বিশ্বকাপ জেতার জন্য অভিনন্দন জানাতে ‘ধন্যবাদ’ বললেন। সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য প্রশ্ন শুরু করার আগে অভিজ্ঞান কুন্ডু নিজেই একটা প্রশ্ন করে ফেললেন। তারপর একটু আঁতকে উঠে বিস্মিত হয়ে গেলেন।
কী প্রশ্ন করলেন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অভিজ্ঞান? কেনই বা আঁতকে উঠলেন বিশ্বকাপ এবং ফাইনালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করা ক্রিকেটার? দেশে ফেরার তোড়জোড়ের মাঝেই আনন্দবাজার ডট কম-কে হারারে থেকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারের শুরুতেই রয়েছে এর জবাব।
অভিজ্ঞান: ভারতের ম্যাচ তো শুরু হয়ে গিয়েছে। স্কোর কী বলতে পারবেন?
আনন্দবাজার ডট কম: ভারত ৬ উইকেটে ৯২। ১৫ ওভার চলছে।
অভিজ্ঞান: অ্যাঁ, সে কী!
প্রশ্ন: খেলা দেখছেন না?
অভিজ্ঞান: এখন ট্রাভেল করতে হচ্ছে। তাই আমরা কেউই খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছি না। কাল তো ফিরছি আমরা।
প্রশ্ন: কখন নামবেন দেশে?
অভিজ্ঞান: দুপুর দু’টোয় নামার কথা। চিন্তা নেই। ভারত জিতে যাবে।
প্রশ্ন: বলছেন?
অভিজ্ঞান: হ্যাঁ হ্যাঁ।
প্রশ্ন: আপনারা কাল জেতার পর কী করলেন?
অভিজ্ঞান: তেমন কিছু নয়। ড্রেসিংরুমে একটু নাচ-গান, হইহুল্লোড় হয়েছে। তারপর হোটেলে ফিরে নাচ-গান হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।
প্রশ্ন: ঘুমোলেন কখন?
অভিজ্ঞান: সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে রাত ১১টায় ঘুমোতে গিয়েছি।
প্রশ্ন: বিশ্বজয়ের রাতে ১১টার মধ্যে সবাই যে যার ঘরে?
অভিজ্ঞান: স্যরের (ভারতীয় দলের কোচ হৃষিকেশ কানিতকর) কড়া নির্দেশ ছিল সবাই যেন তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ি।
প্রশ্ন: আপনার রুমমেট কে?
অভিজ্ঞান: বৈভব (সূর্যবংশী)।
প্রশ্ন: মাঠে যা দেখা যায়, বৈভব খুব চুপচাপ। সত্যিই তাই?
অভিজ্ঞান: হ্যাঁ, ও আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চুপচাপ। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব মজা করে। ড্রেসিংরুমে তো আমাদের সঙ্গে নাচল। ও ওরকম নাচতে পারে, জানতাম না। আমি তো দেখে থ। প্রথমে পঞ্জাবী গান হচ্ছিল। ওর কথায় ভোজপুরী গান চালাতে হল। শুনলাম নাচের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন: দেশে ফিরে পরিকল্পনা কী?
অভিজ্ঞান: রবিবার ফিরব। মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা। মাঝে একটা দিন হাতে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে অভিজ্ঞান। —ফাইল চিত্র
প্রশ্ন: আপনি তো পড়াশোনায় বেশ ভাল। চিন্তা কীসের?
অভিজ্ঞান: পড়তে তো হবে। গত দেড়-দু’বছরে একেবারেই সময় পাইনি। খেলার জন্য ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে মাঝে একটা মাস একটু সময় পেয়েছিলাম। তখন প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। আমি এখানেও বই নিয়ে এসেছি। ম্যাচ আর প্র্যাকটিসের মাঝে সুযোগ পেলেই পড়াশোনা করেছি। এখন সোমবারটা হাতে আছে। এক দিনে সব ঝালিয়ে নিতে হবে। তাই ওটা ছাড়া আর কোনও পরিকল্পনা নেই।
প্রশ্ন: কোনটা বেশি কঠিন? বিশ্বকাপের ফাইনাল, না ক্লাস টুয়েলভের ফাইনাল?
অভিজ্ঞান: এখন তে বলব পরেরটা। সারা বছর খেলার মধ্যে থাকি। ওটা সহজাত হয়ে গিয়েছে। পড়াশোনাটা ঠিক উল্টো।
প্রশ্ন: পরীক্ষা শেষ কবে?
অভিজ্ঞান: মার্চের মাঝামাঝি।
প্রশ্ন: তারপর আবার খেলা?
অভিজ্ঞান: আমাদের কোথায় খেলতে হবে এখনও জানি না। তবে পুরোদমে প্র্যাকটিস তো শুরু হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: আপনার বাবা এবং কোচ লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন আপনাকে টেস্ট খেলতে হবে।
অভিজ্ঞান: হ্যাঁ ওটাই আমার স্বপ্ন।
প্রশ্ন: ক’বছরের মধ্যে ভারতের টেস্ট দলে নিজেকে দেখতে চান?
অভিজ্ঞান: আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে।
প্রশ্ন: এই তিন-চার বছরে সামনে কাদের প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখছেন?
অভিজ্ঞান: আমার ফোকাস একটাই, রান করে যেতে হবে। সেটা করতে পারলেই হবে। রোজ তো সকলের সমান যায় না। রোজ রান করা সম্ভব নয়। ব্যর্থতা থেকে শিখতে হবে। স্যরেরা বলেছেন, নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে পারলেই হবে।