Advertisement
E-Paper

মহাতারকা এই কমিটির ভবিষ্যৎ কী, উঠছে প্রশ্ন

হেড কোচ শাস্ত্রীর সঙ্গে সৌরভ-সচিনদের কমিটির সহকারী নির্বাচন নিয়ে কথা হলেও দু’পক্ষের মধ্যে যে মতপার্থক্য ছিল, তা নিয়েও সন্দেহ নেই বিনোদ রাই-দের। তাঁরা তাই শাস্ত্রীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে চান। তাঁরা মনে করছেন, কোচ বা অধিনায়ক অর্থাৎ টিমের এ ব্যাপারে স্বাধীনতা পাওয়া উচিত। হেড কোচের যে এই সম্মানটুকু প্রাপ্য, সেটাও তিনি মেনে নিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৭ ০৫:০৭
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কোচ নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রশ্ন উঠে পড়ছে তারকাসমৃদ্ধ ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি নিয়ে। এ ব্যাপারে এখনও বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি কেউ না দিলেও ভিতরে-ভিতরে নানা রকম আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। যা পরিস্থিতি, ভবিষ্যতে এই কমিটি থাকবে কি না, সেটাই এখন দেখার।

বিরাট কোহালিদের দলের সহকারী কোচ নির্বাচন নিয়ে কাজিয়া দেখে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত পর্যবেক্ষকের দল, কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্‌স (সিওএ)-ও খুশি নয়। সিওএ মনে করছে, উপদেষ্টা কমিটির হাতে শুধুই হেড কোচ নিয়োগের দায়িত্ব ছিল। সহকারী বাছতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের সীমানা অতিক্রম করেছে।

প্রশাসকদের প্রধান বিনোদ রাইয়ের এ দিনের কথাবার্তা থেকেই স্পষ্ট যে, তাঁরা উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে ধরে নিচ্ছেন না। একমাত্র হেড কোচ হিসেবে শাস্ত্রীর নির্বাচনকেই তাঁরা চূড়ান্ত বলে ধরছেন। রাহুল দ্রাবিড় বা জাহির খানের নামকে সুপারিশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যার অর্থ, এত দিনকার পদ্ধতি মেনে হেড কোচ শাস্ত্রীকেই সহকারী বাছার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। অতীতে ভারতীয় দলের দায়িত্বে যে কোচই এসেছেন, তিনি নিজের পছন্দ মতো সহকারী এনেছেন। যেমন গ্রেগ চ্যাপেল এনেছিলেন ইয়ান ফ্রেজারকে। গ্যারি কার্স্টেন এনেছিলেন প্যাডি আপটনদের। এমনকী, গত বার এই উপদেষ্টা কমিটিই অনিল কুম্বলেকে কোচ বেছে নিয়েছিল। তখন কুম্বলের হাতেই সহকারী নির্বাচনের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকেরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলেছেন কমিটির গঠন নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, একই প্রজন্মের তিন ক্রিকেটারকে নিয়েই শুধু কমিটি হল কেন? কারও কারও কাছে আরও দৃষ্টিকটূ লেগেছে যে, উপদেষ্টা কমিটি তাদেরই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের খালি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নির্বাচিত করছে। গত বার কোচ নির্বাচনের সময় যেমন অনিল কুম্বলেকে বাছা হয়েছিল। এ বারও দ্রাবিড় ও জাহিরকে পরামর্শদাতা হিসেবে বেছে নিয়েছে কমিটি। তাঁরাও কমিটির তিন সদস্য সচিন, সৌরভ, লক্ষ্মণের সমসাময়িক। কেউ কেউ এমন প্রশ্নও তুলেছেন যে, ভারতীয় বোলিং স্পিন-নির্ভর। এরাপল্লি প্রসন্ন বা বিষাণ সিংহ বেদীর মতো নাম পরামর্শদাতা হিসেবে ভাবব না কেন?

হেড কোচ শাস্ত্রীর সঙ্গে সৌরভ-সচিনদের কমিটির সহকারী নির্বাচন নিয়ে কথা হলেও দু’পক্ষের মধ্যে যে মতপার্থক্য ছিল, তা নিয়েও সন্দেহ নেই বিনোদ রাই-দের। তাঁরা তাই শাস্ত্রীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে চান। তাঁরা মনে করছেন, কোচ বা অধিনায়ক অর্থাৎ টিমের এ ব্যাপারে স্বাধীনতা পাওয়া উচিত। হেড কোচের যে এই সম্মানটুকু প্রাপ্য, সেটাও তিনি মেনে নিয়েছেন।

শোনা যাচ্ছে, লন্ডনে থাকার সময় শাস্ত্রীর সঙ্গে একপ্রস্থ কথাবার্তা হয়েছে বোর্ডের প্রশাসকদের। রবিবার শাস্ত্রী দেশে ফিরছেন। তারপর সোমবারেই বৈঠক করবেন বোর্ডের সঙ্গে। তখন বিস্তারিত আলোচনা হবে সহকারীদের নিয়ে। আনন্দবাজারে এ দিনই প্রকাশিত হয়েছে যে, শাস্ত্রী সহকারীদের একই ‘কোর গ্রুপ’ ধরে রাখতে চান। তিনি পাকাপাকি ভাবে বোলিং কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে রাখতে চান প্রাক্তন ভারতীয় মিডিয়াম পেসার ভরত অরুণ-কে। অতীতে শাস্ত্রী ডিরেক্টর থাকার সময় অরুণই দলের বোলিং কোচ ছিলেন। তিনি জাহিরের মতো ক্রিকেটার হিসেবে বড় নাম না হলেও দলের সার্বিক পরিকল্পনার দিকে থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বোর্ডকে বলা হবে। যা ইঙ্গিত, যদি সোমবারেই অরুণের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে যায় অবাক হওয়ার থাকবে না। সেক্ষেত্রে দ্রাবিড় এবং জাহিরকে পরামর্শদাতার তালিকাতেই শুধু রাখা হবে। তা-ও নানা প্রশ্ন থাকবে। দ্রাবিড়ের ক্ষেত্রে জটিলতা হচ্ছে, তিনি ইতিমধ্যেই অনূর্ধ্ব উনিশ এবং ভারতীয় ‘এ’ দলের দায়িত্বে। জাহির আবার আইপিএল থেকে অবসরই নেননি এখনও। তিনি দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ক্রিকেটার।

সৌরভ গতকালও দাবি করেছেন যে, জাহিরের সঙ্গে তাঁদের যা কথা হয়েছে তাতে দেড়শো দিন তিনি দিতে রাজি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকেরা শুধু তার ভিত্তিতেই জাহিরকে নিয়োগ করবে না। তাঁকে আইপিএল থেকে অবসর নিতে হবে। তার পরেও টিমের প্রয়োজন হলে তবেই তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তি হতে পারে। বিনোদ রাইয়ের কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শাস্ত্রীর হাতে।

বোর্ড মহলের খবর, আদালত নিযুক্ত প্রশাসকদের মধ্যে আলোচনায় এই কমিটিতে পরিবর্তন আনার কথা উঠেছে। একই প্রজন্মের তিন ক্রিকেটার না রেখে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে আরও সিনিয়র কয়েক জনকে কমিটিতে যোগ করা হতে পারে। বেতনভুক কমিটিও হতে পারে। এবং, খতিয়ে দেখা হবে কেউ একাধিক ভূমিকায় থাকছেন কি না। স্বার্থ সঙ্ঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন কাউকে আর কমিটিতে রাখা হবে না।

Cricket Advisory Committee CAC Saurav Ganguly Sachin Tendulkar Vvs Laxman সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সচিন তেন্ডুলকর ভিভিএস লক্ষ্মণ BCCI Cricket
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy