গ্রীষ্মের ফল আম সবে উঠতে শুরু করেছে বাজারে। ইতিমধ্যে হয়তো কেউ কেউ বাড়িতে কিনেও এনেছেন পাকা আম। তবে বাজার থেকে আম কিনে এনেই সরাসরি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম খাওয়ার অন্তত ২৫-৩০ মিনিট আগে তা জলে ভিজিয়ে রাখা জরুরি। কেবল পরিষ্কার করার জন্য নয়, বরং শরীরকে কিছু ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। যে ক্ষতি ক্যানসারেরও কারণ হতে পারে।
১. থার্মোজেনিক প্রভাব কমানো
আমের নিজস্ব থার্মোজেনিক গুণ রয়েছে। যা শরীরে তাপ উৎপাদন করে। যে কারণে আম খাওয়ার পর অনেকেরই ব্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা মাথা ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। জলে ভিজিয়ে রাখলে আমের ওই অতিরিক্ত তাপ উৎপাদনকারী বৈশিষ্ট্যটি নষ্ট হয়ে যায় এবং এটি শরীর ঠান্ডা করতেও কাজ করে।
২. ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও কীটনাশক অপসারণ
আম দ্রুত পাকানোর জন্য অনেক সময় ‘ক্যালসিয়াম কার্বাইড’ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া চাষের সময় পোকা দমনের জন্য প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। জলে ভিজিয়ে রাখলে ফলের খোসায় লেগে থাকা এসব বিষাক্ত রাসায়নিক ধুয়ে যায়, যা ক্যানসার বা চর্মরোগের ঝুঁকি কমায়।
৩. ফাইটিক অ্যাসিড দূর করা
আমের বোঁটার কাছে বা খোসার নিচে ফাইটিক অ্যাসিড নামক এক ধরনের পুষ্টিবিরোধী উপাদান থাকে। এটি শরীরের ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং জিঙ্কের মতো খনিজ শোষণে বাধা দেয়। জলে ভিজিয়ে রাখলে এই অ্যাসিড বেরিয়ে যায়, ফলে আম থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীর সহজেই গ্রহণ করতে পারে।
৪. আঠালো কষ পরিষ্কার করা
আমের বোঁটা থেকে অনেক সময় সাদাটে আঠা বা কষ বের হয়। এই কষ সরাসরি চামড়ার সংস্পর্শে এলে চুলকানি, র্যাশ বা গলার জ্বালাভাব হতে পারে। জলে ভিজিয়ে রাখলে এই কষ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়।
কতক্ষণ ভেজাবেন?
যদি হাতে সময় থাকে, তবে ১-২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা সবচেয়ে ভালো।
তাড়া থাকলে অন্তত ৩০ মিনিট অবশ্যই জলে ডুবিয়ে রাখুন।
ফ্রিজের ঠাণ্ডা জলের চেয়ে সাধারণ তাপমাত্রার জলে ভেজানোই বেশি কার্যকর।