পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের পাশে দাঁড়ালেন শাহিদ আফ্রিদি। জ্বালানি তেলের বিপুল দাম বৃদ্ধিকে সমর্থন করে দেশবাসীকেও সরকারের পাশে থাকার আর্জি জানালেন প্রাক্তন ক্রিকেটার।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এবং ইরানের পাল্টা জবাবকে কেন্দ্র করে অশান্ত পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে শুক্রবার হয়েছে ১৪১ ডলার। শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, ইরান হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখায় তেল এবং এলপিজি সরবরাহেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন দেশে ঊর্ধ্বমুখী তেল এবং গ্যাসের দাম। ব্যতিক্রম নয় পাকিস্তানও।
গত এক মাসে পাকিস্তানের ডিজেলের দাম বেড়েছে ৫৪.৯ শতাংশ। পাকিস্তানের মুদ্রায় এক লিটার ডিজেলের দাম এখন ৫২০ টাকা ৩৫ পয়সা (ভারতীয় মূল্যে ১৭৩ টাকা ২৩ পয়সা)। এই সময়ে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২.৭ শতাংশ। এখন পাকিস্তানের মুদ্রায় এক লিটার পেট্রোলের দাম ৪৫৮ টাকা ৪০ পয়সা (ভারতীয় মূল্যে ১৫২ টাকা ৬০ পয়সা)। এই দাম বৃদ্ধিতে শাহবাজ় শরিফ সরকারের উপর ক্ষুব্ধ পাক নাগরিকদের একাংশ। কারণ জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারকে খুশি করার চেষ্টা করেছেন আফ্রিদি। দেশবাসীর প্রতি প্রাক্তন অধিনায়কের বার্তা, এখন সরকারের পাশে থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘‘প্রিয় বন্ধুরা, আমি শাহিদ আফ্রিদি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। গোটা বিশ্বই এখন এই চ্যালেঞ্জের সামনে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, অনেক দেশের তুলনায় পাকিস্তান এখনও ভাল জায়গায় রয়েছে। এত জন পাকিস্তানি হিসাবে আমাদের এই সময়ে সরকারের পাশে থাকা এবং সরকারকে সমর্থন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা মোকাবিলা করে সরকার দেশের উন্নতি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে। আমাদের সরকারের পদক্ষেপ অনুসরণ করা।’’
তেল সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল)। প্রথমে ঠিক ছিল ছ’টি শহরে হবে ম্যাচগুলি। তালিকায় ছিল মুলতান, পেশোয়ার, ফয়জলাবাদ, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি এবং লাহৌরে। দেশে জ্বালানি সঙ্কটের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে দু’টি শহরকে। করাচি এবং লাহৌর হচ্ছে পিএসএলের সব ম্যাচ। দলগুলির যাতায়াতে খরচ এবং সমস্যা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
আরও পড়ুন:
মার্চ মাস থেকে ক্রমশ ডিজেল এবং পেট্রোলের দাম বাড়াচ্ছে পাক সরকার। জ্বালানি তেলের জন্য পাকিস্তান সম্পূর্ণ ভাবে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল। মূলত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে তেল আমদানি করে পাকিস্তান। এই দু’দেশ থেকে তেলবাহী জাহাজগুলি হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছোয়।