রূপকথার মতো উত্থান বোধ হয় একেই বলে!
শূন্য থেকে শিখরে উঠে রবিবার ভারতীয় ফুটবলে ইতিহাস গড়ল আইজল এফসি। মিজোরামের এই দল আই লিগ জিতে শুধু দেশের সেরাই হল না, উত্তর-পূর্বের গায়ে লেগে থাকা বঞ্চনা আর প্রান্তিকতার বিরুদ্ধেও যেন জেহাদ ঘোষণা করল।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী রবার্ট রয়তে আইজল এফসি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শুধুমাত্র মিজোরামের আন্তঃগ্রাম টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে। অন্যান্য টুর্নামেন্ট নিয়ে তাঁর মাথাব্যথাই ছিল না। এমনকী, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনে ক্লাবকে নথিভুক্ত করাতেও উদ্যোগী হননি তিনি।
বছর পাঁচেক আগে মিজোরাম প্রিমিয়ার লিগ শুরু হওয়ার পর থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগে খেলার সুযোগ পায় আইজল এফসি। আর ছ’বছরের মধ্যেই আই লিগ! সোমবার রাজ্যে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করেছে মিজোরাম সরকার। খালিদ জামিল-রা ফেরার পরেই শুরু হবে উৎসব।
আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন হয়ে জবাব দিলাম বলছেন জামিল
অথচ গত বছর এই আইজলই অবনমন বাঁচাতে পারেনি। ফেডারেশন কাপ ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে পাঁচ গোলে হেরেছিল। এ বার সেই মোহনবাগানকে টপকেই ভারতসেরা তারা। মরসুম শেষ হওয়ার আগেই ফেডারেশন সভাপতি প্রফুল্ল পটেলকে চিঠি লিখেছিলেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী। অনুরোধ করেছিলেন, আইজল এফসি-কে আই লিগের প্রথম ডিভিশনে যেন ফিরিয়ে আনা হয়! সালগাওকর, স্পোর্টিং ক্লুব দ্য গোয়া আই লিগ থেকে নাম তুলে নেওয়ায় আইজল এফসি-কে সুযোগ দেয় ফেডারেশন। সেই প্রত্যাবর্তন রবিবার স্মরণীয় করে রাখলেন জোডিংলানা রালতে-রা।
আই লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আইজল এফসি-র প্রয়োজন ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। কিন্তু রবিবার লাজং এফসি-র বিরুদ্ধে শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। পিয়ের দিপান্দার গোলে এগিয়ে যায় লাজং। চাপ আরও বাড়ে কলকাতায় মোহনবাগান ২-১ গোলে চেন্নাই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ায়। শেষমেশ ৭৯ মিনিটে লালনুনফেলা-র গোলে স্বস্তি ফেরে আইজল শিবিরে।
আর রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই স্বপ্নপূরণ পাহাড়ের দলের। বাগানে তখন স্বপ্নভঙ্গের করুণ সুর।