অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওভালে তিন উইকেট পেয়ে খুশি ভারতীয় পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। রবিবারের ম্যাচে যে পিচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬৫০ রানের উপরে উঠেছে, সেখানেই ৫০ রানে তিন উইকেট নেন তিনি। ভুবনেশ্বরের পারফরম্যান্সে আপ্লুত ভারতের বোলিং কোচ বি অরুণ। জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই দলের দ্বিতীয় পেসার হিসেবে দেখা হত ভুবিকে।

রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে মিক্সড জ়োনে সাংবাদিকদের ভুবি বলেন, ‘‘সত্যি এই পারফরম্যান্স অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। কারণ, পিচ ও আবহাওয়া একেবারে ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ। সেই পরিস্থিতিতে তিন উইকেট নিতে পেরে আমি খুশি। সেই সঙ্গে বিপক্ষকে অলআউট করতে পেরে আরও ভাল লাগছে।’’

ভারতীয় বোলারের অন্যতম প্রাপ্তি, ডেভিড ওয়ার্নারকে শট খেলার জায়গা না দেওয়া। স্কোরবোর্ডই বলে দেবে কতটা মন্থর ব্যাটিং করেছে ওয়ার্নার। ৮৪ বলে তাঁর ৫৬ রানের ইনিংস একেবারেই তাঁর চরিত্রের বিপরীত। ভুবি বলেছেন, ‘‘যে হেতু উইকেট থেকে বোলাররা কোনও সাহায্য পাচ্ছিল না, তাই ওয়ার্নারকে অফস্টাম্পের বেশি বাইরে বল করিনি। সবাই জানে শট খেলার জায়গা পেলে ও কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।’’

রবিবার রান তাড়া করতে নেমে ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছিল স্টিভ স্মিথকে। কিন্তু ভুবনেশ্বরের স্লোয়ারে পরাস্ত হন তিনি। সেই ওভারেই তিনি ফিরিয়ে দেন অলরাউন্ডার মার্কাস স্টোয়নিসকে। স্মিথের উইকেটকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কী ভাবে স্মিথকে ফেরালেন ভুবি? তাঁর উত্তর, ‘‘শট নেওয়ার আগে অফস্টাম্পের দিকে এগিয়ে আসে স্মিথ। একটি বল ফস্কালেই এলবিডব্লিউ হওয়ার সুযোগ খুব বেশি। তাই ওকে স্লোয়ার দেওয়ার চেষ্টা করি।’’

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই বুমরার সঙ্গে বোলিং ওপেন করছেন ভুবি। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মহম্মদ শামির সঙ্গে বুমরা বোলিং ওপেন করলেও ইংল্যান্ডের পরিবেশে শামির পরিবর্ত ভুবি। প্রথম ম্যাচে শামিকে দেখতে না পেয়ে অবাক হয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু ভারতীয় বোলিং কোচ বি অরুণ জানিয়ে দেন, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই ভারতের দ্বিতীয় পেসার হিসেবে ভুবনেশ্বরের কথাই ভাবা হয়েছিল। রবিবার ম্যাচ শেষে অরুণ বলেন, ‘‘ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার জন্যই ভুবিকে প্রথম একাদশে রাখা হয়। দু’দিকে বল সুইং করানোর ক্ষমতা ওর রয়েছে। সেই সঙ্গে ডেথ ওভারেও ওর বোলিং খুবই কার্যকরী।’’

ভুবনেশ্বরের প্রশংসা করার পাশাপাশি অরুণ আরও জানিয়েছেন, বুমরার মতো পেসার দলে থাকা অনেক বড় সুবিধে। ‘‘বুমরা আমাদের সম্পদ। ওর মতো পেসার পাওয়া সত্যি ভাগ্যের। বুমরাকে বেশি কিছু শেখাতে হয় না। শুধু পরিকল্পনা জানিয়ে দিতে হয়।’’

ওয়ার্নারকে নিয়ে যে পরিকল্পনা ছিল, তাতে সফল ভারতীয় বোলারেরা। অরুণ নিজেও খুশি। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘‘ওয়ার্নারকে একেবারেই শট নেওয়ার জায়গা দেয়নি কোনও বোলার। এটা আমাদের অন্যতম প্রাপ্তি।’’

কিন্তু কুলদীপ যাদবকে এখনও চেনা ছন্দে দেখা যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোনও উইকেট পাননি এই বাঁ হাতি চায়নাম্যান স্পিনার। একজন বোলারকে ছন্দে ফিরিয়ে আনার পিছনে একজন বোলিং কোচের ভূমিকা কী? অরুণের উত্তর, ‘‘একজন ব্যাটসম্যানের যেমন খারাপ সময় যায়, ঠিক তেমনই খারাপ সময় যেতে পারে একজন বোলারের। এই সময়ে কুলদীপকে ওর সেরা মুহূর্তগুলোর ভিডিয়ো দেখিয়ে ওকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করব।’’