অল ইংল্যান্ড ওপেন ব্যাডমিন্টনের ফাইনালে উঠলেন লক্ষ্য সেন। বিশ্বের ঐতিহ্যশালী ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় আরও এক বার ট্রফির লড়াইয়ে নামবেন তিনি। শনিবার কানাডার ভিক্টর লাইকে ২১-১৬, ১৮-২১, ২১-১৫ পয়েন্টে হারিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের ১২ নম্বর খেলোয়াড় লক্ষ্যের জয় অবশ্য সহজে আসেনি। এক ঘণ্টা ৩৭ মিনিট কোর্টে থাকতে হয়েছে তাঁর। গত বছর প্যারিসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন লাই। তাঁকে হারিয়েছেন লক্ষ্য।
এই নিয়ে দ্বিতীয় বার ফাইনালে উঠলেন তিনি। প্রথম বার ২০২২-এ উঠেছিলেন। সে বার রুপো পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। এ বার লক্ষ্যের সামনে চিনা তাইপেইয়ের লিন চুন-ই। এখনও পর্যন্ত দু’জন ভারতীয় অল ইংল্যান্ড জিতেছেন। প্রকাশ পাড়ুকোন (১৯৮০) এবং পুল্লেলা গোপীচাঁদ (২০০১)। এ ছাড়া প্রকাশ নাথ (১৯৪৭) এবং সাইনা নেহওয়াল (২০১৫) রানার-আপ হয়েছিলেন।
অল ইংল্যান্ডের প্রথম রাউন্ডে বিশ্বের এক নম্বর শি ইউ কি-কে হারিয়েছিলেন লক্ষ্য। কোয়ার্টার ফাইনালে হারান বিশ্বের ছ’নম্বর লি শি ফেংকে। লাইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর মানসিক শক্তি, জমাট রক্ষণ এবং নিখুঁত স্ট্রোকপ্লে-র উদাহরণ দেখা গিয়েছে। ৮৬ শটের র্যালিও হয়েছে ম্যাচে।
শুরুই হয় ৫২ শটের র্যালি দিয়ে। বোঝাই যায়, কোনও খেলোয়াড়ই একে অপরকে জায়গা দেবেন না। দুই খেলোয়াড়ই একে অপরের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। লক্ষ্য উঁচু শট খেলে এবং হঠাৎ গতি এনে পয়েন্ট জেতার চেষ্টা করছিলেন। ফলে ব্যবধান খুবই কম ছিল। সেখান থেকে লক্ষ্য এক সময় ১৮-১৬ করে দেন এবং গেমও জিতে নেন।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় গেমে এক সময় লক্ষ্য ৩-৪ পিছিয়ে পড়েছিলেন। সে সময়ে পায়ে ফোসকা পড়ার কারণে কোর্টের চিকিৎসা নিতে হয় তাঁকে। খেলা শুরু হওয়ার পর লাই ৯-৪ পয়েন্টে এগিয়ে যান। লক্ষ্য ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরেন এবং ব্যাকলাইন থেকে খেলে ম্যাচ ১৬-১৬ করে দেন। যদিও সেখান থেকে জিততে পারেননি।
তৃতীয় গেমে লক্ষ্য শুরুতেই এগিয়ে যান ৪-২ গেমে। লাই সেখান থেকে ম্যাচে ফেরেন। তখনই ৮৬ শটের একটি র্যালি হয়, যা জেতেন লক্ষ্য। ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে একটু ক্লান্ত হতে শুরু করেন লাই। তার ফায়দা তুলে ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠেন।