Advertisement
E-Paper

আনন্দের কৃতিত্বে মুগ্ধ সূর্য-সন্দীপনেরা

সূর্যশেখর এই টুর্নামেন্টে আনন্দের পাশাপাশি ভারতীয় দলে ছিলেন। তাঁর পারফরম্যান্সও নজরকাড়া। প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন রুসলন পোনোমারিয়ভ এবং এখন আনন্দের সেকেন্ড ইংল্যান্ডের ম্যাকশেন লিউককে হারিয়েছেন।

শমীক সরকার

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:২৯
ত্রয়ী: এক ফ্রেমে তিন গ্র্যান্ডমাস্টার। সন্দীপন, সূর্যশেখর এবং নীলোৎপল।

ত্রয়ী: এক ফ্রেমে তিন গ্র্যান্ডমাস্টার। সন্দীপন, সূর্যশেখর এবং নীলোৎপল।

বিশ্বনাথন আনন্দ বিশ্ব র‌্যাপিড দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন প্রায় সপ্তাহও খানেক হয়ে গিয়েছে। ৪৮ বছর বয়সি ‘চিরতরুণ’ দাবাড়ুর চমকে এখনও মুগ্ধ দাবা বিশ্ব। পাশাপাশি ভারতীয় দাবাড়ুদের উপরে আনন্দের এই খেতাবের প্রভাব কতটা তাঁর আঁচ পাওয়া গেল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। তিন গ্র্যান্ডমাস্টারের সঙ্গে কথা বলে। তাঁরা— আনন্দের দুই প্রাক্তন সেকেন্ড বা সহকারী সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায়, সন্দীপন চন্দ এবং গ্র্যান্ডমাস্টার নিলোৎপল দাস।

সূর্যশেখর এই টুর্নামেন্টে আনন্দের পাশাপাশি ভারতীয় দলে ছিলেন। তাঁর পারফরম্যান্সও নজরকাড়া। প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন রুসলন পোনোমারিয়ভ এবং এখন আনন্দের সেকেন্ড ইংল্যান্ডের ম্যাকশেন লিউককে হারিয়েছেন। তবে নিজের কৃতিত্ব নয়, তাঁর মুখে উঠে আসছে সিনিয়রের প্রশংসা। তিনি বলেন, ‘‘চেন্নাইতে কার্লসেনের কাছে ২০১৩-য় যে ভাবে হেরেছিলেন আনন্দ তার পরে কেউ আশা করেনি যে আর কোনও দিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। এমনকী, রিয়াধের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ২০-২৫ দিন আগেও লন্ডন চেস ক্ল্যাসিকেও সব ম্যাচ হেরেছিলেন। তার পরে এ রকম প্রত্যাবর্তন ভাবা যায় না।’’

সূর্যর মতে নাছোড় মনোভাব আর অসম্ভব দায়বদ্ধতাই সবচেয়ে বড় শক্তি আনন্দের। ‘‘আমার মনে আছে ২০০৮-এ জার্মানিতে ভ্লাদিমির ক্র্যামনিককে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে দেশে যে দিন আনন্দ ফিরলেন, ফেডারেশন একটা সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল চেন্নাইতে। আমি ঘটনাচক্রে সেখানে আমন্ত্রিত ছিলাম। যে দিন উনি ফিরেছেন তার পরের দিন বিকেলে সংবর্ধনা ছিল। এর মধ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন। শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেও আনন্দ সে দিন আমায় বললেন, ‘তুমি কি ল্যাপটপ এনেছ? তা হলে প্র্যাকটিস করা যেত।’ এটাই আনন্দ।’’

শুধু প্রত্যাবর্তন নয়, সন্দীপন চন্দ আবার মনে করেন আনন্দের এই সাফল্য দাবা খেলার বয়সের সীমারেখাটাই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘‘এখন বলা হয় এক জন দাবাড়ুর সেরা পারফরম্যন্সটা বেরিয়ে আসে তরুণ বয়সে। যেমন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেন। কিন্তু সেরা পারফরম্যান্সটা যে বেশি বয়েসেও দেখানো যায় সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন আনন্দ,’’ বলেন সন্দীপন।

আনন্দের এই কৃতিত্ব থেকে জুনিয়র দাবাড়ুদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে বলে মনে করেন নীলোৎপল দাস। তিনি বললেন, ‘‘শুধু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যায়ের টুর্নামেন্ট নয়, সারা বছর একই ভাবে প্রস্তুতি ধরে রাখতে হবে। আনন্দকে দেখে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা নেওয়ার।’’

এই চমকের পরে আনন্দ কি ফের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারবেন?

তিন গ্র্যান্ডমাস্টারই মনে করেন আনন্দের পক্ষে সবই সম্ভব। সূর্য বললেন, ‘‘রিয়াধের টুর্নামেন্টটা হওয়ার এক মাস আগেও যদি প্রশ্ন করতেন আনন্দ চ্যাম্পিয়ন হবে কি না, আমরা কেউই হয়তো নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে পারতাম না। এখনও প্রশ্নটার উত্তর একই দেব। আনন্দ ফের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলে আমরা যাঁরা ওঁকে কাছ থেকে চিনি, তারা অন্তত অবাক হব না। আর যদি চ্যাম্পিয়ন না হতে পারেন, সেটাও কিন্তু অস্বাভাবিক নয়।’’

Chess সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায় সন্দীপন চন্দ নিলোৎপল দাস Viswanathan Anand বিশ্বনাথন আনন্দ
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy