Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

লো বললেন, জেনে গিয়েছি আর্জেন্তিনা মানে একা মেসি নয়

গৌতম ভট্টাচার্য
রিও ডি জেনেইরো ১৩ জুলাই ২০১৪ ০৩:২৭
জার্মান কোচের সাংবাদিক সম্মেলন। ছবি: এএফপি

জার্মান কোচের সাংবাদিক সম্মেলন। ছবি: এএফপি

পরপর দু’জন বসলেন মারাকানায় শনিবার দুপুরের সাংবাদিক সম্মেলনে! বাস্তিয়ান সোয়াইনস্টাইগার আর তাঁর কোচ জোয়াকিম লো। আত্মবিশ্বাস উপচে পড়ছে দু’জনেরই শরীরী ভাষায়। যেন শুধু রেফারির বাঁশির অপেক্ষা। তার পরেই নব্বই মিনিটে জার্মানরা ছিঁড়ে খাবে। নাহ, টাইব্রেকার অবধি গড়াতে দেবে না ব্যাপারটা!

প্রশ্ন: কেমন লাগছে বলুন? কাল তো এই রকম সময় ওয়ার্ম আপ শুরু করে দিতে হবে।
সোয়াইনস্টাইগার: খুব ভাল লাগছে। উত্তেজনা হলেও সেটাকে সামলে মনকে শান্ত রাখছি। শরীর টগবগে রয়েছে। ব্রাজিলের ওই ম্যাচটা চেষ্টা করছি যথাসম্ভব ভুলে যেতে। যেন ওটা কোনও গুরুত্বের ব্যাপার ছিল না। সত্যিই তো সে দিন ওদের নেইমার ছিল না। থিয়াগো সিলভা ছিল না। প্রথম মিনিট থেকে বোঝা যাচ্ছিল ব্রাজিল অসম্ভব চাপে। সেই ম্যাচ নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর মানে হয় না।

প্র: ফাইনালের চাপ মারাত্মক কামড়াচ্ছে নিশ্চয়ই?
সোয়াইনস্টাইগার: আমাদের কোনও চাপ নেই। ক্লোজে তো একটা কাপ ফাইনাল খেলেছে। বাকিরাও ক্লাব পর্যায়ে অনেকেই বড় ফাইনালে খেলেছে। ক্লাবেও অসম্ভব চাপ থাকে। তো ট্রেনিং তো হয়েই রয়েছে। রেফারির বাঁশি বাজার শুধু অপেক্ষা। তার পর নব্বই মিনিট একেবারে একমনা হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়াই তো আমাদের কাজ।

প্র: আর্জেন্তিনা টিমটা সম্পর্কে কী বলবেন?
সোয়াইনস্টাইগার: ভাল টিম। বেশ গুছিয়েছে নিজেদের। ওদের আসল প্লেয়ার হল মাসচেরানো। ও-ই হল আর্জেন্তিনা টিমটার কনডাক্টর। পুরো টিমটা ও-ই গুছিয়ে রাখে। যে ভাবে রবেনকে শেষ মুহূর্তে ও ট্যাকল করে গোল বাঁচাল, আমি দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি।

প্র: জার্মানি হালফিলে প্রচুর নকআউট ম্যাচ খেলেছে। কী সেমিফাইনাল, কী ফাইনাল।
সোয়াইনস্টাইগার: হতে পারে। কিন্তু এ বার আমাদের টিমটা খুব সলিড। যারা কমবয়সি, তারাও মনের দিক দিয়ে খুব হাট্টাকাট্টা। বিদেশি কোচেরা জার্মানিতে কোচিং করতে এসেও এত নতুন-নতুন জিনিস শিখিয়েছেন যে, জার্মান ফুটবলাররা এখন আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমার তো ফাইনালের জন্য খুব ভাল অনুভূতি হচ্ছে।

প্র: আপনি তো চোট নিয়ে এ বার খুব ভুগছিলেন? দ্বিতীয় প্রশ্ন, মেসিকে কী ভাবে রুখবেন?
সোয়াইনস্টাইগার: হ্যাঁ, সে জন্য শুরুর দিকটা খেলতে পারিনি। কোচ আমাকে চোট সারার সময় দিয়েছিলেন। আমি ঘানা ম্যাচ থেকে ফিরেছি। এখন খুব ভাল ফিল করছি। মনেই হচ্ছে না আমার হাঁটুতে যে দুটো অপারেশন হয়েছে।

(সবাই অপেক্ষা করে রয়েছে এ বার তিনি দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তর দেবেন মেসি। অথচ মিষ্টি হেসে সোয়াইনস্টাইগার উঠে গেলেন। তাঁর সময় নাকি শেষ।)
জোয়াকিম: না, আর্জেন্তিনাকে কোনও ভয়-টয় পাচ্ছি না। তবে আর্জেন্তিনা যে মোটেও ব্রাজিল নয়, সেটা আমরা জানি। যত টুর্নামেন্ট গিয়েছে, তত আর্জেন্টাইন ডিফেন্সকে আমার আরও বেশি জমাট লেগেছে।

প্র: কী হবে মনে করুন, কাল যদি আপনারা হেরে যান?
জোয়াকিম: আরে ও সব চ্যালেঞ্জ আমরা অনেক আগেও দেখেছি। জার্মানরা এত সহজে ঘাবড়ায় না। আমরা কী করতে পারি, অলরেডি এই বিশ্বকাপে দেখিয়েছি।

প্র: কেপটাউনে গত বিশ্বকাপে মেসিদের আপনারা ৪-০ হারিয়েছিলেন। এ বার কী হতে পারে?
জোয়াকিম: কেপটাউনের সেই আর্জেন্তিনার চেয়ে এরা অনেক ভাল টিম। একা মেসি আর ওদের হয়ে খেলছে না। মাসচেরানো আছে, ইগুয়াইন আছে, খুব স্পিডে চলে আসে। দি’মারিয়া আছে।

প্র: কাল খেলায় নির্ণায়ক কী হবে?
জোয়াকিম: যারা বলটা বেশি ধরতে পারবে। আর্জেন্তিনা দেখছি কাউন্টার অ্যাটাকে খেলার একটা স্টাইল রপ্ত করেছে। ওদের ডিফেন্স চাপ নিচ্ছে নীচে। এ বার হঠাৎ করে ওরা ওপরে চলে আসছে। এই সব ছোট ছোট জিনিস আমরা সবই খেয়াল রাখছি।

প্র: আপনারা জিতলে প্রথম ইউরোপীয় দেশ লাতিন আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ নিয়ে যাবে।
জোয়াকিম: জানি আমরা ইতিহাসের পাদপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। আর সেটার জন্য টাইব্রেকার অবধি গড়াতে দিতে চাই না। পেনাল্টি শুটআউটে বড় অন্য জিনিসগুলো এসে যায়। সব সময় দক্ষতাই শেষ নির্ণায়ক হয় না। তাই আশা করছি পেনাল্টির আগেই আমরা চুকিয়ে দিতে পারব!

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisement