মাইক্রোফোনের সামনে সাধারণত তিনি বিস্ফোরক কথাবার্তা বলেন না। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের কাছে হারার পর সেই কাজটাই করেছেন অজিঙ্ক রাহানে। স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ২০২৩-এর পর থেকে অন্যতম সেরা স্ট্রাইক রেট তাঁর। যাঁরা সমালোচনা করছেন তাঁরা হিংসে করেন রাহানেকে। সত্যিই কি ঠিক বলেছেন রাহানে? একেবারেই নয়। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে রাহানে অনেক পিছিয়ে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে রাহানে বলেন, “২০২৩ থেকে অন্যতম সেরা স্ট্রাইক রেট আমার। যারা কথা বলছে তারা হয়তো আমার খেলা দেখছে না বা আমাকে পছন্দ নয়। ওরা আমার খেলা দেখতে চায় না। যে সাফল্য পেয়েছি তা দেখে আমায় হিংসে করে। অবশ্য আমি তাতে বিশেষ চিন্তিত নই।”
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘‘অনেকেই চায় আমার অন্য ধরনের ইনিংস দেখতে। ওরা ভাবতে পারে না অজিঙ্ক রাহানে এই বয়সেও অনেককে ভুল প্রমাণিত করে চলেছে। তবে আমার ভাল লাগছে যে এখনও আমাকে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে। ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক, যা-ই হোক। আমি যে এখনও আলোচনার মধ্যে আসছি এটাই অনেক।’’
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-এর পর থেকে রাহানে ৪২টি ম্যাচ খেলে করেছেন ১০৩৩ রান। গড় ২৯.৫১। স্ট্রাইক রেট ১৪৭.৪৮। স্ট্রাইক রেটের তালিকায় তিনি রয়েছেন ৮৮ নম্বরে। অন্তত ৫০ বল খেলেছেন, এমন ব্যাটারদের তালিকায় তিনি ৬৪ নম্বরে। এই বিভাগে সকলের উপরে বৈভব সূর্যবংশী। তার স্ট্রাইক রেট ২১৮.৭০।
ক্রিজ়ে ২৫০ বা তার বেশি বল খেলেছেন, এমন ক্রিকেটারদের তালিকায় রাহানে রয়েছেন ৪৪ নম্বরে। এই তালিকায় শীর্ষে অভিষেক শর্মা, যাঁর স্ট্রাইক রেট ১৮৫.২৩। অন্তত ২৫০টি বল খেলেছেন, এমন ব্যাটারদের তালিকায় রাহানে রয়েছেন ২৮ নম্বরে। নিকোলাস পুরান ১৯১.৬০ স্ট্রাইক রেট নিয়ে সকলের আগে।
পাওয়ার প্লে-তে রাহানের স্ট্রাইক রেটও বিশেষ আকর্ষক নয়। যদিও ২০২৩ থেকে ধরলে, এই তালিকায় তিনি রয়েছেন চারে। সকলের আগে ট্রেভিস হেড। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৮৭.৯৮। এর পর অভিষেকের স্ট্রাইক রেট ১৭৬.৫৬। ফিল সল্টের (১৭৩.৮০) পরে রয়েছেন রাহানে (১৬৭.৭৮)।
আরও পড়ুন:
পেসারদের বিরুদ্ধে রাহানের স্ট্রাইক রেট ১৭০.৭৯। কিন্তু স্পিনারদের বিরুদ্ধে সেটাই কমে হয় ১৪০.৫৪। পাওয়ার প্লে-র পর রাহানের স্ট্রাইক রেট আরও কমে যায়। হয়ে যায় ১২৭.২৭। মাঝের ওভারে সেটাই কমে হয় ১১৫.৫৮। সব মিলিয়ে ১২৯.৩০।
অর্থাৎ রাহানে যে সব কথা সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন তার সঙ্গে পরিসংখ্যান অন্তত মিলছে না। আপাতত নিজের দাবি প্রমাণ করারই চেষ্টা করবেন তিনি।