অস্ত্রোপচারের পরে পায়ের জোর আগের মতো এখনও পাচ্ছেন না। তাই দীপা কর্মকার তাঁর প্রিয় প্রোদুনোভা ভল্ট অনুশীলন শুরুই করতে পারছেন না। 

দীপার উদাহরণ দেখেই সম্ভবত স্বপ্না বর্মণ তাঁর হাঁটু, কোমর সহ শরীরের চারটি জায়গায় চোট থাকা সত্ত্বেও অস্ত্রোপচার করাতে চাইছেন না। রি-হ্যাব করেই টোকিয়ো অলিম্পিক্সে নামার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে ১৯ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে যাবেন জাকার্তা এশিয়াডে হেপ্টাথলনে সোনাজয়ী স্বপ্না। বৃহস্পতিবার বিকেলে দমদমের বিবেকানন্দ স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরে সোনার মেয়ে বলে দিলেন, ‘‘আমার কোমরের চোট এখন আর নেই। আমি চাইছি না অস্ত্রোপচার করাতে। সেটা করার পরে যদি আগের জায়গায় ফিরতে না পারি তা হলে আমার পরের স্বপ্ন তো সফল হবে না। যদি রি-হ্যাব করে সুস্থ হয়ে উঠি তা হলে অস্ত্রোপচার করাব কেন? সেটাই স্যর চেষ্টা করছেন।’’ তাঁর কোচ সুভাষ সরকারও বললেন, ‘‘তিন-চার জন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। ওর হাঁটু নিয়েই সমস্যাটা বেশি। তবে এইমস-সহ দিল্লির বড় হাসপাতালগুলোতে যদি চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলতে পারি, তা হলে সেই চেষ্টা করব।’’

জার্কাতা থেকে সোনা জিতে ফেরার পরে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সংবর্ধনা নিতে যেতে হচ্ছে স্বপ্নাকে। যদিও সেখানে কী ভাবে সোনা জিতে এলেন, সেই গল্প আর কেউ শুনতে চাইছেন না। সবাই তাঁর ভাটিয়ালি বা বাউল গান শুনতে চাইছেন। এ দিনের অনুষ্ঠানেও গান গেয়ে মাতলেন দর্শকরা। এমনিতে দুটো দাঁত তোলার পরে মুখের ব্যথা কিছুটা কমেছে। তা সত্ত্বেও রাতে ভাল ঘুম হচ্ছে না। সে জন্য প্রায় সারাদিনই ঘুমোচ্ছেন। বলছিলেন, ‘‘ভাল করে রাতে ঘুমোতে পারছি না। সকালে নিয়মিত মাঠে একবার করে যাচ্ছি। হাঁটছি, জগিং করছি। তারপর শুধুই ঘুম।’’

কবে বাড়ি যাবেন তা এখনও ঠিক করেননি স্বপ্না। তবে কামাতপুরিদের একটি বড় সংগঠন রাজবংশী মেয়েকে সংবর্ধনা দিতে চাইছে জলপাইগুড়িতে। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিলে যেতেও পারেন বাড়ি। বলছিলেন, ‘‘বাড়ির সবার জন্য কিছু কিনে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু বাজারেই তো বেরোতে পারছি না।’’

পাঁচ দিন আগে জলপাইগুড়িতে স্বপ্নার মা বাসনা বর্মনের সোনার হার ছিনতাই হয়ে গিয়েছিল। মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জেনে কেঁদে ভাসিয়েছিলেন স্বপ্না। পুলিশ এখনও সেই হার উদ্ধার করতে পারেনি। স্বপ্না অবশ্য বললেন, ‘‘মা-র জন্য একটা হার কিনে নিয়ে যাব কলকাতা থেকে।’’ এ দিন স্বপ্নার হাতে  নানা পুরস্কারের সঙ্গে উদ্যোক্তারা তুলে দেন একটি সোনার কানের দুল। তাঁর মায়ের জন্য। স্বপ্না তাতে খুশি নন। বললেন, ‘‘আমার মা-র জন্য কেউ কিছু দিক চাই না। যা দেওয়ার আমি দেব।’’ এ দিকে শোনা যাচ্ছে অর্জুন পুরস্কারের জন্য স্বপ্নার নাম পাঠানোর পাশাপাশি তাঁর কোচের নামও দ্রোণাচার্য পুরস্কারের জন্য পাঠাচ্ছে সর্বভারতীয় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন।