Advertisement
E-Paper

২৫ বছর আগের হারের বদলার সুযোগ রোহিতদের, রবিবার নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে এগিয়ে ভারত

রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি ভারত-নিউ জ়িল্যান্ড। ২৫ বছর আগের হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ভারতের সামনে। ইতিহাস বদলাতে চান রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৫ ০৮:৫৬
cricket

গৌতম গম্ভীর (বাঁ দিকে) ও রোহিত শর্মা। —ফাইল চিত্র।

আইসিসি প্রতিযোগিতায় ভারতের কঠিন প্রতিপক্ষদের নাম করতে হলে উপরের সারিতে থাকবে নিউ জ়িল্যান্ড। রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে সেই নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধেই খেলতে নামবে ভারত। ২৫ বছর আগের হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ভারতের সামনে। ইতিহাস বদলাতে চান রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা।

২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের শতরান যে জয়ের আশা জুগিয়েছিল ভারতীয় সমর্থকদের তাতে জল ঢেলে দেন ক্রিস কেয়ার্নস। নাইরোবির মাঠে একাই নিউ জ়িল্যান্ডকে জিতিয়েছিলেন তিনি। স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল সৌরভদের। ২৫ বছর আগের সেই হারেরই বদলা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে রোহিত, কোহলিদের সামনে।

২০০০ সালের ফাইনালই শেষ নয়। আইসিসি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ভারতকে টেক্কা দিয়েছে নিউ জ়িল্যান্ড। ২০১৯ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। সেই ম্যাচের পরেই অবসর নিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ২০২১ সালে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও হারতে হয়েছিল কোহলির ভারতকে। তাৎপর্যপূর্ণ, নিউ জ়িল্যান্ড যে দু’টি আইসিসি ট্রফি জিতেছে সেই দু’টিই ভারতকে হারিয়ে। রবিবার ভারতকে হারিয়ে তৃতীয় আইসিসি ট্রফি জেতার সুযোগ কেন উইলিয়ামসনদের সামনে।

ভারত ও নিউ জ়িল্যান্ডের মধ্যে আইসিসি ও ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চার বার ফাইনাল খেলা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র এক বার জিতেছে ভারত। ১৯৮৮ সালে শারজায় রবি শাস্ত্রীর ভারত হারিয়েছিল জন রাইটের নিউ জ়িল্যান্ডকে। বাকি সব ক’টিই হারতে হয়েছে। ২০০০ ও ২০১৯ বাদ দিলে ২০০৫ সালে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ়ের ফাইনালেও হেরেছিল ভারত।

এক দিনের বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিলিয়ে মোট ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে দু’দেশ। পাঁচটি করে ম্যাচ জিতেছে ভারত ও নিউ জ়িল্যান্ড। কিন্তু এই তালিকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জুড়ে দিলেই এগিয়ে যাবে নিউ জ়িল্যান্ড। সাদা বলের আইসিসি প্রতিযোগিতায় ১৩ বারের সাক্ষাতে আট বার জিতেছে নিউ জ়িল্যান্ড। ভারত পাঁচ বার। অর্থাৎ, ইতিহাস রয়েছে নিউ জ়িল্যান্ডের দিকে। সেই ইতিহাস বদলানোর সুযোগ রয়েছে ভারতের সামনে।

ইতিহাস নিউ জ়িল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দাপট দেখিয়েছে ভারত। ২০২৩ সালে এক দিনের বিশ্বকাপে ভারত ও নিউ জ়িল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল দু’বার। এক বার গ্রুপ পর্বে। এক বার সেমিফাইনালে। দু’বারই জিতেছে ভারত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গত রবিবারই নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়েছে ভারত। অর্থাৎ, এক দিনের ক্রিকেটে গত তিনটি ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে নিউ জ়িল্যান্ড। এই পরিসংখ্যান আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দু’দল শক্তির বিচারে প্রায় সমান হলেও কিছুটা এগিয়ে ভারত। তার একটা কারণ অভিজ্ঞতা। কোহলি, রোহিত, মহম্মদ শামিদের বেশি কয়েকটি আইসিসি প্রতিযোগিতা খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই তুলনায় নিউ জ়িল্যান্ড দলে সেই সংখ্যাটা কম। উইলিয়ামসন ছাড়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কম। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের তুলনায় রোহিতের বড় ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। ফাইনালের মতো ম্যাচে সেই অভিজ্ঞতা তফাত গড়ে দিতে পারে।

দ্বিতীয় কারণ, অবশ্যই দুবাইয়ের উইকেট। এই মাঠেই গত চারটি ম্যাচ খেলেছে ভারত। অন্য দিকে নিউ জ়িল্যান্ড খেলেছে মাত্র একটি ম্যাচ। সুতরাং, দুবাইয়ের উইকেটে কী ভাবে খেলতে হবে, সেই অভিজ্ঞতা ভারতের বেশি। ভারতীয় দলের চার স্পিনার প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে সমস্যায় ফেলেছে। নিউ জ়িল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ ভাল হলেও ভারতীয় স্পিনারেরা দক্ষতায় এগিয়ে রয়েছেন।

ভারতের এই দল অতীত নিয়ে ভাবে না। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে যাওয়ার আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে কয়েকটি বিজ্ঞাপনে রোহিতেরা বলছেন, নতুন করে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ভুলে যেতে হবে যে তাঁরা আগেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। নতুন করে শুরু করতে চেয়েছেন। সেটাই করেছেন। ভাল খেলেছেন। দাপট দেখিয়েছেন। ফাইনালেও সেটাই করতে চান। সেই কারণেই রবিবার কিছুটা হলেও এগিয়ে নামবে ভারত।

ICC Champions Trophy 2025 India Cricket
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy