পরের বছর আইপিএলে বিরাট কোহলির দল আরসিবি-র ম্যাচ হবে বেঙ্গালুরুতেই। জানিয়ে দিলেন কর্নাটকের উপ মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তাঁর দাবি, সুষ্ঠ ভাবে এবং নিরাপদে ম্যাচ আয়োজন করা নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি বেঙ্গালুরুতে বিকল্প একটি স্টেডিয়াম গড়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
রবিবার কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থায় ভোট দেওয়ার পর শিবকুমার বলেন, “কর্নাটক, বিশেষ করে বেঙ্গালুরুতে আগামী দিনে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে চাই আমরা। ভবিষ্যতে কেএসসিএ স্টেডিয়ামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এমন ভাবে আয়োজন করতে চাই, যা বেঙ্গালুরুকে গর্বিত করে তুলবে। সেই অনুষ্ঠান ঠিকঠাক ভাবে, আইন মেনে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের দিকে বাড়তি মনোযোগ দিয়ে আয়োজন করতে চাই।”
শিবকুমার আরও বলেন, “আমরা আইপিএল অন্য কোনও রাজ্যে সরে যেতে দেব না। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেই ম্যাচ হবে। এই প্রতিযোগিতা কর্নাটক এবং বেঙ্গালুরুর গর্ব। আমরা সেটা ধরে রাখতে মরিয়া।”
ভবিষ্যতে বেঙ্গালুরুতে বিকল্প একটি স্টেডিয়াম তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন শিবকুমার। সেখানে নিরাপত্তার দিকে বাড়তি খেয়াল রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শিবকুমারের কথায়, “আমরা বিকল্প স্টেডিয়াম তৈরি করতে চাই, যেটা আরও বড় হবে। গত বছর যে ঘটনা ঘটেছে এবং তার পর যা যা হয়েছে, তাতে আইপিএলে অন্যত্র সরে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এখন থেকে কোনও আইপিএলের ম্যাচ সরবে না। ওই স্টেডিয়ামেই আইপিএল করব। যা দরকার হয় তাই করব।”
সম্প্রতি কর্নাটক সরকার নির্দেশ দিয়েছে, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন করতে হলে পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামোগত ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে স্টেডিয়ামকে। কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে এই নির্দেশ পাঠিয়েছে বেঙ্গালুরুর পূর্ত দফতর। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা পরীক্ষার অবশ্যই ‘ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিজ়’-এর বিশেষজ্ঞদের অধীনে হতে হবে। তাঁরাই কঠিন মাপকাঠি দিয়ে যাচাই করে নেবেন আদৌ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম ম্যাচ আয়োজনের উপযুক্ত কি না।
পূর্ত দফতরের ১৭ একর জমির উপর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে। রাজ্য সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষজ্ঞেরা ছাড়পত্র দিলেই তবেই সেখানে ম্যাচ আয়োজন করা যাবে।
আরও পড়ুন:
গত বছর আইপিএল জয়ের পর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সমর্থকদের সঙ্গে উৎসবের আয়োজন করেছিল আরসিবি। মাঠে ঢুকতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিলেন ১১ জন। তার পর থেকেই সেই স্টেডিয়ামে খেলা বন্ধ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো বটেই, ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচও হচ্ছে না। জুলাইয়ে স্বাধীন কমিশনের বিচারপতি জন মাইকেল ডি’কুনহা জানিয়েছিলেন, বড় মাপের অনুষ্ঠান বা ম্যাচ আয়োজন করার ক্ষমতা নেই ওই স্টেডিয়ামের। জন নিরাপত্তার পক্ষে সেটি বিপজ্জনক।