Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৮ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

বন কেটে বসতের দৌরাত্ম্যে দেশে ‘উষ্ণতম দ্বীপ’ এখন কলকাতা, জানাল আইআইটি

কলকাতার গড় তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। গত ৩০ বছরে।

সুজয় চক্রবর্তী
কলকাতা ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৪:৩৩
Save
Something isn't right! Please refresh.
গ্রাফিক: তিয়াসা দাস।

গ্রাফিক: তিয়াসা দাস।

Popup Close

বড়, ছোট, মাঝারি শহরগুলির মধ্যে ভারতে উষ্ণতম দ্বীপ হয়ে উঠেছে কলকাতা। ‘হটেস্ট অফ দ্য আরবান হিট আইল্যান্ডস’। গত তিন দশকে।

দিনে আর রাতে শহর কলকাতার গা পুড়ে যাচ্ছে তীব্র দহনজ্বালায়। ব্যবধান বেড়ে চলেছে দিন ও রাতের সর্বাধিক আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার।

যত বছর গড়াচ্ছে, সেটা ততই বাড়ছে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা-সহ বছরের বারোমাস্যায় কলকাতার গড় তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। গত ৩০ বছরে। মূলত দ্রুত ও যথেচ্ছ নগরায়নের দৌলতে।

Advertisement

১৬ বছরের গবেষণা খড়্গপুর আইআইটি-র

খড়্গপুরের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি)’-র গবেষণা এই চাঞ্চল্যকর খবর দিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন শহর নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়েছে ২০০১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত। টানা ১৬ বছর ধরে। গবেষকদলে রয়েছেন আইআইটি-র ‘সেন্টার ফর ওশন্‌স, রিভার্স, অ্যাটমস্ফিয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড সায়েন্সেস (কোরাল)’-এর অধ্যাপক অরুণ চক্রবর্তী, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জয়নারায়ণ কুট্টিপ্পুরথ, আর্কিটেকচার অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সৈকত কুমার পাল এবং ‘কোরাল’-এর গবেষক ছাত্র শরৎ রাজ।



সেই গবেষণাপত্র। অধ্যাপক জয়নারায়ণ কুট্টিপ্পুরথ, অধ্যাপক অরুণ চক্রবর্তী, অধ্যাপক সৈকত কুমার পাল ও গবেষক শরৎ রাজ।

গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘জার্নাল অফ এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট’-এ। জানিয়েছে, পরিকল্পনাবিহীন যথেচ্ছ নগরায়নের জন্য দিন আর রাতের তাপমাত্রা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে চলেছে দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, মাদ্রাজ, গুয়াহাটি, পুণে, বেঙ্গালুরু-সহ ভারতের ৪৪টি বড় শহরের।

তবে গা তেতেপুড়ে ওঠার নিরিখে কলকাতা দেশের অন্য বড় শহরগুলিকে টেক্কা দিয়েছে। গত ৩০ বছরে দেশের অন্য বড় শহরগুলির দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে সর্বাধিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কলকাতার জ্বর বেড়েছে আরও বেশি। তাপমাত্রা বাড়ার নিরিখে কলকাতার আশপাশেই রয়েছে গুয়াহাটি ও পুণের মতো বড় শহরগুলি।

বিশ্বব্যাঙ্কের ২০১৮ সালের রিপোর্ট জানাচ্ছে, ভারতে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই থাকেন ছোট, বড় ও মাঝারি শহরগুলিতে। যা গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার ৭ শতাংশের কিছু কম।



কেন কলকাতার গা গরম হচ্ছে?

মূল গবেষক, খড়্গপুর আইআইটি-র ‘সেন্টার ফর ওশন্‌স, রিভার্স, অ্যাটমস্ফিয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড সায়েন্সেস (কোরাল)’-এর অধ্যাপক অরুণ চক্রবর্তী ‘আনন্দবাজার ডিজিটাল’কে বলছেন, ‘‘দ্রুত, পরিকল্পনাবিহীন যথেচ্ছ নগরায়নের জন্যই নয়ের দশকের পর থেকে কলকাতার দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। আশপাশের গ্রামীণ বা মফস্‌সল এলাকগুলির চেয়ে কলকাতার গা বেশি পুড়ছে তাপে। কারণ, নগরায়নের জন্য কলকাতার মতো শহরগুলিতেই গাছ কাটা হচ্ছে বেশি। বহুতল বা কমপ্লেক্স অথবা মেগাসিটি প্রজেক্টের জন্য দেদার জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির নির্গমনের পরিমাণ বাড়ছে।’’

নগরায়ন তো স্বাভাবিক, সমস্যা কোথায়?

যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে আর রুটি-রুজির কেন্দ্রগুলি উত্তরোত্তর বিকেন্দ্রীভূত হওয়ার পরিবর্তে মূল শহর বা নিত্যনতুন গজিয়ে ওঠা ‘মেগাসিটি’গুলির অভিমুখী হয়ে পড়ছে, তাতে সারা দেশে আরও আরও বেশি পরিমাণে যে নগরায়ন হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। হচ্ছেও।

আরও পড়ুন- লাগবে না বডি স্ক্যানার, চালের দানার মতো রাডার বানালেন বঙ্গসন্তান​

আরও পড়ুন- সকালে গাছের ঘুম ভাঙে কখন কী ভাবে, এই প্রথম দেখল নাসার ‘ইকোস্ট্রেস’​

‘‘কিন্তু সেটা যথেচ্ছ ভাবে হচ্ছে, কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই হচ্ছে বলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে’’, বললেন অরুণ।

জানালেন, অল্প একটু জায়গার উপর যেখানে তিন কি চার তলা বাড়ি হলেই যথেষ্ট, সেখানে গড়ে উঠছে ৮ বা ১০ তলার একের পর এক কমপ্লেক্স। বাড়তি মুনাফার লোভে। মেগাসিটি বা উপনগরীগুলিতে মাথার উপর ঠাঁই জোগাড় করতে হাঁফিয়ে ওঠা মানুষ সেই ফাঁদেই পা দিচ্ছেন।

দিন, রাতের তাপমাত্রার ফারাক বাড়ছে কেন?

গবেষকরা জানাচ্ছেন, তার কারণ, ইট, কাঠ, কং‌ক্রিটের ‘জঙ্গল’ বেড়ে চলছে অসম্ভব দ্রুত হারে। সাধারণত, দিনের তাপ শুষে নেয় বাড়ির ইট, কংক্রিটের দেওয়াল। তার পর রাতে সেই শুষে নেওয়া তাপই দেওয়ালগুলি ছেড়ে দেয় পরিবেশে। তার ফলে, দিনে ইট, কংক্রিটের বাড়ি যেমন তেতে ওঠে, তেমনই রাতে তা ঠান্ডা হয়ে আসে ধীরে ধীরে।



কিন্তু সেটা গত তিন দশক ধরে কলকাতার মতো দেশের বড় বড় শহরগুলিতে স্বাভাবিক ভাবে হতে পারছে না। তার কারণ, ঘনঘন বহুতল গড়ে উঠছে। একটি বহুতল থেকে অন্য বহুতলটির দূরত্ব থাকে না বললেই চলে। যেন তারা গায়ে গা লাগিয়ে রয়েছে! তার ফলে, কোনও এলাকায় স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহে (‘এয়ার-ফ্লো’) ব্যাঘাত ঘটছে।

অরুণের কথায়, ‘‘এর জন্যই যত বিপত্তি। রাতে ইট, কংক্রিটের বাড়িগুলি পরিবেশে যে তাপ বিকিরণ করে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসত, সেই তাপ ওই বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমেই এত দিন ছড়িয়ে পড়ত আশপাশের অন্য এলাকাগুলিতে। ফলে, কোনও একটি এলাকার তাপমাত্রা বাড়ত না। এখন সেটা হচ্ছে। তাই কলকাতা-সহ দেশের বেশির ভাগ শহরেরই দিন আর রাতের তাপমাত্রার গড় ব্যবধান আগের চেয়ে এতটা বেড়ে গিয়েছে।’’

কেন কলকাতার গা গরম হচ্ছে সবচেয়ে বেশি?

গবেষকরা জানাচ্ছেন, দেশের অন্য শহরগুলির তুলনায় পরিকল্পনাবিহীন ভাবে যথেচ্ছ মেগাসিটি বা উপনগরী বেশি গড়ে উঠছে কলকাতার লাগোয়া এলাকাগুলিতেই। একই কথা খাটে গুয়াহাটি ও পুণে শহরদু’টির ক্ষেত্রেও। তাই কলকাতার গা গত তিন দশকে অন্য শহরগুলির তুলনায় বেশি গরম হয়েছে।

তা হলে কি নগরায়ন হবে না?

অরুণের কথায়, ‘‘কেন হবে না। সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তো সেটাই স্বাভাবিক। সেটা হোক। কিন্তু সমূলে বৃক্ষছেদন করে নয়। সুস্থ পরিবেশ আর বিজ্ঞানসম্মত বাস্তুতন্ত্রকে অগ্রাহ্য করে নয়। সেই নগরায়ন হোক পরিকল্পনামাফিক। রাতে ইট, কংক্রিটের বাড়িগুলি থেকে বেরিয়ে আসা তাপ যাতে বায়ুপ্রবাহ পায়। তা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশপাশের অন্য এলাকাগুলিতে। কোনও একটি এলাকার মধ্যে ঘুরপাক না খেয়ে।’’

ছবি ও গ্রাফিক-তথ্য সৌজন্যে: আইআইটি, খড়্গপুর

গ্রাফিক: তিয়াসা দাস

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement