চেলসিকে ৬-০ বিধ্বস্ত করার পরে ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে নিয়ে নতুন স্বপ্নের কথা বলে দিলেন পেপ গুয়ার্দিওলা। লিয়োনেল মেসির ক্লাবের প্রাক্তন কোচ বলেছেন তিনি সাফল্যের দিক থেকে বার্সেলোনার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান সিটিকে। 

সপ্তাহ দু’য়েক আগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কাছে হারের পরে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল গত দু’ম্যাচেই। আর্সেনাল এবং এভার্টনের বিরুদ্ধে। তার পরেও রবিবার এ ভাবে সের্জিও আগুয়েরোর হ্যাটট্রিক এবং রাহিম স্টার্লিংয়ের জোড়া গোলের সাহায্যে এতিহাদ স্টেডিয়ামে ‘দ্য ব্লুজ’ দুরমুশ হবে, সিটির সমর্থকেরাও হয়তো ভাবেনি। শুধু তাই নয়, নিউক্যাসলের দেওয়া ধাক্কার পরে তিন ম্যাচে সিটি ১১ গোল করার পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষস্থানেও ফিরে আসে।

গুয়ার্দিওলা যে জয়ের পরে বলছেন, ‘‘বার্সেলোনার মতোই আমাদেরও তীব্র ইচ্ছে সেরা জায়গাটায় উঠে আসার। পয়েন্ট টেবলে ১০০ পয়েন্ট নিয়ে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েও আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত নিজেকে উদ্বুদ্ধ করে যেতে হবে।’’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘‘দলের প্রত্যেক ফুটবলার প্রচণ্ড পরিশ্রমী। আমি একটা কথাই জানি, যত বেশি জিতবে, তত বেশি পরিশ্রম করতে হবে।’’ 

অথচ এই চেলসির কাছেই ডিসেম্বরে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ০-২ হেরে গিয়েছিল ম্যান সিটি। তার পরে ক্রিস্টাল প্যালেস এবং লেস্টার সিটির কাছেও হারতে হয় তাদের। চোটের জন্য প্রধান ফুটবলারদের না থাকায় ছন্দও যেন হারিয়ে ফেলেছিল সিটি এই সময়ে। ঠিক সময়ে সেটা কাটিয়ে তুলেছেন প্রাক্তন বার্সা কোচ। সামনেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শালকের বিরুদ্ধে ম্যান সিটির শেষ ষোলোর লড়াই রয়েছে (২০ ফেব্রুয়ারি)। তার চার দিন পরেই চেলসির বিরুদ্ধে লিগ কাপ ফাইনালেও নামতে হবে তাদের।

গুয়ার্দিওলার দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে প্রধান ভরসা কারা? 

কোনও এক জনের নাম বলা কঠিন। দাভিদ সিলভা, কেভিন দ্য ব্রুইন এবং ফার্নান্দিনহো চোটের জন্য যখন দলে ছিলেন না তাঁদের অভাব ভীষণ ভাবে বোঝা গিয়েছে। পাশাপাশি আগুয়েরোর গোল করার ক্ষমতাও দলের অন্যতম অস্ত্র। এক সপ্তাহে টানা দুটো হ্যাটট্রিকের সাহায্যে লিভারপুলের মহম্মদ সালাহর সঙ্গে মরসুমে ইপিএলের সর্বাধিক গোলদাতার দৌড়ে এগিয়ে আছেন তিনি। দু’জনেরই গোলসংখ্যা এখন ১৭। 

তবে সিটিকে আবার টানা সাফল্যের পথে নিয়ে আসার পিছনে সবচেয়ে বেশি করে উঠছে বার্নার্দো সিলভার নাম। পর্তুগিজ উইঙ্গারকেই রবিবার চেলসির রক্ষণে আতঙ্ক ধরিয়ে দেওয়ার জন্য অন্যতম কারিগর ধরা হচ্ছে। আগুয়েরো এবং স্টার্লিংয়ের দিকে ক্রমাগত মাটি ঘেঁষা ক্রস বাড়িয়ে যান তিনি। পাশাপাশি মাঝমাঠের দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রেও স্বচ্ছন্দ দেখায় তাঁকে।

গত বুধবার এভার্টনের বিরদ্ধে জয়ের আগে পেপকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার দলের প্রথম একাদশ কি হতে পারে? পেপের উত্তর, ‘‘বার্নার্দো আর বাকি দশ জন।’’