ভারতে খেলতে এসে স্পিনের সামনে হিমশিম খাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাডেজা, অক্ষর পটেলদের দাপটে একের পর এক টেস্ট জিতে নিচ্ছেন রোহিত শর্মারা। কিন্তু শুধুই কি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা সমস্যায় পড়ছেন। একই অবস্থা তো ভারতীয় ব্যাটারদেরও। অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের সামনে বার বার আত্মসমর্পণ করছেন রোহিত শর্মারা।
চলতি সিরিজ়ে তিন প্রধান স্পিনার খেলিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অভিজ্ঞ নেথান লায়নের পাশাপাশি তরুণ টড মারফি ও ম্যাথু কুনেম্যান। পরের দু’জনের অভিষেক হয়েছে চলতি সিরিজ়ে। কিন্তু তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে, ১০০ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাতে তাঁদের যত না কৃতিত্ব তার থেকে অনেক বেশি ভারতীয় ব্যাটারদের মানসিকতা। ঘূর্ণির গোলকধাঁধায় ঘুরে মরছেন রোহিত, শ্রেয়সরা। তাই আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে বল করছেন অসি স্পিনাররা।
ভারতীয় ব্যাটাররা কী ভাবে অস্ট্রেলিয়ার তিন স্পিনারের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন তা একটি পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। নাগপুরে প্রথম টেস্টে ভারত একটি ইনিংস খেলেছিল। সেই ইনিংসে ১০ উইকেটের মধ্যে ৮টি উইকেট নিয়েছিলেন স্পিনাররা। দিল্লিতে দ্বিতীয় টেস্টে ভারত দু’ইনিংস মিলিয়ে ১৪ উইকেট হারিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ভারতের ১০ উইকেটের মধ্যে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন অসি স্পিনাররা। দ্বিতীয় ইনিংসের ৪টি মধ্যে ৩টি উইকেট তাঁরা নিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
ইনদওরে তৃতীয় টেস্টেও সেই ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রথম দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই ভারতের ৭ উইকেট পড়ে গিয়েছে। সব ক’টিই স্পিনারদের দখলে। অর্থাৎ, এখনও পর্যন্ত ভারতের যে ৩১টি উইকেট পড়েছে তার মধ্যে স্পিনাররা নিয়েছেন ২৭টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের মধ্যে সব থেকে বেশি উইকেট নিয়েছেন মারফি ও লায়ন। দু’জনেই ১১টি করে উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাঁ হাতি স্পিনার কুনেম্যান নিয়েছেন ৫টি উইকেট।
ভারতীয় ব্যাটারদের স্পিন খেলতে এতটাই সমস্যা হচ্ছে যে দিল্লিতে দ্বিতীয় টেস্ট মাত্র ১ পেসার খেলিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। যে দলের প্রধান শক্তি জোরে বোলিং, সেই দলও ভরসা রাখছে স্পিনারদের উপর। আর সেটা কাজেও লাগছে। পায়ের ব্যবহার করছেন না ভারতীয় ব্যাটাররা। সামনের পায়ের বল পিছনের পায়ে খেলতে যাচ্ছেন। বুঝতে পারছেন না স্পিন। উইকেট দিয়ে আসছেন রোহিতরা। তাঁদের অসহায় ব্যাটিংয়ের ফলে ভারতের মাটিতে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন অসি স্পিনাররা।