ভারতীয় ক্রিকেট দল জয়ে ফিরতেই সমালোচকদের জবাব দিলেন গৌতম গম্ভীর। আর সেটা করতে গিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ। তার একাধিক অর্থ রয়েছে। অনেক কিছুই বোঝাতে চেয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ।
গম্ভীরের পোস্ট
বুধবার নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর রাত ১১:৪৬ মিনিটে গম্ভীর এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন। লেখেন, ‘‘ধুলো ঝাড়া হয়ে গেলে আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসবে। অনেকে ভাবেন, কোচের অসীম ক্ষমতা। কিন্তু সেটা সত্যিই কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটা পরিষ্কার হবে। আমার নিজের প্রিয় লোক, যারা সেরার সেরা, তাদের বিরুদ্ধেই আমি— এরকম একটা দেখানোর চেষ্টা চলছে। আপাতত সেটা দেখে আনন্দিত হই।’’
কেন পোস্ট করলেন গম্ভীর
কংগ্রেস সাংসদ শশী তরুরের একটি পোস্টের জবাবে গম্ভীর এই মন্তব্য করেন। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগের দিন তরুর লিখেছিলেন, “নাগপুরে আমার পুরনো বন্ধু গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে একটি সুন্দর ও খোলামেলা আলোচনা উপভোগ করলাম। প্রধানমন্ত্রীর পর ভারতে সবচেয়ে কঠিন কাজটির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি! প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁকে নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলছে। কিন্তু তিনি শান্ত থেকে নির্ভীক ভাবে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর শান্ত সঙ্কল্প এবং দক্ষ নেতৃত্বের জন্য প্রশংসাসূচক কিছু শব্দ। তাঁর সাফল্য কামনা করি।”
তরুরকে জবাব দিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পোস্ট করেন গম্ভীর।
গম্ভীরের মন্তব্যের তাৎপর্য
কেউ কেউ বলছেন, আসলে জাতীয় নির্বাচক কমিটিকেই একহাত নিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর হাতে ‘সত্যিই অসীম ক্ষমতা নেই’ বলে গম্ভীর বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি পছন্দের দল পান না, অজিত আগরকরের নির্বাচক কমিটিই যা করার করে। বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি যাঁদের নিতে চান, তাঁদের দলে নেওয়া হয় না। যাঁদের বাদ দিতে চান, তাঁদের দলে রেখে দেন আগরকরেরা।
অনেকের মতে, গম্ভীরের এই মন্তব্য আসলে রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির এখনও এক দিনের দলে থাকার বিরুদ্ধেই যায়। তিনি যে রোহিত-কোহলিকে দলে চান না, তা সকলেরই জানা। বলতে চেয়েছেন, তাঁর হাতে অসীম ক্ষমতা থাকলে তিনি হয়তো এত দিনে রোহিত-কোহলিকে পাকাপাকি অবসরে পাঠিয়ে দিতেন।
‘ধুলো ঝাড়া হয়ে গেলে’ লিখে গম্ভীর হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন, রোহিত-কোহলিরা পাকাপাকি ভাবে খেলা ছাড়লে, বা এই নির্বাচক কমিটির মেয়াদ শেষ হলে তিনি সব ফাঁস করবেন।