প্রায় দু’বছর চোটের জন্য বাইরে থাকার পরে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন ঘটালেন দীপা কর্মকার। ভারতীয় জিমন্যাস্টিক্সের সেরা মুখ, দীপা রবিবার তুরস্কে ‘আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্স ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপ’-এ সোনা জিতে নিলেন।

দীপা প্রথম হয়েছেন তাঁর প্রিয় ভল্ট ইভেন্টেই। ব্যালান্সিং বিমেও নেমেছিলেন তিনি। তাতে পদক জিততে না পারলেও প্রত্যাবর্তনেই ভল্টে সোনা জিতে দীপা ফের চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছেন। মাঝে চোটের জন্য মনে করা হচ্ছিল, তাঁর কেরিয়ারই শেষ হয়ে যাবে কি না। প্রিয় প্রোদুনোভা ভল্ট দিতে না পারলেও ভবিষ্যৎ ঘিরে জল্পনা থামিয়ে দিতে পেরেছেন তিনি। 

রিয়ো অলিম্পিক্সে মারণ ভল্ট প্রোদুনোভা দিয়ে সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন ত্রিপুরার মেয়ে দীপা। এ বার তুরস্কে তাঁর প্রত্যাবর্তন মঞ্চে সোনা জিতলেন ১৪.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে। এই প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জন পর্বেও দীপা প্রথম হয়েছিলেন ১৩.৪০০ পয়েন্ট পেয়ে। তাঁর সাফল্যে অভিভূত খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। টুইট করে দীপাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।  টুইটারে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিংহ রাঠৌরও।

এই প্রথম ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপে সোনা জিতলেন দীপা। ভল্ট ইভেন্টে প্রথম প্রচেষ্টায় কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন দীপা। ৫.৪০০ স্কোর করেন তিনি। তার পর ‘এগজিকিউশন’-এ ৮.৭০০ পেয়ে ১৪.১০০ স্কোর করেন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আরও উন্নতি করে তিনি স্কোর করেন ১৪.২০০। গড় স্কোর দাঁড়ায় ১৪.১৫০। ইন্দোনেশিয়ার রিফদা ইরফানালুথফি রুপো জেতেন। কিন্তু তাঁর স্কোর দীপার চেয়ে বেশ খানিকটা পিছনে। রিফদার স্কোর ছিল ১৩.২০০। দীপাকে সাহায্য করার জন্য বরাবরের মতোই তাঁর পাশে ছিলেন কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী। রিয়ো অলিম্পিক্সের সময়েও যিনি ছাত্রীর পাশে ছিলেন। এবং, অল্পের জন্য দেশবাসীর স্বপ্নভঙ্গ হওয়া দেখেছেন। ছাত্রী যে এখনও স্বপ্ন দেখাতে পারছেন, তা দেখে উত্তেজিত কোচ।   

আরও পড়ুন:  নতুন ভল্টে তুরস্কে সোনা জয় দীপার

রিয়ো থেকে দীপা ফিরেছিলেন হ্যামস্ট্রিংয়ে মারাত্মক চোট নিয়ে। অস্ত্রোপচারও করতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ দিন তাঁকে রিহ্যাবিলিটেশন করতে হয়েছে। এমনও শোনা গিয়েছে যে, প্রিয় প্রোদুনোভা ভল্ট আর তিনি দিতে পারবেন না। রবিবার তুরস্কে  সোনা জেতার পথে প্রোদুনোভা ভল্ট তিনি দেননি। তবু বাঙালি মেয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি এখনও শেষ হওয়া থেকে অনেক দূরে।

কত বড় প্রতিযোগিতা ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপ? দীপার এই সোনা জয় কতটা কৃতিত্বের বলে ধরা যেতে পারে? খোঁজখবর নিয়ে দেখা যাচ্ছে, যথেষ্টই উচ্চ মানের প্রতিযোগিতা। বিশ্বের প্রথম সারির জিমন্যাস্টরাও অনেকেই এতে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশনের ক্যালেন্ডারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা ধরা হয় ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপকে। এ বছরে মোট ছ’টি ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপ সিরিজ রয়েছে। তুরস্কে হচ্ছে চতুর্থ পর্ব। সেখানেই সোনা জিতেছেন দীপা। যা যথেষ্টই কৃতিত্বের এবং তাঁর অসংখ্য ভক্তকেও নিঃসন্দেহে উৎসাহী করে তুলবে।