সংসার খরচ।”

কিছু টাকা খরচ করে বাড়িটা চুনকাম করে। দরজায় আলকাতরা লাগায় পুরু করে। আলকাতরার গন্ধ আর নাড়ু আর গুড়ের পাকের চেনা গন্ধে বাতাস ম-ম করে। করোনার ভয় আর তেমন নাই। তাই দুর্গাপুজো ভাল ভাবেই কাটল। বাপ-বেটায় মিলে কালীপ্রতিমাও গড়ে। তাতেও কিছু আয় হয়।

এ বার কালীপুজোয় বেশ শীত পড়েছে। কালীপুজোর পর দিনই পাঁচু এসে হাজির ফটিকের বাড়িতে। ওকে কথাটা বলতেই ও বলে, “শোন ফটিক, যদি যেতে চাস, তো আজই রেডি হয়ে নে। বারোটার গাড়ি ধরব।”

“আজই!” কথা শুনে একটু অবাক হয় ফটিক।

“হ্যাঁ, আজই! মন চাইলে চল। দেরি করলে হবে না। এগারোটার মধ্যেই খবর দিস। সুযোগটা হাতছাড়া করিস না ফটিক। এমন সুযোগ বার বারআসে না।”

মনঃস্থির করতে সময় নেয় না ফটিক। এগারোটার মধ্যে স্নান-খাওয়া সেরে সাড়ে এগারোটায় বেরিয়ে পড়ে। একটা পুরনো থলিতে দু’-একটা জামা আর একটা পুরনো সোয়েটার আর একটা চাদর ভরে নিয়েছে। আর হাতে শ’তিনেক টাকা।

স্টেশন অনেকটা পথ। আলপথ পেরিয়ে পাকা রাস্তা। ট্রেন ফেল করলে আবার সন্ধেয়। ফটিক হাঁটে, কিন্তু ছেলে-বৌয়ের জন্য মনটা হু-হু করে। আসার সময় ছেলের সঙ্গে দেখা করে আসাও হল না। সে মামার বাড়ি বেড়াতে গেছে। বার বার কেন যেন মনে হচ্ছে, টাকাই জীবনের সব নয়। পা-দুটো কে যেন পিছনের দিকে টানছে। কলকাতায় গিয়ে তো ইটের পাঁজর আর লোহার খাঁচায় বন্দি জীবন! পাখি গান গাইতে ভুলে যাবে। উড়তেও ভুলে যাবে এক দিন।

ও দিকে কালীপুজোর কয়েক দিন আগে মিলন মামাবাড়ি গিয়েছিল কয়েকটা দিন থাকবে বলে, কিন্তু মনটা চঞ্চল হওয়ায়, কালীপুজোর পরের দিনই বাড়ি চলে আসে মিলন। এসেই মা-র কাছে শোনে, বাবা চলে গেছে ট্রেন ধরতে, কলকাতা যাবে বলে। আকাশ থেকে পড়ে মিলন। ও এ সবের কিছুই জানত না। ওর মা বলে, “কলকাতা গেছে কাজের খোঁজে। এখানে ভাল টাকা রোজগার হচ্ছে না। আগামী দিনে তোকে ভাল ইস্কুলে ভরতি করাতে হবেক। অনেক টাকা দরকার। তোর পাঁচুকাকার সঙ্গে গেছে। কাজ পেলে মাসছয়েক ঘরকে আসবেক না।”

এ কথা শুনে, মিলনের মনটা হু-হু করে ওঠে। বাবা কাছে না থাকলে, ওর পড়াশোনা হবে কি না জানে না, কিন্তু তার ঠাকুর গড়া! বাবার সঙ্গে মাটির কাজ না করলে সে শিখবে কী করে! বাবা তাকে ছাড়া একা একা ঠাকুর গড়বে! তা কী করে হয়! তারা বাপ-বেটায় চেনা চৌহদ্দির মধ্যে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর তৈরি করে— সে খারাপ কী! অজানা অচেনা জায়গায় বাবা যদি হারিয়ে যায়, তখন! কিশোর মিলনের চোখ জ্বালা করে ওঠে। কোনও কথা নয়। দে ছুট আল ধরে। জোরে, আরও জোরে দৌড়য়। ট্রেন ঢুকে যায়।

মিলন দেখে, তার বাবা ট্রেনের সিঁড়িতে পা রেখেছে। পাঁচুকাকা হয়তো আগেই উঠে পড়েছে। জোরে ডাক দেয়, “বাবা-আ-আ! যেয়ো না, ফিরে এসো। আমাদের টাকা চাই না। তোমাকে চাই বাবা। শুধুই তোমাকে।”

কথাটা কানে যেতেই ফটিক ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে, মিলন হাত নেড়ে ডাকছে। ছেলের কাঁদো-কাঁদো মুখ দেখে ভিতরটা তোলপাড় করে ফটিকের। সন্তান যদি দুঃখ পায়, তা হলে কী হবে বেশি রোজগারে! ফটিক বলে, “পাঁচু, আমি কলকাতা যাব না। তুই যা। আমি ঘরকে চললুম।”

কথাটা শুনে পাঁচু অবাক হয়। ট্রেন থেকে নেমে যায় ফটিক। ট্রেন ধীরে ধীরে গতি বাড়িয়ে প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে। তার পর একটু একটু করে মিলিয়ে যায়।

মিলন বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে, “ঘরকে চলো বাবা। আমরা দু’জনে মিলে ঠাকুর গড়ব। আমরা কোথাও যাব না বাবা। আমরা এখানেই থাকব... যে ইস্কুলে পারবেভর্তি করতে, সেই ইস্কুলেই পড়ব। কিন্তু আমাদের মাটির কাজ বন্ধ হবে না বাবা...”

ফটিকের চোখের দু’ফোঁটা উষ্ণ নোনা জল মিলনের পিঠে পড়ে সবার অলক্ষে! ফটিকের মনে হয়, মিলন যেন হঠাৎ বড় হয়ে গেছে! খু-উ-ব বড়! বড় আনন্দ হয় তার! মনে হয়, মাটির টান রক্তের টানের চেয়ে একটুকু কম নয় কোথাও।

কাজল চেয়ে থাকে দূর দিগন্তের শেষে। সূর্য মধ্যগগন অতিক্রম করেছে কিছু ক্ষণ আগেই। আকাশের একটা চিলের ডাক দুপুরের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে কাজলের মর্মস্থল ভেদ করে… দূরে আবছায়া ভেসেওঠে বাবা-ছেলের মূর্তি। তারা ঘরের দিকে আসছে। নিজের অজান্তেই ম্লান হাসি ফুটে ওঠে কাজলেরঠোঁটের কোণে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.