সতেরো আঠেরো বছর বয়স থেকেই ‘ঠাকুমা-দিদিমা’দের সঙ্গে যৌনতায় বাড়তি আগ্রহ ওয়েন রুনির! অন্তত পয়সা খরচ করে যৌনতা কিনতে গেলে, বয়সের ফারাকটুকুই হয়তো ব্রিটিশ এই স্ট্রাইকারের প্রাথমিক চাহিদা।
রুনি তখন এভার্টনে। ইংল্যান্ড তো বটেই, গোটা ফুটবলবিশ্বই তাকিয়ে এই উঠতি তারকার দিকে। বান্ধবী কোলিন ম্যাকললিন-এর সঙ্গে প্রেমও তখন সবে জমে উঠছে। এ সময়ই লিভারপুলের এক মাসাজ পার্লারে ঘন ঘন রুনিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে তাঁর যৌবনের খিদে। বিগতযৌবনা, বছর পঞ্চাশের এক ঠাম্মাকেই নাকি তাঁর মনে ধরে! প্যাট্রিসিয়া টিয়েরনি, লোকে ডাকত ‘অল্ড স্ল্যাপার’, মানে করলে দাঁড়ায় ‘বেবুশ্যে বুড়ি’। হ্যঁা, তখন সেই মহিলার সাত-সাতটি সন্তান, ষোলোটি নাতি-নাতনি! তাঁর জন্যই পঁয়তাল্লিশ পাউন্ড রেটে অন্তত বার দশেক সেখানে ঢুঁ মারেন রুনি। এমনও হয়েছে, পার্লারে রুনি ছটফট করছেন কখন নিজের পালা আসবে, সে সময় তাঁকে অটোগ্রাফের খাতা বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর মতোই ‘কাম-কাজ’ সারতে আসা অন্য কাস্টমার! এক বার তো রুনি যখন চূড়ান্ত অবস্থায়, হঠাত্ই পার্লারের বাইরে তাঁর নামে স্লোগান দিতে থাকেন জনা তিরিশেক এভার্টন ফ্যান! রুনিকে অবশ্য এ সব টলাতে পারেনি। ‘দ্য সান’ পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হলে, টিয়েরনি মিথ্যাচারের মামলা করেছেন, যদিও তা ধোপে টেকেনি; কিন্তু রুনি অস্বীকার করেননি, কেবল ‘ছেলেবেলার বোকামি’ বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। টিয়েরনি বলেছেন, রুনি দ্বিতীয় বার পার্লারে আসামাত্রই নাকি তিনি রুনিকে তাঁর ফুটবল কেরিয়ারের দোহাই দিয়ে বকাবকি করে তাড়িয়ে দেন। এমনকী টিয়েরনির মেয়েও চিঠি লিখেছেন রুনির স্ত্রীকে ‘আমার মা কক্ষনও রুনির সঙ্গে শোননি।’ সততায়, নাকি আরও জলঘোলা হওয়ার আশংকায় নীরব থেকেছেন রুনি, ‘শেম’ সাইড করতে সেম-সাইড করে বসেননি।
এমনই আর এক লোলচর্ম মহিলা শার্লট গ্রোভার। ১৪০ পাউন্ডের বিনিময়ে নাকি কলঘর পর্যন্তও রুনির সঙ্গিনী হয়েছিলেন এই বৃদ্ধা। কেরিয়ারের শুরু থেকেই কনিষ্ঠ হিসেবে অনেক রেকর্ড এই প্রতিভাবান স্ট্রাইকারের দখলে, তা সে মাঠেই হোক, বা খাটে! ‘বিস্ময় বালক’ রুনির এই প্রবৃত্তিকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘জেরোন্টোফিলিয়া’, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি কামাসক্তি। এ কি তবে ইদিপাসের মাদার কমপ্লেক্স-এরই আর এক কাঠি ওপরে, গ্র্যান্ডমাদার কমপ্লেক্স? রুনি অবশ্য শুধু সেখানেই থেমে থাকলেন না। স্ত্রী কোলিন যখন পাঁচ মাসের গর্ভবতী, সেই সময় তাঁর নজর কাড়লেন বিলিতি বাজারে এসকর্ট সার্ভিসের পরিচিত বদনাম ‘জুসি জেনি’, একুশে পা জেনিফার থম্পসন। আত্মবর্ণনে যিনি: ‘পাঁচ ফুট ছ’ ইঞ্চি, তন্বী, ক্যাথলিক এবং পার্টি গার্ল!’ প্রতি রাতে হাজার পাউন্ড দক্ষিণা। এ হেন উঠতি মডেলকে অবিরাম যৌনগন্ধী এসএমএস পাঠিয়েছেন, গর্ভবতী স্ত্রীকে ঠকিয়ে মাস চারেকের মধ্যে অন্তত সাত রাত স্যালফোর্ডের লওরি হোটেলের বিছানায় হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেছেন ওয়েন রুনি। কিন্তু, কোথাকার বল কোথায় গড়াল! এ সব কেচ্ছা জানাজানি হওয়ায় বিবাহবিচ্ছেদ ঠেকানোই দায় হয়ে পড়েছিল তাঁর। খোয়াতে বসেছিলেন স্পনসরশিপ। জেনিফার নিজে তো বটেই, জেনিফারের বাবা-মা’ও অসহায় কোলিনের উদ্দেশে মিডিয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। নতুন কেলেঙ্কারির খবর পেয়ে এমনকী সেই ‘বেবুশ্যে বুড়ি’ প্যাট্রিসিয়া টিয়েরনিও মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়েছেন হায়, স্বামীর জন্য কোলিনের লজ্জার শেষ নেই! রুনির পরিবারের প্রতি টিয়েরনি আর জেনিফারের করুণা দেখে নীতিবাগীশ ব্রিটিশ পাবলিকও ছ্যা ছ্যা করে উঠেছে এক জন যৌনকর্মীর নীতিবোধও কি না রুনির চেয়ে বেশি! আর খোদ রুনি? ভুল স্বীকার আর অনুশোচনার চেনা বিজ্ঞাপনটির পুনরাবৃত্তি ছাড়া কী-ই বা করতে পারতেন তিনি!
কেন না তত দিনে তাঁর ফ্যানদের মুখে মুখেই তো ঘুরছে তাঁকে নিয়ে রসালো চুটকি। বাঁকা হেসে এক দল বলছে, ‘রুনি ওয়ান্টস টু গো টু জুভেন্তাস... হি উইল নেভার টার্ন ডাউন অ্যান অ্যাপ্রোচ ফ্রম অ্যান ওল্ড লেডি!’ ঘটনাচক্রে, জুভেন্তাসের সাপোর্টারদের কাছে দলের আদরের নাম ‘ভেচিয়া সিনোরা’, যার মানে হল গিয়ে, বয়স্ক মহিলা! এরই পালটা খোরাক-টুইট করছে কেউ, ‘ম্যান সিটি আর এক্সপেক্টেড টু উইন দ্য রেস টু সাইন ওয়েন রুনি আফটার অফারিং হিম টু-থার্টি গ্র্যান্স আ উইক!’ ‘গ্র্যান’ মানেই যে গ্র্যান্ডমাদার, তা ম্যান ইউ-এর দশ নম্বর জার্সির মালিক বিলক্ষণ জানেন!
susnatoc@gmail.com