মর্গ্যানের ছক্কা-বৃষ্টিতে ১৫০ রানে জিতল ইংল্যান্ড
ওয়ান ডে-তে ১৭টি ছক্কা মেরে ম্যাচের সেরা ইংল্যান্ড অধিনায়ক অইন মর্গ্যান শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই গড়েননি। আফগানদের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারে ৩৯৭ রান তুলে ইংল্যান্ডকে বসিয়ে দিয়েছিলেন রানের পাহাড়ে।
Morgan

বিধ্বংসী: মর্গ্যান-ঝড়ে উড়ে গেল আফগানিস্তান। ৭১ বলে ১৪৮ রান ইংল্যান্ড অধিনায়কের। মঙ্গলবার। এপি

রেকর্ডের বন্যা! 

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মঙ্গলবার ইংল্যান্ড বনাম আফগানিস্তান ম্যাচের শিরোনাম হতে পারে এটাই। কেউ কেউ আবার বিরুদ্ধ মত পোষণ করে বলছেন, ম্যাঞ্চেস্টারে তো মঙ্গলবার ছক্কার বৃষ্টি হল! আসলে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাঠে দেখা গিয়েছে ৩৩টি ছক্কা। তাই এই যুক্তি।

সে যাই হোক, ওয়ান ডে-তে ১৭টি ছক্কা মেরে ম্যাচের সেরা ইংল্যান্ড অধিনায়ক অইন মর্গ্যান শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই গড়েননি। আফগানদের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারে ৩৯৭ রান তুলে ইংল্যান্ডকে বসিয়ে দিয়েছিলেন রানের পাহাড়ে। তখনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল এক প্রকার। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ২৪৭-৮। ১৫০ রানে ম্যাচ জেতে ইংল্যান্ড। ১৯৭৫ সালের পরে বিশ্বকাপে এটি ইংল্যান্ডের সব চেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।

খেলা শেষে মর্গ্যান এই দুর্দান্ত জয় সম্পর্কে বলেও গেলেন, ‘‘দারুণ অভিজ্ঞতা। বেয়ারস্টো ও রুট দুর্দান্ত খেলেছে। কখনও ভাবিনি আজ দিনটা আমার হতে চলেছে। পিঠে ব্যথা ছিল। তাই আফগান স্পিনারদের সামলানোটা ছিল একটা চ্যালেঞ্জ। ভাবিনি এ রকম একটা ইনিংস খেলতে পারব।’’

ইংল্যান্ড অধিনায়ক টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্তই নেন। ম্যাচের আগে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন মর্গ্যানের ফিটনেস নিয়ে। তার জবাব মর্গ্যান দেন ৫৭ বলে বিশ্বকাপের চতুর্থ দ্রুততম শতরান করে। চারটি চার ও ১৭টি ছক্কা সহযোগে মর্গ্যান ৭১ বলে ১৪৮ রান করলেও তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাট করলেন জো রুট। ঠান্ডা মাথায় ধ্রুপদী ৮৮ রান তিনি করেন ৮২ বলে। ওপেন করতে নেমে ৯৯ বলে ৯০ রান করলেন জনি বেয়ারস্টোও। শেষের দিকে ৯ বলে ৩১ রান করে ব্যাটে ঝড় তুললেন মইন আলিও। জো রুট আর মর্গ্যান মিলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১৮৯ রানের জুটি তৈরি করলেন এ দিন। ভাঙলেন ৪৪ বছর আগে বিশ্বকাপে ডেনিস অ্যামিস ও কিথ ফ্লেচারের জুটিতে গড়া ১৭৬ রানের রেকর্ড।

আফগান বোলারদের হয়ে দওলত জ়াদরান (৩-৮৫) ও আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নইব (৩-৬৮) উইকেট পেলেও কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে।

২৯.৫ ওভারে জনি বেয়ারস্টো আউট হলে ব্যাট করতে নামেন মর্গ্যান। তার পরেই মাঠে শুরু হয় ছক্কার বৃষ্টি। একাধিক রেকর্ডও। ওয়ান ডে ম্যাচে এর আগে এক ইনিংসে সব চেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মা, এ বি ডিভিলিয়ার্স ও ক্রিস গেলের দখলে। ২০১৫ বিশ্বকাপে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে গেল মেরেছিলেন ১৬টি ছক্কা। এ দিন এই সব রেকর্ডকে মর্গ্যান পিছনে ফেললেন।

আফগান বোলারদের মধ্যে এ দিন ১১টি ছক্কা মারা হয়েছে তাদের সেরা স্পিনার রশিদ খানকে। ওয়ান ডে ক্রিকেটে কোনও বোলারের বলে এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কা হওয়ার এটিও একটি রেকর্ড।

এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মারা সব চেয়ে বেশি ছক্কার সংখ্যা ছিল ২২টি। এ দিন মর্গ্যান একাই টপকে গিয়েছেন সেই ছক্কাকে। ২০০৭ বিশ্বকাপে নয় ম্যাচে ২২টি ছক্কা মেরেছিল ইংল্যান্ড। এ দিন ২৫টি ছক্কা মেরে সেই রেকর্ডও ভেঙে ফেলল ইংল্যান্ড। 

এ দিন ৯ ওভার বল করে ১১০ রান দিয়েছেন স্পিনার রশিদ। বিশ্বকাপে কোনও বোলারের বলে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান ওঠার রেকর্ড এটাই। এতদিন এই রেকর্ড ছিল নিউজ়িল্যান্ডের মার্টিন স্নেডেনের। ১৯৮৩ সালে ১২ ওভারে ১০৫ রান দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেটাও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

জবাবে শুরুতেই নুর আলি জ়াদরান শূন্য রানে ফিরলেও গুলবাদিন নইব (৩৭), রহমত শাহ (৪৬), হাশমাতুল্লা শাহিদি (৭৬) ও আসগর আফগান (৪৪) সাধ্যমতো লড়াই করেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের এই বিশাল রানের সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সফল জোফ্রা আর্চার (২-৫২) ও আদিল রশিদ (৩-৬৬)।

ম্যাচের
Live
স্কোর