টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন। অথচ নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ের পর ভাবতেই পারেননি জীবনে এমন দিন আসতে পারে। সঞ্জু স্যামসন জানালেন, কোলাহল থেকে দূরে থাকতে এক মাস ফোন বন্ধ রেখেছিলেন। ব্যাটিংয়ের ধরন বদলাতেই সাফল্য পেয়েছেন। সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে কী কথোপকথন হয়েছিল তা-ও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখ থেকে। এ দিকে, গৌতম গম্ভীর জানিয়েছেন, তাঁর ক্রিকেটজীবন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েছিল।
সোমবার তিরুঅনন্তপুরমে ফিরেছেন সঞ্জু। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি। হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন বিমানবন্দরের বাইরে। ‘সঞ্জু, সঞ্জু’ চিৎকারে তাঁরা ভরিয়ে দেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জু বলেন, “সমাজমাধ্যম কী ভাবে ব্যবহার করতে হবে তা সকলের জানা উচিত। সমাজমাধ্যম থেকেই জানতে পারি লোকে আমায় কতটা ভালবাসে। তবে ব্যর্থ হলে বুঝে নিতে হবে কী আসতে চলেছে। আমি ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলাম যাতে বাইরের আওয়াজ না শোনা যায়। দেশে বিশ্বকাপ হলে বাইরে থেকে প্রচুর আওয়াজ শোনা যাবে। তাই ফোন বন্ধ রেখে ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়েছি।”
ম্যাচের পর গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ২০১১-র বিশ্বকাপজয়ী দলের যুবরাজ সিংহের সঙ্গে সঞ্জুর তুলনা করা চলে কি না? গম্ভীর বলেন, “দু’জনের তুলনা করা উচিত নয়। যে ফর্মে সঞ্জু ছিল সেখান থেকে ফিরে এসে টানা তিনটে ম্যাচে ও রকম খেলা কল্পনা করা যায় না। কতটা চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং সাহস থাকলে ও রকম খেলা যায়, বিশেষ করে যখন আপনি জানেন ক্রিকেটজীবন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ের পরেই ব্যাটিংয়ের দর্শন বদলে ফেলেছিলেন সঞ্জু। বলেছেন, “আগে প্রতিটা বলে মারতে যেতাম। সেটা কাজে লাগেনি। ব্যর্থতা থেকে শিখেছি। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে স্ট্রাইক রেট বাড়াতে চেয়েছিলাম। সেটাও পারিনি। তাই পরেই নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন পাল্টে ফেলি।” যদি সেই কৌশল ফাঁস করেননি সঞ্জু।
আরও পড়ুন:
রবিবার সিরিজ় সেরার পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময়েই সচিনের উপদেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন সঞ্জু। এ দিন সে প্রসঙ্গে বলেন, “গত কয়েক বছর ধরেই ওঁর সঙ্গে মেসেজে কথা হয়। আইপিএলে সামনাসামনি কথাও হয়েছে। এ বার ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পর উনি খুব সাহায্য করেন। ২৫ মিনিট ধরে বোঝান যে ওঁর ক্রিকেটজীবনে কী হয়েছে, কঠিন মুহূর্ত কী ভাবে সামলাতে হবে, কী ভাবে অনুশীলন করে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হবে। এই উপদেশ প্রচণ্ড সাহায্য করেছে।”
সঞ্জুর সংযোজন, “বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিনও উনি যোগাযোগ করে জিজ্ঞাসা করেন আমি তৈরি কি না। এটা সবাই পায় না। আমি খুব খুশি ওঁর পরামর্শ পেয়ে।”