Advertisement
৩১ জানুয়ারি ২০২৩

পৃথিবীর নীল সমুদ্র এ বার হয়ে উঠবে সবুজ! 

নীল সাগর অনেক বেশি সবুজাভ হয়ে উঠবে। চলতি শতকের শেষ দিকেই বদলটা স্পষ্ট হতে শুরু করবে। জানাচ্ছেন ব্রিটেনের সাউথাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক।

সংবাদ সংস্থা
লন্ডন শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৩:৫৬
Share: Save:

নীল সাগর অনেক বেশি সবুজাভ হয়ে উঠবে। চলতি শতকের শেষ দিকেই বদলটা স্পষ্ট হতে শুরু করবে। জানাচ্ছেন ব্রিটেনের সাউথাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক। ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের এই গবেষণাপত্রটি। তবে কি আমাদের নীল গ্রহ ক্রমে সবুজ গ্রহে পরিণত হতে চলেছে! কিন্তু কেন?

Advertisement

গবেষক দলটির অন্যতম সদস্য আনা হিকম্যান জানাচ্ছেন, সুমুদ্রের জলে থাকা শৈবালকণা ‘ফাইটোপ্লাংটন’ সবুজ। এরা ডাঙার সবুজ গাছেদের মতোই সুর্যের আলোকে ব্যবহার করে খাবার তৈরি করে। যেখানে এদের সংখ্যা কম, সেখানে সাগরের জল নীল। যেখানে বেশি, সেখানে সবজেটে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারায় বদল আনতে না-পারলে ২১০০ সাল নাগাদ এই গ্রহের তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। উষ্ণতর জল পেয়ে সংখ্যায় তথা পরিমাণে (বায়োমাস) বিপুল বাড়বে ফাইটোপ্লাংটনের। আর তাতেই ঢের বেশি সবজেটে হয়ে উঠবে সাগরের নীল জল। শুধু তা-ই নয়, এদের জন্ম-মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এক এক মরসুমে এক এক রকম রং নেবে সমুদ্র। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টা শুধু দেখার নয়। সূর্যের আলো সাগর কতটা শুষে নেবে, কতটা ফিরিয়ে দেবে— বদলে যাবে তার ছবিও।

অবশ্য শুধু তাপমাত্রা নয় সাগরজলের সবুজ ও অন্য রংয়ের জৈব বস্তুর কমা-বাড়াটা নির্ভর করে জলের স্রোত বা অম্লতার মতো অন্য বেশ কিছু বিষয়ের উপরেও। কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে বদলের চিত্রটা জানার সময় এই বিষয়গুলিও মাথায় রাখা রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ-মার্কিন বিজ্ঞানীদের যৌথ দলটি। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে

চলা কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে বা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ক্যামেরা ও অন্য যান্ত্রিক চোখে গত দু’দশকে যে তথ্য জোগাড় হয়েছে, তার ভিত্তিতেই রং বদলের বিষয়টি উঠে এসেছে।

Advertisement

কিন্তু সাগর জলের রং বদল নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণটা কী?

আরও পড়ুন: কৃষি ঋণ নিয়ে বিরোধীদের নিশানা মোদীর

হিকম্যানরা জানাচ্ছেন, কারণটা গুরুতর। পৃথিবীতে যত সালোকসংশ্লেষ হয়, তার অর্ধেকটাই করে এই শৈবালকণাদের ক্লোরোফিল। এরাই সমুদ্রের প্রাণী কুলের খাবারের প্রাথমিক জোগানদার। এদের পরিমাণ ব্যাপক ভাবে কমে-বেড়ে গেলে সমুদ্রের খাদ্যচক্রে ও কার্বন-চক্রে বড়সড় পরিবর্তন ঘটবে। অজানা পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেই বদলটা মানুষের তথা পৃথিবীর জীবকুলের পক্ষে ভাল না মন্দ— তা নিয়ে রায় দেওয়ার সময় অবশ্য আসেনি। তবে পরিবর্তনটা রাতারাতি নয়, হচ্ছে ধীরে। খালি চোখে ধরা পড়ার মতো নয়। ফলে এখনই শিল্পীদের রংয়ের প্যালেট পাল্টে ফেলার সময় আসেনি। তবে বদলটার দিকে বিজ্ঞানীদের নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন হিকম্যান ও তাঁর সতীর্থরা।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.