খেলতে না পারলেও জরিমানা থেকে নিষ্কৃতি পেলেন পিভি সিন্ধু। দুবাইয়ে আটকে থাকায় খেলতে পারেননি অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েও খেলতে না পারার কারণে জরিমানা হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর শাস্তি মকুব করেছে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থা।
সিন্ধু নিজেই এই কথা জানিয়েছেন। সিন্ধু নিজের ইচ্ছায় প্রতিযোগিতায় নামেননি তা নয়। যুদ্ধের কারণে দুবাইয়ে আটকে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর কিছু করার ছিল না। এই পরিস্থিতিতে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হলে তা অন্যায় হত বলে মনে হয়েছে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থার। সেই কারণে জরিমানা মকুব করেছে তারা।
আর্থিক জরিমানা থেকে ছাড় পেলেও অন্য সমস্যায় সিন্ধু। এ বার সামনে সুইস ওপেন রয়েছে। সুইৎজ়ারল্যান্ডের বাসেলে ১০ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত হওয়ার কথা ইয়োনেক্স সুইস ওপেন সুপার ৩০০ প্রতিযোগিতা। কিন্তু সেখানে খেলতে যেতে হলে দুবাই বিমানবন্দর হয়েই যেতে হবে সিন্ধুকে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে তিনি খেলতে যেতে পারবেন কি না বুঝতে পারছেন না।
ইজ়রায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ দেশে। ফলে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ। তাই চিন্তা বেড়েছে সিন্ধুর।
‘স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’য় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিন্ধু বলেন, “সুইস ওপেন তো খেলতে চাইছি। কিন্তু বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। যে কয়েকটা বিমান চলাচল করছে তাতে টিকিট নেই। এই পরিস্থিতিতে দুবাই হয়ে সুইৎজ়ারল্যান্ডে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। দেখা যাক, আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি কোথায় যায়।”
আরও পড়ুন:
বার্মিংহ্যামে অল ইংল্যান্ড খেলতে যাওয়ার পথে দুবাইয়ে আটকে পড়েন সিন্ধু। মঙ্গলবার কোনও রকমে দেশে ফিরেছেন ভারতের হয়ে অলিম্পিক্সে জোড়া পদকজয়ী তারকা। দেশে ফেরার কথা মঙ্গলবার সকালে নিজেই সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন সিন্ধু। লিখেছেন, ‘‘বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়িতে ফিরেছি এবং সুরক্ষিত আছি।’’ কতটা উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন, তা সিন্ধুর লেখাতেই বোঝা যাচ্ছে। লিখেছেন, ‘‘গত কয়েকটা দিন অত্যন্ত কঠিন ছিল। অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটেছে। তবে অবশেষে নিজের ঘরে ফিরতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’’
ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রত্যেককে। লিখেছেন, ‘‘দুবাই কর্তৃপক্ষ, বিমানবন্দর কর্মী, ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং প্রতিটি মানুষ এই কঠিন সময়ে যে ভাবে এগিয়ে এসেছেন এবং আমাদের দেখাশোনা করেছেন, তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ওঁদের সহানুভূতি এবং পেশাদারিত্ব ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কারণ, তা অত্যন্ত মূল্যবান ছিল।’’ সবশেষে সিন্ধু লিখেছেন, ‘‘আপাতত বিশ্রাম নেব। এখন নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো ঠিক করার সময়।’’