Advertisement
E-Paper

বাংলার ক্রিকেটে নাটক! ‘ভুল তথ্য দিয়ে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা’, সুজয়-সঞ্জিত বিতর্কে জানাল সিএবি, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন মেদিনীপুর ক্রীড়া সংস্থার সচিব সঞ্জিত তরই। সেই ঘটনায় সিএবির দিকেও আঙুল তুলেছিলেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১০:৫১
cricket

ইডেন গার্ডেন্স। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার পাশাপাশি সিএবির দিকেও আঙুল তুলেছিলেন মেদিনীপুর ক্রীড়া সংস্থার সচিব সঞ্জিত তরই। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রভাব খাটিয়ে সিএবির বার্ষিক সভায় গিয়েছিলেন সুজয়। সিএবির অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিশ্বপতি সেনের দিকেও আঙুল তুলেছিলেন তিনি। সেই বিষয়ে বিবৃতি দিল বাংলার ক্রিকেট সংস্থা। তাদের দাবি, ভুল তথ্য দিয়ে সিএবিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছেন সঞ্জিত। এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সিএবি।

সিএবি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “সিএবির বার্ষিক সভায় যোগদানের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁর আবেদন সিএবির অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিশ্বপতি গ্রহণ করেননি বলে সঞ্জিত যে অভিযোগ করেছেন, তা অসত্য। তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন। বাংলার ক্রিকেটকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছেন। বাংলার ক্রিকেটে রাজনীতির রং লাগেনি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে হওয়া নির্বাচনী বিধিকে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে।”

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বাংলার ক্রিকেট সংস্থা জানিয়েছে, সঞ্জিত যে আবেদন পত্র জমা দিয়েছিলেন তাতে সব তথ্য ছিল না। সেই কারণেই তাঁর ফর্ম নেওয়া হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সঞ্জিত যে আবেদন পত্র পাঠিয়েছিলেন তাতে সব তথ্য ছিল না। তাঁকেই যে মেদিনীপুর ক্রীড়া সংস্থা প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে সেই সংক্রান্ত কোনও নথি তিনি দেননি। সিএবি সব তথ্য খতিয়ে দেখে তার পর আবেদন গ্রহণ করেন। তখন সঞ্জিত জানিয়েছিলেন, দ্রুত তিনি বাকি নথি পাঠাবেন।”

পরে যে আবেদন পত্র মেদিনীপুর ক্রীড়া সংস্থা থেকে পাঠানো হয়েছিল, তাতে সঞ্জিতের বদলে সুজয়ের নাম ছিল বলে জানিয়েছে সিএবি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পরবর্তীতে যে আবেদন পাঠানো হয়, তাতে প্রতিনিধি হিসাবে সুজয় হাজরার নাম লেখা ছিল। সেখানে মেদিনীপুর ক্রীড়া সংস্থার সচিব হিসাবে সঞ্জিতেরও সই ছিল।” সিএবির দাবি, আবেদন পত্রে প্রথমে ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি হিসাবে সঞ্জিতের নাম ছিল। পরে তার উপর হোয়াইটনার (সাদা রং) ব্যবহার করে সুজয়ের নাম লেখা হয়। তারিখ বদলে করা হয় ৯ সেপ্টেম্বর। সঞ্জিত তাতে সই করেছিলেন। তাই সঞ্জিতের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু সিএবি কোনও দিন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেনি।

বাংলার ক্রিকেট সংস্থার আরও দাবি, বার্ষিক সভায় সুজয়ের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রেও কোনও অনিয়ম হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৪ সালেও সিএবিতে মেদিনীপুর জেলার প্রতিনিধি ছিলেন সুজয়। সিএবি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে কাজ করে। তাই সঞ্জিতের এই কাজ সিএবি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে। এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।” সুজয়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সিএবির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। যে আবেদন পত্র ঘিরে এই জটিলতা তা-ও প্রকাশ করেছে সিএবি।

কী অভিযোগ ছিল সঞ্জিতের?

জমি কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিএবির ডিস্ট্রিক্ট কোচিং সাব কমিটির চেয়ারম্যান সুজয় গ্রেফতার হওয়ার পরেই মুখ খোলেন সঞ্জিত। তাঁর অভিযোগ, গত বছর সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে প্রভাব খাটিয়েছিলেন সুজয়।

সঞ্জিতের অভিযোগ, মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল তাঁর। তিনি বলেন, “গত বছর সিএবির বার্ষিক সভায় ঠিক হয়েছিল, মেদিনীপুর জেলা থেকে আমি প্রতিনিধিত্ব করব। সেই মতো ফর্মও জমা দিতে গিয়েছিলাম। সেই সময় সিএবির অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিশ্বপতি সেন আমার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম দেখে বলেন, ফর্মে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। এই ফর্ম গ্রহণ করা যাবে না।”

সঞ্জিত জানিয়েছেন, এই কথা শুনে তিনি জেলায় ফিরে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানান যে, ফর্মে কিছু সমস্যা রয়েছে। সঞ্জিত বলেন, “তখন হঠাৎ সুজয় এসে বলে, ‘আমাকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বার্ষিক সভায় যেতে।’ এই নিয়ে আবার বৈঠক হয়। সেখানে প্রভাব খাটিয়ে সুজয় নিজের নাম পাশ করিয়ে নেয়। মাথা নিচু করে বাধ্য হয়ে আমিও ওর নামে সই করি।” প্রশ্ন ওঠে, বিশ্বপতি একজন অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট হয়ে কী ভাবে স্ক্রুটিনি করলেন? এটা কি করা যায়? সেই ঘটনা নিয়ে এ বার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল সৌরভের সংস্থা।

bengal cricket CAB
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy