তাঁর দেশ পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ওঠার আগেই বিদায় নিয়েছে। অথচ মহম্মদ আমিরের নজর ভারতের দিকে। তাঁর সমালোচনা বন্ধই হচ্ছে না। এর আগে তাঁর নিশানায় ছিলেন অভিষেক শর্মা। এ বার গোটা ভারতীয় দলকে নিশানা করেছেন তিনি। ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ১৯৬ রান তাড়া করে ভারতের জয়ের পরেও আমিরের মতে, সূর্যকুমার যাদবেরা ভাল খেলছেন না।
পাকিস্তানের এক সংবাদমাধ্যমে হাজির ছিলেন আমির। সেখানে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচ চলছিল। খেলার আগে আমির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় জিতবে। কিন্তু সে কথা সত্যি হয়নি। খেলা শেষে সঞ্চালক আমিরকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি নিজের ভুল স্বীকার করবেন? জবাবে আমির বলেন, “যদি ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণ করেন তা হলে দেখবেন, ভারত একদমই ভাল খেলছে না। ওদের ফিল্ডিং দেখুন। তিন-চারটে ক্যাচ পড়েছে। বুমরাহ ছাড়া সব বোলার রান দিয়েছে। ওরা শুধু এক বোলারের সাহায্যে খেলছে।”
সেখানেই থেমে থাকেননি আমির। তাঁর মতে, সঞ্জু স্যামসন না থাকলে তাঁর কথাই ফলে যেত। একজন ক্রিকেটারেরা কাঁধে ম্যাচ জিতেছে ভারত। আমির বলেন, “আপনি বলছেন, ওরা আমাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। দেখুন, যে ভাল খেলেছে তাকে সম্মান দিতেই হবে। সঞ্জু ওর কেরিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেছে। এর আগে আইপিএলে আমি ওর আরও অনেক ভাল ইনিংস দেখেছি। কিন্তু যে চাপের মধ্যে এই ইনিংস এসেছে সেটা অসাধারণ। কিন্তু বাকিরা তো ব্যর্থ। এক বোলার ও এক ব্যাটার ভারতকে জিতিয়েছে। আমি তো ভুল কিছু বলিনি।”
আমিরের কিছু কথা অবশ্য সত্যি। যেমন, ভারতের ফিল্ডিং খারাপ হয়েছে। সহজ ক্যাচ পড়েছে। ব্যাটিংয়েও অভিষেক শর্মা ফর্মে নেই। সঞ্জু না থাকলে হয়তো সত্যিই ভারত সমস্যায় পড়ত। কিন্তু বড় দলের বিশেষত্বই তো তাই। এক একটি ম্যাচে এক এক জন ম্যাচ জেতান। কোনও ম্যাচে সূর্য, কোনও ম্যাচে বুমরাহ, তো কোনও ম্যাচে সঞ্জু। আসল কথা খেলার ফল। সেটা কিন্তু ভারতেরই পক্ষে।
আরও পড়ুন:
আমিরের এই মন্তব্যের পাল্টা যুক্তিও দিয়েছেন সেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। তিনি বলেন, “আমাদের সাহিবজ়াদা ফারহান তো সবচেয়ে বেশি রান করেছে। দুটো শতরান করেছে। তার পরেও আমরা বিদায় নিয়েছি। ভারত যদি একজনের কাঁধে ম্যাচ জিততে পারে, আমরা কেন পারলাম না। তার মানে আমাদের হাল আরও খারাপ। সেটা তো স্বীকার করেন।” তার জবাবে অবশ্য আমির চুপ থাকেন।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
এর আগে অভিষেককে নিশানা করেছিলেন আমির। তাঁকে ‘স্লগার’ (চোখ বন্ধ করে যিনি ব্যাট চালান) বলে উল্লেখ করেছিলেন। আমির বলেছিলেন, “অভিষেক চায়, প্রতিটা বল ওর পছন্দের জায়গায় পড়ুক। যাতে ও চোখ বন্ধ করে ব্যাট চালাতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বা এক দিনের ক্রিকেটে বোলার তো সব সময় আপনার পছন্দের জায়গায় বল ফেলবে না। অভিষেককে কী ভাবে আউট করতে হবে, সেই রহস্য সকলে জেনে গিয়েছে।” জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচে রান করলেও বাকি সকল ম্যাচে কিন্তু অভিষেকের ব্যাট চুপ থেকেছে। যদি সেমিফাইনালে তিনি রান পান, তা হলে আমিরের মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।