ভারতীয় টেনিস গত দু’দশক কোর্টের ভেতর শাসন করতে দেখছে কলকাতার মহাতারকাকে। দেশের টেনিস আইকন লিয়েন্ডার পেজ বহু দিন যাবত মুম্বইবাসী হলেও আদতে এ শহরের ছেলে। কোর্টে লিয়েন্ডারের দাপট যখন অস্তমিত হওয়ার মুখে ঠিক তখনই কোর্টের বাইরে ভারতীয় টেনিসে প্রধান মুখ হয়ে উঠলেন কলকাতার সফলতম টেনিস কর্তা। তিনি হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় শনিবার সর্বসম্মতিক্রমে এআইটিএ-র মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। ভারতীয় টেনিসের প্রশাসনিক স্তরে বাংলার এত বড় সম্মান লাভ বত্রিশ বছর পর! রাজ্য টেনিস সংস্থা (বিটিএ) থেকে হিরণ্ময়ের আগে শেষ বার সর্বভারতীয় টেনিস অ্যাসোসিয়েশনে মহাসচিব হয়েছেন দিলীপ বসু। প্রয়াত এই বাঙালি এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন টেনিস তারকা ১৯৭৬-’৮০ ও ১৯৮১-’৮৪ দু’দফায় এআইটিএ-র মহাসচিব হয়েছিলেন।
হিরণ্ময় সেখানে গোটা দেশের টেনিসমহলে প্রচণ্ড ভাবে পরিচিত তাঁর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য। গত ৩০ বছরে কলকাতা থেকে জয়পুর, চেন্নাই থেকে চণ্ডীগড়, দেশজুড়ে অসংখ্য ডেভিস কাপ টাই আয়োজনের পিছনে এআইটিএর অন্যতম মুখ তিনি। ২০০৬-এ ভারত-পাক ডেভিস কাপ ম্যাচ করতে দিনকয়েকের নোটিশে ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামের মাঠের একটা অংশে রীতিমতো গ্রাসকোর্ট তৈরি করে ফেলেছিলেন হিরণ্ময়। একাধিক বার কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য হয়েছেন গত অনেক বছর বিটিএ প্রেসিডেন্ট পদে আসীন এই ষাটোর্ধ্ব মানুষটি।
এ দিন ইনদওরে এআইটিএর বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পরে ফোনে হিরণ্ময় বললেন, ‘‘আমার প্রথম কাজ হবে এশিয়ার নতুন টেনিস ট্যুর এটিটি-কে আরও জমজমাট করা। তার জন্য এ বছরের শেষেই কলকাতায় দু’টো টেনিস ট্যুরের পরপর দু’টো টুর্নামেন্ট করছি। সল্টলেকের বিটিএ কমপ্লেক্সে। এশিয়ার প্রায় সব দেশের সেরা ডেভিসকাপাররা খেলবে।’’ শহরে গত ১৩ বছর ডেভিস কাপ না হওয়ার খেদ রয়েছে তাঁর। ২০০৩-এ ভারত-নিউজিল্যান্ড টাই-ই শেষ কলকাতায়। হিরণ্ময় আশ্বাস দিচ্ছেন, ‘‘জুলাই, সেপ্টেম্বরের ডেভিস কাপ কলকাতায় বর্ষার জন্য করা সম্ভব নয়। তবে ভারত এর পর ফেব্রুয়ারি, মার্চে যে ডেভিস কাপ নিজের দেশে খেলবে সেটাই করব কলকাতায়।’’
মুম্বইয়ের ‘না’
রঞ্জি ট্রফি অভিযানের আগে বাংলার প্রস্তুতি কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল। ঠিক ছিল, রঞ্জির আগে শক্তিশালী মুম্বইয়ের সঙ্গে বাংলা দু’টো ম্যাচ খেলবে। কিন্তু শনিবার মুম্বই জানিয়ে দিল, তারা আসছে না। এক ই-মেল মারফত সিএবি-কে এটা জানানো হয়। যা খবর, মুম্বই আর বাংলা রঞ্জিতে এক গ্রুপে পড়ে যাওয়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। শুক্রবার রঞ্জির সূচি বেরনোর পর যা বোঝা যায়। শোনা গেল সিএবি-র পক্ষ থেকে কথা বলা হবে একবার। কিন্তু যদি একান্তই না আসে মুম্বই, বিকল্প খোঁজা হবে।