ইতিহাস গড়ার হাতছানি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডকে হারালেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব ধরে রাখবেন সূর্যকুমার যাদবেরা। গত বছর এই নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল ভারত। তবে রবিবারের ফাইনালে কিউয়িদের একটি শক্তি চিন্তায় রাখবে ভারতীয় দলকে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে সূর্যেরা জিতেছিলেন ৪-১ ব্যবধানে। বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের নিরিখেও বেশি ধারাবাহিক ভারতীয় দল। স্বভাবতই ফাইনালে এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে ভারত। তবে নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। কলকাতা নাইট রাইডার্সের তিন ক্রিকেটারই এখন মাথাব্যথা গৌতম গম্ভীর, সূর্যদের!
ফিন অ্যালেন এবং টিম সেইফার্ট। নিউ জ়িল্যান্ডের ওপেনিং জুটিকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় শিবির। ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেন তাঁরাই।
সেইফার্ট বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ভাল ফর্মে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা তাঁকে প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটারের প্রাথমিক তালিকাতেও রেখেছে। ৮টি ম্যাচ খেলে ৪৫.৬৬ গড়ে সেইফার্ট করেছেন ২৭৪ রান। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৬১.১৭। তিনটি অর্ধশতরান করেছেন। ফাইনালেও ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩৩ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর হালকা ভাবে নেওয়ার উপায় নেই অ্যালেনকেও। মাঠের সব দিকে অনায়াসে শট মারতে পারেন। ব্যাট হাতে কতটা বিপজ্জনক হতে পারেন দেখিয়ে দিয়েছেন। সুযোগ পেলে ফাইনালে ভারতকেও কোণঠাসা করে দেবেন। নিউ জ়িল্যান্ডের এই ওপেনিং জুটিই চাপে রাখবে ভারতকে।
শুধু দ্রুত জুটি ভাঙলেই হবে না। দু’জনকেই আউট করতে হবে জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিংহদের। এক জন ২২ গজে জমে গেলেই বিপদে ফেলে দিতে পারেন সূর্যদের। তাঁদের আটকাতে নির্দিষ্ট পরিরল্পনা করতে হবে গম্ভীরদের। রবিবার যত দ্রুত সম্ভব অ্যালেন এবং সেইফার্টের উইকেট চাই ভারতের। নিউ জ়িল্যান্ডের শক্তির ভরকেন্দ্র এই জুটিই।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপ ফাইনালে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হবে সূর্যদের। নজরে রাখতে হবে রাচিন রবীন্দ্রকেও। ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডার আগ্রাসী ব্যাটার। বোলার রাচিনও ভাল ফর্মে। এ বারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা স্পিনার। ১১টি উইকেট পেয়েছেন। রয়েছেন প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার হওয়ার দৌড়েও। তবু নিউ জ়িল্যান্ডের বিপজ্জনক ওপেনিং জুটিই সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে গম্ভীর, সূর্যদের।
কেকেআরের তিন ক্রিকেটারকে নিয়ে চাপে রয়েছেন দলের প্রাক্তন মেন্টর এবং প্রাক্তন সহ-অধিনায়ক। কারণ নিউ জ়িল্যান্ড দলের নিউক্লিয়াস তাঁরাই।