তৃতীয় টেস্ট জিততে ভারতের চাই আর মাত্র দুই উইকেট। ফলো অনের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩২ রানে আট উইকেট পড়ে  গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। এখনও ২০৩ রানে পিছিয়ে তারা। ফলে, প্রোটিয়াদের হোয়াইটওয়াশ করা নিয়ে সংশয় নেই। শুধু মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ আফ্রিকা কতক্ষণ লড়াই চালাবে, তা নিয়েই আগ্রহ রয়েছে ক্রিকেটমহলে। কারণ, সোমবার সারা দিনে পড়ল ১৬ উইকেট।

এদিন দুপুরে পুণের পর রাঁচীতেও সফরকারী দলকে ফলো অন করিয়েছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে গিয়েছিল ১৬২ রানে। ৫৬.২ ওভারেই দাঁড়ি পড়েছিল ইনিংসে। ফাফ দু’প্লেসির দল প্রথম ইনিংসে ভারতের থেকে ৩৩৫ রানে পিছিয়ে ছিল। এই পরিস্থিতিতে সিরিজে দ্বিতীয় বার দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফলো অন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি।

আর ফলো অনের পরেও দুর্দশা অব্যাহত থাকল প্রোটিয়াদের। ভারতীয় পেসারদের দাপটে একসময় ৬৭ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল প্রোটিয়া-ব্রিগেড। মহম্মদ শামির আগুনে স্পেলে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শুরুতে যদিও কুইন্টন ডি কক (৫) বোল্ড হয়েছিলেন উমেশ যাদবের বলে। তার পর তিন উইকেট নিয়ে শামিই কাঁপিয়ে দিলেন। হামজা (০) হলেন বোল্ড। ফাফ দু’প্লেসি (৪) হলেন এলবিডব্লিউ। আর বাভুমার (০) ক্যাচ ধরলেন উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান সাহা। তবে ঋদ্ধি পরে আঙুলে চোট পেয়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হলেন। পরিবর্তে কিপিং করতে এলেন ঋষভ পন্থ।

এর মধ্যে আবার উমেশের বলে হেলমেটে লাগল ওপেনার ডিন এলগারের। ১৬ রানে ব্যাটিং করার সময় বাউন্সারে চোট পেয়ে ক্রিজে বসে পড়লেন তিনি। সেই অবস্থাতেই নেওয়া হল চায়ের বিরতি। তিনি আর ব্যাট করতে নামতে পারলেন না। চায়ের বিরতির পর হেইনরিখ ক্লাসেন (৫) ফিরলেন উমেশ যাদবের বলে। শাহবাজ নাদিমের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হলেন জর্জ লিন্ডে (২৭)। এর পর ডেন পিয়েদত (২৩) বোল্ড হলেন জাডেজার বলে। দিনের শেষ লগ্নে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে মারতে গিয়ে জাডেজাকে ক্যাচ দিলেন কাগিসো রাবাডা (১২)। এলগারের জায়গায় ‘কনকাসন’ পরিবর্ত হিসেবে নয় নম্বরে ব্যাট করতে এলেন থেউনিস দি ব্রুইন। দিনের শেষে তিনি অপরাজিত রয়েছেন ৩০ রানে। সঙ্গী নর্তিয়ের (৫)।  

আরও পড়ুন: টেস্টে অনন্য রেকর্ড! এ বার ব্র্যাডম্যানকেও পিছনে ফেললেন রোহিত​

আরও পড়ুন: রাঁচীতে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন রোহিত, ভাঙলেন এই সব রেকর্ডও

সোমবার সকালে দুই উইকেটে ৯ রান নিয়ে শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু প্রথম ওভারেই ধাক্কা দিলেন উমেশ যাদব। অসাধারণ ডেলিভারিতে আঘাত হানলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ দু’প্লেসির অফস্টাম্পে। বল ভিতরে আসবে ভেবে সেই লাইনে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল বাইরে বেরিয়ে ছুঁয়ে যায় অফস্টাম্প। ১৬ রানে তিন উইকেট পড়ার পর গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন তিনে নামা হামজা ও পাঁচে নামা বাভুমা। দু’জনে চতুর্থ উইকেটে ৯১ রান যোগ করে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন। দু’জনে আক্রমণাত্মক মেজাজেই এগোচ্ছিলেন। হামজাকেও ছন্দেও দেখাচ্ছিল। কিন্তু রবীন্দ্র জাডেজা তাঁকে বোল্ড করতেই ফের চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭৯ বলে ১০টি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৬২ করেন হামজা। পরের ওভারেই ফেরেন বাভুমা (৩২)। তাঁকে রীতিমতো বোকা বানিয়ে ফেরান শাহবাজ নাদিম। এগিয়ে এসে খেলার চেষ্টা করেছিলেন বাভুমা। স্টাম্পড করেন উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান সাহা। অভিষেককারী বাঁ-হাতি স্পিনারের এটাই টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম উইকেট। সতীর্থরা জড়িয়ে ধরলেন তাঁকে। তিন ওভার পরে ফিরলেন অভিষেককারী হেইনরিখ ক্লাসেন (৬)। জাডেজার স্পিনে বোল্ড হলেন তিনি।

বল ঘুরছিল। কখনও বাউন্স বেশি হচ্ছিল, কখনও কম। ফলে, এদিন ব্যাটিং ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠল সফরকারী দলের জন্য। তৃতীয় দিনের লাঞ্চের সময় প্রথম ইনিংসে ৩৬ ওভারে ছয় উইকেটে ১২৯ রান তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।দ্বিতীয় সেশনে শেষ চার উইকেট ফেলতে বেশি সময় লাগেনি। পিয়েদত (৪) এলবিডব্লিউ হলেন মহম্মদ শামির বলে। পরের ওভারেই উমেশ যাদবের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হলেন কাগিসো রাবাডা (০)। জর্জ লিন্ডে (৩৭) একাই লড়াই চালাচ্ছিলেন। কিন্তু উমেশ যাদবের বলে দ্বিতীয় স্লিপে রোহিত শর্মাকে ক্যাচ দিলেন তিনি। নৎর্জে (৪) এরপর এলবিডব্লিউ হলেন শাহবাজ নাদিমের বলে। ভারতের সফলতম বোলার উমেশ যাদব (৪-৩০)। জাডেজা, নাদিম, শামিরা প্রত্যেকেই নিলেন দুটো করে উইকেট। উইকেটহীন থাকলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। 

ভারত প্রথম ইনিংসে নয় উইকেটে ৪৯৭ তুলে ডিক্লেয়ার করেছিল। অর্থাত্, ভারতের চেয়ে এখন ৩৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে প্রোটিয়ারা। ফলো-অনের ভ্রুকুটির সামনে তারা। অন্যদিকে, যা পরিস্থিতি, তাতে ভারতের সিরিজ ৩-০ জেতার চিত্রনাট্যই তৈরি দেখাচ্ছে। বিশাখাপত্তনমে প্রথম টেস্ট ২০৩ রানে জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। পুণেয় দ্বিতীয় টেস্ট ইনিংস ও ১৩৭ রানে জেতে ভারত।