অধিনায়কের ইনিংস খেলেছেন সূর্যকুমার যাদব। তিনি না থাকলে হয়তো বিশ্বকাপের শুরুতেই অঘটন ঘটত। তা হতে দেননি সূর্য। তাঁর ৪৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে ভারত ১৬১ রানে পৌঁছেছে। ২৯ রানে আমেরিকাকে হারিয়েছে। ভারতের ইনিংস চলাকালীন কোচ গৌতম গম্ভীরকে দেখা যায় মাঠে নামতে। তিনি গিয়ে সূর্যকে কী নির্দেশ দিয়েছিলেন তা ফাঁস করলেন ভারত অধিনায়ক।
ম্যাচের সেরা হয়ে সূর্য বলেন, “আমি জানতাম এটা ১৮০-১৯০ রানের উইকেট নয়। ১৪০ রানের উইকেট। ১৪ ওভারের পর গৌতি ভাই মাঠে গিয়ে আমাকে বলে, ‘তোকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। তুই থাকলে শেষ দিকে রান হয়ে যাবে।’ গৌতি ভাই আমার উপর ভরসা দেখিয়েছে। সেই ভরসার দাম দিতে পেরেছি।”
ওয়াংখেড়েকে হাতের তালুর মতে চেনেন সূর্য। মুম্বইয়েই খেলে বড় হয়েছেন তিনি। সূর্য দেখিয়েছেন, এই উইকেটে কী ভাবে খেলতে হয়। চেনা উইকেটে খেলার সুবিধার কথা শোনা গেল সূর্যের গলাতেও। তিনি বলেন, “আমি মুম্বইয়ে সারা জীবন খেলেছি। এখানকার আজাদ ময়দান, ক্রস ময়দানে অনেক ম্যাচ খেলেছি। আমি জানি, এখানকার উইকেটে কী ভাবে খেলতে হবে। কী ভাবে মানিয়ে নিতে হবে। ৭৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। আমি জানতাম শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। আমি শুধু বল গুণছিলাম। যতটা পেরেছি বেশি বল খেলার চেষ্টা করেছি।”
তবে ওয়াংখেড়েতে যে এ রকম উইকেট থাকবে, তা তিনিও আশা করেননি। সূর্য বলেন, “ওয়াংখেড়েতে যে রকম উইকেট থাকে, এটা সে রকম ছিল না। তবে মাঠকর্মীদেরও কিছু করার ছিল না। গত দু’দিন রোদ খুব বেশি ছিল। ওরা যতটা সম্ভব পিচের আর্দ্রতা রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পিচ একটু বেশি শুকিয়ে গিয়েছিল। তা বল পড়ে থমকে আসছিল।”
আরও পড়ুন:
দলের ব্যাটিং খুশি করেনি সূর্যকে। এই ধরনের উইকেটে তাঁদের আরও একটু দায়িত্ব নিয়ে খেলা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। অধিনায়ক বলেন, “পিচের দোষ দিলে হবে না। আমাদের আরও একটু ভাল খেলতে হত। বুদ্ধি করে খেলতে হত। যদি আরও এক জন ব্যাটার থাকত, তা হলে আরও বেশি রান করতে পারতাম। ম্যাচ জিতলেও শিক্ষা পাওয়া যায়। এই ম্যাচ থেকে আমরা শিখেছি, আরও একটু দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।”
গত বছর একদম ফর্মে ছিলেন না সূর্য। একটিও অর্ধশতরান করতে পারেননি। এই বছর বিশ্বকাপের আগে নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ে ফর্মে ফিরেছেন সূর্য। সেই ফর্ম বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে। দলকে জিতিয়ে সূর্য বলেন, “আমি গত বছর এটাই চেষ্টা করছিলাম। গোটা ইনিংসকে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু হচ্ছিল না। তাই মাঝে কিছুটা সময় কিটব্যাগ তুলে রেখে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। তা কাজে দিয়েছে।”