বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল নির্বাচনী বৈঠক আগামী ২৪ অক্টোবর। যেখানে নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হতে চলেছে বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহালির। তবে সেই নির্বাচনী বৈঠকে সব চেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ভবিষ্যৎ ঘিরে।

আগামী বছরেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ৫০ ওভার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার পরে বিরাট-বাহিনীর সামনে আরও একটি সুযোগ নিজেদের প্রমাণ করার। তাই প্রত্যেক সিরিজে টেস্টের সঙ্গেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজকে। যাতে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দিতে পারে ভারতীয় দল। আসন্ন বাংলাদেশ সিরিজও সেই প্রস্তুতির অঙ্গ। 

বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে সাংবাদিক বৈঠকে সৌরভ এমনিতেই বলে দিয়েছিলেন, ‘‘শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও এই ভারতীয় দল ভাল খেলেছে। কিন্তু বড় মঞ্চেও ট্রফি জিততে হবে।’’ তাই বলে দেওয়াই যায়, এখন থেকে প্রত্যেকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত খেলবে সেরা দল গড়ার লক্ষ্য নিয়ে। প্রশ্ন উঠবেই, এই দল গড়ার প্রক্রিয়ায় কি ধোনিকে পাওয়া যাবে? তাঁকে কি এ ধরনের সিরিজে দেখা যেতে পারে?

বুধবার সিএবি-তে বোর্ড প্রেসিডেন্টের সাফ উত্তর, ‘‘নির্বাচকদের জিজ্ঞাসা করব তাঁরা ধোনিকে নিয়ে কী চিন্তা-ভাবনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য শোনার পরেই নিজের মতামত জানাব।’’

কোনও ক্রিকেটারের পক্ষে এত দিনের বিশ্রাম নেওয়া সম্ভব? সৌরভের উত্তর, ‘‘এত দিন এ সবের সঙ্গে একেবারেই যুক্ত ছিলাম না। সব কিছুই আমার কাছে নতুন। তাই ২৪ তারিখ নির্বাচকদেরই এ বিষয়ে প্রথমে জিজ্ঞাসা করে নেব।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘ধোনি কী চায় সেটা দেখতে হবে।’’ ধোনির সঙ্গে যে তিনি নিজেও কথা বলতে পারেন তার ইঙ্গিতও পাওয়া গেল। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ধোনির সঙ্গে এ ব্যাপারে আপনিও ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলবেন নিশ্চয়ই? সৌরভের জবাব, ‘‘হ্যাঁ। ও কী করতে চায়। কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, তা জানতে হবে। আমি যত দিন দায়িত্বে থাকব, ক্রিকেটারেরাই প্রাধান্য পাবে।’’   

সেই নির্বাচনী বৈঠকেই সৌরভের সঙ্গে দেখা হতে চলেছে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাটের। দু’জনেই ভারতীয় ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের সেরা অধিনায়ক। ফলে নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে  অধিনায়কের কবে দেখা হবে তা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। 

সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে আগামী সপ্তাহে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে সৌরভের প্রথম নির্বাচনী বৈঠকেই চিরকাঙ্ক্ষিত ছবি উঠে আসতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্রিকেট সমর্থকদের সেলফোনের ওয়ালপেপার অথবা হোয়াটসঅ্যাপের ডিসপ্লে পিকচারে জায়গা করে নিতে পারে সেই ছবি।

যাঁদের সঙ্গে খেলে একাধিক সাফল্য পেয়েছেন। ক্রিকেটবিশ্বে নতুন জায়গা করে নিয়েছে ‘টিম ইন্ডিয়া’। সে দলের সদস্যদের কোনও দায়িত্বে দেখা যেতে পারে? উত্তরে ফের স্বার্থ সংঘাতের প্রসঙ্গ উস্কে দিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক। বললেন, ‘‘যত দিন স্বার্থ সংঘাত নিয়ে দ্বিধা থাকছে, তত দিন ওদের কেউই কাজ করতে আসবে না।’’ তিনি নিজেও দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটিং উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বলছিলেন, ‘‘দিল্লি ক্যাপিটাসলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমি আর ওদের সঙ্গে কাজ করতে পারব না।’’

কপিল দেব-নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন রবি শাস্ত্রীকে। কিন্তু সেই কমিটির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। সে ক্ষেত্রে শাস্ত্রীর অস্তিত্ব নিয়েও কি প্রশ্ন উঠতে পারে? সৌরভ যদিও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিতে পারলেন না। তাঁর কথায়, ‘‘মনে হয় না শাস্ত্রীর নির্বাচন নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আমি যদিও নিশ্চিত নই।’’

তাঁর এক সময়ের সতীর্থেরা যে নতুন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে খুশি তা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তাঁদের অনেকেই সৌরভকে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বীরেন্দ্র সহবাগ থেকে শুরু করে জ়াহির খান, সেই তালিকায় রয়েছেন। বলছিলেন, ‘‘ভাজ্জি, যুবি, জ়্যাক, লক্ষ্মণ আমাকে টেক্সট করে অভিনন্দন জানিয়েছে। এ ছাড়াও বর্তমান ভারতীয় দলের ক্রিকেটারেরাও অভিনন্দন জানিয়েছে। (যশপ্রীত) বুমরা, (মহম্মদ) শামি, (অজিঙ্ক) রাহানে, শিখর (ধওয়ন) ওরাও উচ্ছ্বসিত।’’ এমনকি সমসাময়িকদের মধ্যে থেকেও প্রচুর অভিনন্দন বার্তা এসেছে। ‘‘রণতুঙ্গা, নাসের হোসেন, জয়সূর্য, কেভিন পিটারসেনরাও টেক্সট করেছে। দারুণ অনুভূতি।’’