ব্যস্ত জীবনে ক্লান্তি এলেও ক্লান্তি দূর করার সময় বা সুযোগ মেলে কম। তাই অনেকেই ভরসা করেন শর্টকাটে। আর সেই শর্টকাট হল এমন কিছু খাবার, যা তাৎক্ষণিক শক্তি জোগালেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে আরও অবসন্ন করে তোলে। তেমনই পাঁচ খাবার চিনে নিন। যা শরীরের স্ফূর্তি বা প্রাণশক্তি বা এনার্জি বৃদ্ধির বদলে আসলে কমিয়ে দেয়।
এনার্জি ড্রিংকস
এনার্জি ড্রিংকস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যাকে বলা হয় ‘সুগার রাশ’। এতে সাময়িক উদ্দীপনা পাওয়া গেলেও কিছু ক্ষণ পরেই শর্করার মাত্রা দ্রুত নামতে শুরু করে যা শরীরকে আগের চেয়েও বেশি ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত করে তোলে।
ফলের রস
গরমে রাস্তায় বেরিয়ে ঘেমে নেয়ে বাড়ি ফেরার পরে কিংবা পথচলতি শরবতের দোকানে অনেকেই ফলের রস খান। ওই সমস্ত দোকানে চোখের সামনে নানা রকম ফল পিষে তার রস ভরে দেওয়া হয় গ্লাসে। দেখে মনে হতেই পারে তা স্বাস্থ্যকর। তাজা ফলের রস খাচ্ছেন। কিন্তু আদতে তা নয়। ফলের রস তৈরির সময় তা থেকে ফাইবার পুরোপুরি বাদ চলে যায়। পরে থাকে শুধুই প্রাকৃতিক চিনি। যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রেও শর্করার মাত্রা যেমন ঝপ করে বাড়ে তেমনই ঝপ করে পরেও যায়। এক্ষেত্রে ফলের রসের বদলে ফল খেলে কাজ হবে বেশি।
কফি বা চা
কফি সাময়িকভাবে মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করলেও এটি মূলত শরীরের অ্যাডেনোসিন নামের এক ধরনের ক্লান্তি-নির্দেশক হরমোনকে ঢেকে রাখে। কিন্তু তার প্রভাব কেটে যাওয়ার পরে দ্বিগুণ গতিতে ফিরে আসে সেই হরমোন। তখন আরও বেশি দ্রুত ক্লান্তি চেপে ধরে শরীরকে। এ ছাড়া, অতিরিক্ত ক্যাফিন পানের ফলে ঘুমের চক্রও ব্যাহত হয়।
কেক-বিস্কুট
খিদে পেলে বা ক্লান্ত বোধ করলে অনেক সময়েই হাত চলে যায় ছোট ছোট খাবারের দিকে। যেমন কেক, বিস্কুট ইত্যাদি। যা হাতের কাছেই থাকে সবার। হয় অফিসের ডেস্কে নয়তো রান্নাঘরে। সহজলভ্য ওই ধরনের খাবার খেয়ে তাৎক্ষণিত স্বস্তি মেলে পেটও ভরে। কিন্তু সেই খাবারও রক্তে শর্করার মাত্রা ঝট করে অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। যা নামলে আবার ক্লান্তি আসে।
ফাস্ট ফুড
খিদে পেলে বা ক্লান্তি বোধ করলে ভাজাভুজি বা ফাস্টফুড খেয়ে মেজাজ ভাল করার এবং ক্লান্তি দূর করার প্রবণতা দেখা যায়। এমনটা স্বাভাবিক। কিন্তু তার ফল ভাল হয় না মোটেই। অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার হজম করতে শরীরের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। ভাজা খাবার খাওয়ার পর পরিপাকতন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় বলে শরীরের বাকি অংশে শক্তির অভাব দেখা দেয়। একারণেই ভারী বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পর অনেক সময় প্রচণ্ড ঘুম পায়।