মাঠের মাঝখানে ব্যাট নিয়ে অশোক দিন্দার প্রায় লঙ্কাকাণ্ড দেখে অনেকেই অবাক।
বলগুলো আকাশে তুলে দিচ্ছিলেন। আর সেগুলো বাউন্ডারির বাইরে গিয়ে আছড়ে পড়ছিল একটার পর একটা।
তার একটু আগেই তো নেটে ব্যাট করেছেন। তাতেও আশ মেটেনি? কল্যাণীর ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে রবিবার প্র্যাকটিসের সময় বলের চেয়ে ব্যাট নিয়েই বেশি সময় কাটাতে দেখা গেল বাংলার প্রধান স্ট্রাইক বোলারকে। ব্যাপারটা কী?
উইকেট দেখে কি তাঁর বোঝা হয়ে গিয়েছে, এই ম্যাচে তাঁর তেমন কোনও ভূমিকা নেই? যা করার স্পিনাররাই করবেন? তাই যেন রিল্যাক্সড! নিজেকে একটু কম চাপে রাখা। বাইশ গজের অংশটা দেখে অবশ্য সেটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
বিরাট কোহলি এমন উইকেটের সন্ধান পেলে ঘরের মাঠে সব টেস্টের জন্য কল্যাণীর এই উইকেটকেই মডেল করতে চাইতেন হয়তো।
অজস্র ফাটলসহ সাদা ফ্যাটফ্যাটে উইকেট দেখে মনে হল, সোমবার ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরতে শুরু করবে এই বাইশ গজে। বাংলার কোচ সাইরাজ বাহুতুলেকে জিজ্ঞাসা করা হল, এই উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করাটা কতটা কঠিন হবে? তিনি হেসে বললেন, ‘‘এ যা উইকেট, চতুর্থ কেন, যে কোনও ইনিংসে খেলাই কঠিন হতে পারে।’’
খোশ মেজাজে প্রজ্ঞান ওঝা। ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে চাইলে বললেন, ‘‘এই ম্যাচের পরই না হয় কথা বলা যাবে।’’ উইকেট দেখে বোধহয় বুঝতেই পারছেন বিদর্ভর বিরুদ্ধে এগারো উইকেটের চেয়েও ভাল একটা পারফরম্যান্স দেখাতে পারবেন। তাই কথাগুলো হয়তো তুলে রাখলেন ম্যাচের শেষের জন্য।
ওড়িশার বিরুদ্ধে কার্যত রঞ্জির শেষ আটের এই ‘এন্ট্রান্স পরীক্ষা’ শুরুর আগের দিন বাংলার ক্রিকেট বলয়ে প্রবেশ করে মনে হল ম্যাচ শুরুর আগে মাঠের মাঝখানে ওই বাইশ গজের ফালিটাই যেন ম্যাচের সেরার খেতাব জিতে নিয়েছে।
আর এই উইকেটকে বশে আনতে যে স্পিন-অস্ত্রই উপযুক্ত, এটা বুঝে নিয়েই দু’দল তাদের ঘুঁটি সাজানো শুরু করে দিয়েছে। বাংলা শিবিরে তিন স্পিনারে খেলার ভাবনা প্রায় পাকা, ওঝা-গনির সঙ্গে কালীঘাটের বাঁ-হাতি স্পিনার অনুরাগ তিওয়ারিকে রঞ্জি অভিষেকের জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। ওড়িশার অধিনায়ক নটরাজ বেহরাও সেখানে জানিয়ে দিলেন, তাঁরাও তাঁদের স্পিন-অস্ত্রে শান দিচ্ছেন।
ন’উইকেট পাওয়া বাঁ-হাতি স্পিনার ধীরজ সিংহ ও আর এক ‘লেফটি’ জয়ন্ত বেহরা যেমন এই উইকেটে কামাল দেখাতে মরিয়া, তেমন ফর্মের শীর্ষে থাকা ব্যাটসম্যান গোবিন্দ পোদ্দার ও প্রতীক দাসরাও পার্ট টাইমার হিসেবে কাজ চালিয়ে নিতে পারেন অনায়াসে। ‘‘যদি দেখি দুর্দান্ত টার্ন পাওয়া যাচ্ছে। তা হলে এই চার স্পিনারকেই কাজে লাগাব’’, এ দিন প্র্যাকটিসের পর মাঠে দাঁড়িয়ে বলছিলেন ওড়িশা ক্যাপ্টেন নটরাজ বেহরা, যিনি আগের ম্যাচেই লাহলির মতো উইকেটে আড়াইশো রানের ইনিংস খেলে এসেছেন। ছ’ম্যাচে একটি জয় ও বারো পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে বাংলার পরেই থাকা ওড়িশা এই ম্যাচে জিতলে ফের প্রথম চারে থাকার দৌড়ে চলে আসতে পারে।
জানা গেল, রবিবার প্র্যাকটিসের পর টিম মিটিংয়ে বাংলার কোচ দলের ছেলেদের বলে দিয়েছেন, ‘‘উইকেট নিয়ে বেশি ভেবো না। কঠিন ও পরিণত মানসিকতা নিয়ে বিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ো।’’ বিপক্ষ নিয়ে মনোজদের সাবধানও করে দিয়েছেন তিনি। ওড়িশার মরণ কামড়ের আশঙ্কা যে একেবারে নেই বাংলা শিবিরে, তা বলাটা বোধহয় ঠিক নয়।
সৌরভের আশায় কল্যাণী: সোমবার কল্যাণীতে বাংলা-ওড়িশা রঞ্জি ম্যাচে মাঠে থাকতে পারেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অ্যাকাডেমির প্রধান প্রবেশ পথে তাঁর ছবি সহ একটি বিশাল ব্যানারও দেখা গেল রবিবার। কল্যাণীর মাঠে প্রথম রঞ্জির ম্যাচ বলে সিএবি-র পক্ষ থেকে একটি স্মারক ব্যাটে দু’দলের ক্রিকেটারদের সই করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ব্যাটটি রেখে দেওয়া হবে অ্যাকাডেমিতে।